উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা (কেসিএনএ) কর্তৃক প্রকাশিত এক বিবৃতিতে দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী নো কোয়াং চোল এই কড়া প্রতিক্রিয়া জানান। তিনি বলেন, সিউলে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকের মাধ্যমে পিয়ংইয়ংয়ের প্রতি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শত্রুতা "সঠিকভাবেই বুঝতে পেরেছে" উত্তর কোরিয়া। তিনি উল্লেখ করেন, "আমরা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বৈরিতাকে সঠিকভাবে অনুধাবন করেছি, এবং এর প্রতিক্রিয়ায় আমরা কখনোই পিছপা হবো না।"
প্রতিরক্ষামন্ত্রী নো কোয়াং চোল ওয়াশিংটনের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ডেরও তীব্র নিন্দা জানান। তিনি সিউলের সাথে সর্বশেষ যৌথ বিমান মহড়া এবং পারমাণবিক শক্তিচালিত মার্কিন বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস জর্জ ওয়াশিংটনের দক্ষিণ কোরিয়া সফরের কথা উল্লেখ করেন। তিনি অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্র "উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে" কোরীয় উপদ্বীপে রাজনৈতিক ও সামরিক উত্তেজনা বৃদ্ধি করছে।
বিবৃতিতে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, "উত্তর কোরিয়ার নিরাপত্তার পরিধি লঙ্ঘনকারী সমস্ত হুমকি" এখন "সরাসরি লক্ষ্যবস্তুতে" পরিণত হবে এবং "প্রয়োজনীয় উপায়ে তা মোকাবিলা করা হবে।" তিনি আরও যোগ করেন, "শক্তিশালী সামর্থ্যের জোরে নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং শান্তি রক্ষার নীতিতে আমরা শত্রুদের হুমকির বিরুদ্ধে আরও আক্রমণাত্মক পদক্ষেপ প্রদর্শন করবো।"
প্রতিরক্ষামন্ত্রীর এই কড়া বিবৃতি এমন এক সময়ে এলো, যার মাত্র একদিন আগেই (শুক্রবার) উত্তর কোরিয়া পূর্ব সাগরের (জাপান সাগর) দিকে একটি স্বল্প-পাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। যদিও দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম এই উৎক্ষেপণের বিষয়ে কোনো প্রতিবেদন প্রকাশ করেনি। পিয়ংইয়ংয়ের ওপর নতুন করে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা আরোপের প্রতিক্রিয়ায় 'উপযুক্ত' ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকির পরই এই ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়।
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে উত্তর কোরিয়া সিউল ও ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে আলোচনার প্রস্তাবে সাড়া না দিয়ে পুনরায় ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ শুরু করেছে। উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার (৪ নভেম্বর) সিউলে ৫৭তম নিরাপত্তা পরামর্শমূলক সভায় (এসসিএম) দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী আন গিউ-ব্যাক এবং মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ জোটের প্রধান প্রতিরক্ষা বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করেন।