দিল্লি পুলিশ জানিয়েছে, সোমবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৭টার ঠিক আগে এই বিস্ফোরণটি ঘটে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ জানান, প্রাথমিক তথ্যানুসারে, একটি ট্র্যাফিক সিগন্যালে দাঁড়িয়ে থাকা হুন্ডাই আই২০ গাড়ি থেকে বিস্ফোরণটির সূত্রপাত হয়। বিস্ফোরণের তীব্রতা এতটাই ছিল যে, আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং কাছাকাছি থাকা আরও কয়েকটি গাড়ি ও রিকশা ভস্মীভূত হয়ে যায়।
এই ঘটনার পর থেকেই ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা বিস্ফোরণের প্রকৃত কারণ উদঘাটনে কাজ করে যাচ্ছেন। এদিকে, পুলিশ কর্মকর্তারা মামলার সংবেদনশীলতার কারণে নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, এই ঘটনায় বেআইনি কার্যকলাপ (প্রতিরোধ) আইন বা ইউএপিএ (UAPA)-এর অধীনে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এটি ভারতের প্রধান সন্ত্রাস দমন আইন, যা তদন্তকারী সংস্থাগুলোকে সন্দেহভাজনদের আটক করার ক্ষেত্রে বৃহত্তর ক্ষমতা প্রদান করে।
মঙ্গলবার ভুটানে এক পূর্বনির্ধারিত সফরে থাকা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এই হামলার বিষয়ে কঠোর বার্তা দিয়েছেন। তিনি বলেন, তদন্তকারীরা "এই ষড়যন্ত্রের মূল পর্যন্ত পৌঁছাবেন।" মোদি আরও যোগ করেন, "ষড়যন্ত্রকারীদের রেহাই দেওয়া হবে না এবং দায়ী সকলকে বিচারের আওতায় আনা হবে।"
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ মঙ্গলবার সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তিনি বলেন, "সকল দিক" খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং নিরাপত্তা সংস্থাগুলো দ্রুতই একটি সিদ্ধান্তে পৌঁছাবে। শাহ আরও জানান, এলাকার ক্যামেরা ফুটেজ এই তদন্তের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হবে। "আমরা সমস্ত সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছি এবং একটি পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত পরিচালনা করবো," তিনি বলেন। এই বিস্ফোরণের পর নয়াদিল্লির আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, সকল মেট্রো স্টেশন এবং সরকারি ভবনগুলোতে উচ্চ নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
সপ্তদশ শতকের লালকেল্লা ভারতের অন্যতম প্রধান পর্যটন আকর্ষণ এবং একটি উচ্চ-নিরাপত্তা বেষ্টিত এলাকা। এটি সংসদ ভবন থেকে মাত্র ছয় কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এবং প্রতি বছর ১৫ই আগস্ট ভারতের প্রধানমন্ত্রী এখান থেকেই জাতির উদ্দেশে স্বাধীনতা দিবসের ভাষণ দেন। এই ঐতিহাসিক ও জনবহুল এলাকাটিতে এমন বিস্ফোরণের ঘটনা তদন্তকারী সংস্থাগুলো সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখছে।