বৈঠকে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র সচিব গোবিন্দ মোহন, গোয়েন্দা ব্যুরোর (আইবি) পরিচালক তপন ডেকা, জাতীয় তদন্ত সংস্থার (এনআইএ) মহাপরিচালক সদানন্দ বসন্ত দাতে এবং দিল্লি পুলিশের কমিশনার সতীশ গোলচা সহ দেশের শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। জম্মু ও কাশ্মীরের পুলিশ মহাপরিচালক (ডিজিপি) নলিন প্রভাত ভার্চুয়াল মাধ্যমে বৈঠকে যোগ দেন।
বৈঠকের মূল আলোচ্য বিষয় ছিল সোমবার সন্ধ্যায় লালকেল্লা মেট্রো স্টেশনের কাছে ঘটা বিস্ফোরণের তদন্তের অগ্রগতি। সূত্র জানিয়েছে, এই বিস্ফোরণের সাথে সম্প্রতি হরিয়ানার ফরিদাবাদে বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক উদ্ধারের ঘটনার সম্ভাব্য যোগসূত্র নিয়ে বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
বিস্ফোরণের পরপরই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ একটি বহু-প্রাতিষ্ঠানিক তদন্তের নির্দেশ দিয়েছিলেন। এই তদন্তে এনআইএ, ন্যাশনাল সিকিউরিটি গার্ড (এনএসজি), ফরেনসিক সায়েন্স ল্যাবরেটরি (এফএসএল) এবং দিল্লি পুলিশকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যাতে বিস্ফোরণের কারণ, ব্যবহৃত বিস্ফোরকের প্রকৃতি এবং এর উৎস দ্রুত শনাক্ত করা যায়। এরই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার সকালে এনআইএ এবং এফএসএল-এর একটি যৌথ দল পুনরায় ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে অতিরিক্ত ফরেনসিক প্রমাণ সংগ্রহ করে।
উল্লেখ্য, সোমবার জম্মু ও কাশ্মীর পুলিশ এবং হরিয়ানা পুলিশের এক সমন্বিত অভিযানে ফরিদাবাদের একটি অ্যাপার্টমেন্ট থেকে ৩৬০ কেজি সন্দেহভাজন অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট এবং আইইডি তৈরির বিপুল পরিমাণ সরঞ্জাম (প্রায় ২,৯০০ কেজি রাসায়নিক, ডিটোনেটর ও তার) উদ্ধার করা হয়।
বৈঠকে উপস্থিত কর্মকর্তারা মনে করছেন, দিল্লির বিস্ফোরণ এবং ফরিদাবাদের বিস্ফোরক উদ্ধারের ঘটনাটি আন্তঃরাজ্য পর্যায়ে সক্রিয় কোনো বৃহত্তর সন্ত্রাসবাদী নেটওয়ার্কের অংশ হতে পারে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এই যোগসূত্রকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করার নির্দেশ দিয়েছেন, যাতে সম্পূর্ণ ষড়যন্ত্রটি উন্মোচন করা যায় এবং এর সাথে জড়িত সকলকে দ্রুত আইনের আওতায় আনা সম্ভব হয়।