শনিবার, ডিসেম্বর ১৩, ২০২৫
২৯ অগ্রহায়ণ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

জাপানে মন্ত্রীপরিষদের বেতন কর্তন, সংস্কারের পথে হাঁটছেন প্রধানমন্ত্রী তাকাইচি

আর এন এস আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৯ নভেম্বর, ২০২৫, ০৬:১৮ এএম

জাপানে মন্ত্রীপরিষদের বেতন কর্তন, সংস্কারের পথে হাঁটছেন প্রধানমন্ত্রী তাকাইচি
ছবি: AFP

জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানাই তাকাইচি নিজের এবং তাঁর মন্ত্রিসভার সদস্যদের বেতন হ্রাস করার এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করতে চলেছেন। এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে, দেশটির চলমান বিশেষ সংসদ অধিবেশনেই 'সরকারি কর্মচারী পারিশ্রমিক আইন' সংশোধনের পরিকল্পনা করা হয়েছে। এই পদক্ষেপকে সরকারের সংস্কার কর্মসূচির প্রতি প্রধানমন্ত্রীর দৃঢ় অঙ্গীকারের প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে।

 

সরকারি সূত্র মতে, এই সিদ্ধান্তটি কার্যকর করার লক্ষ্যে আগামী মঙ্গলবার নাগাদ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীদের নিয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। উক্ত বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার সদস্যদের জন্য বরাদ্দকৃত অতিরিক্ত ভাতা স্থগিত করার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গৃহীত হবে।

 

জাপানের বর্তমান কাঠামোতে, সংসদ সদস্যরা তাদের নিয়মিত বেতনের পাশাপাশি মন্ত্রীর দায়িত্ব পালনের জন্য এই অতিরিক্ত ভাতা পেয়ে থাকেন। প্রস্তাবিত সংশোধনীতে এই দ্বৈত সুবিধার ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হবে। বিশ্লেষকদের মতে, প্রধানমন্ত্রী তাকাইচির এই বেতন হ্রাসের পরিকল্পনা তাঁর দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতিরই বাস্তবায়ন।

 

তিনি পূর্ব থেকেই মন্ত্রিসভার সদস্যদের পারিশ্রমিক হ্রাস এবং প্রশাসনিক সংস্কারের পক্ষে সোচ্চার ছিলেন। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে তিনি সংস্কারের প্রতি তাঁর সরকারের আন্তরিকতা ও সদিচ্ছার একটি স্পষ্ট বার্তা দেশবাসীকে দিতে চাইছেন। বিশেষত, যখন দেশটি অর্থনৈতিক সংস্কারের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, তখন সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকে এই ধরনের মিতব্যয়িতা একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে।

 

এই সিদ্ধান্তের পেছনে রাজনৈতিক জোটের সমীকরণও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। প্রধানমন্ত্রী তাকাইচির দল লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) নেতৃত্বাধীন জোটে নতুন অংশীদার হিসেবে যোগ দিয়েছে 'জাপান ইনোভেশন পার্টি' (নিপ্পন ইশিন নো কাই)। এই দলটি দীর্ঘদিন ধরেই সংসদ সদস্যদের প্রাপ্ত বিশেষ সুযোগ-সুবিধা হ্রাস করার দাবিতে জোরালো অবস্থান ব্যক্ত করে আসছে।

 

নতুন জোট সঙ্গীর এই সংস্কারমূলক এজেন্ডার প্রতি সম্মান জানিয়েই প্রধানমন্ত্রী এই বেতন কর্তনের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই পদক্ষেপটি জোট সরকারের অভ্যন্তরীণ বোঝাপড়াকে আরও সুদৃঢ় করবে এবং একইসাথে জাপানের আইনপ্রণেতাদের বিশেষ সুবিধা সংক্রান্ত বিতর্কের অবসান ঘটাতেও সহায়ক হতে পারে।

 

- Japan Times