গত অক্টোবর মাসে দুই দেশের সীমান্তে সপ্তাহব্যাপী চলা ভয়াবহ সংঘর্ষে কয়েক ডজন সৈন্য ও বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়। ২০২১ সালে তালেবান কাবুলে ক্ষমতা দখলের পর এটিই ছিল দুই প্রতিবেশীর মধ্যে সবচেয়ে মারাত্মক সংঘাত। গত ৯ অক্টোবর কাবুলে ভয়াবহ বিস্ফোরণের পর এই সহিংসতার সূত্রপাত হয়।
আফগানিস্তানের তালেবান সরকার ওই হামলার জন্য পাকিস্তানকে দায়ী করে এবং প্রতিশোধ নেওয়ার হুমকি দেয়। পরবর্তীতে, ১৯ অক্টোবর কাতারের সফল মধ্যস্থতায় একটি যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়, যা এখনও পর্যন্ত নড়বড়েভাবে টিকে আছে। এই অচলাবস্থার মধ্যে, তুরস্ক ও কাতারের মধ্যস্থতায় ইস্তাম্বুলে দুই দিনের এই আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। তালেবান সরকারের মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার জন্য সরাসরি পাকিস্তানি প্রতিনিধিদলকে দায়ী করেছেন।
সামাজিক মাধ্যম এক্সে (পূর্বতন টুইটার) দেওয়া এক বার্তায় তিনি বলেন, "ইসলামিক এমিরেটের সদিচ্ছা এবং মধ্যস্থতাকারীদের আন্তরিক প্রচেষ্টা সত্ত্বেও, পাকিস্তানি প্রতিনিধিদলের দায়িত্বজ্ঞানহীন ও অসহযোগিতামূলক মনোভাবের ফলে কোনো ফলাফল আসেনি।" তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন যে, আফগানিস্তান কাউকে তার ভূখণ্ড অন্য দেশের বিরুদ্ধে ব্যবহার করার অনুমতি দেবে না।
অন্যদিকে, পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ শুক্রবার গভীর রাতে দেশটির বেসরকারি জিও নিউজ চ্যানেলকে জানান যে, "আলোচনা শেষ" এবং পাকিস্তানি প্রতিনিধিদল দেশে ফিরে আসছে। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, "ভবিষ্যৎ বৈঠকের কোনো পরিকল্পনা নেই।" খাজা আসিফ অভিযোগ করেন, আফগান প্রতিনিধিদল "কোনো সুনির্দিষ্ট কর্মসূচি ছাড়াই" আলোচনায় অংশ নিয়েছিল এবং তারা কোনো লিখিত চুক্তিতে স্বাক্ষর করতে অস্বীকার করে কেবল মৌখিক আশ্বাসের ওপর জোর দিচ্ছিল। তিনি বলেন, "মৌখিক চুক্তির কোনো অবকাশ নেই।"
পাকিস্তানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, যুদ্ধবিরতি ততক্ষণ পর্যন্ত বলবৎ থাকবে যতক্ষণ না "আফগান পক্ষ থেকে এটি লঙ্ঘন করা হয়।" পাকিস্তান দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ করে আসছে যে, আফগানিস্তানের তালেবান শাসকরা পাকিস্তানবিরোধী জঙ্গি গোষ্ঠী তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তান (টিটিপি)-কে আশ্রয়-প্রশ্রয় দিচ্ছে। কাবুল বরাবরই এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
আলোচনা চলাকালেই সীমান্তে নতুন করে সংঘর্ষের খবর পাওয়া যায়, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে। এদিকে, গত ১২ অক্টোবর থেকে পাকিস্তান আফগানিস্তানের সাথে তোরখামসহ সকল প্রধান সীমান্ত পারাপার বন্ধ করে রেখেছে। এর ফলে দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়ার সংযোগকারী এই গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য পথটি কার্যত অচল হয়ে পড়েছে এবং উভয় পাশে শত শত পণ্যবাহী ট্রাক আটকা পড়ায় মানবিক ও অর্থনৈতিক সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে।