পাকিস্তান পিপলস পার্টির (পিপিপি) নেতা ফয়সাল রাঠোর সোমবার আইনসভায় অনাস্থা ভোটের মাধ্যমে চৌধুরী আনোয়ারুল হককে অপসারিত করে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন। এর ঠিক একদিন পরেই শাহবাজ শরিফ তাঁকে ফোন করে শুভেচ্ছা জানান এবং কেন্দ্রের পক্ষ থেকে পূর্ণ সমর্থনের বার্তা দেন। সরকারি সম্প্রচার মাধ্যম পিটিভি নিউজের বরাতে জানা যায়, আলাপকালে প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ নতুন প্রধানমন্ত্রীর সফল মেয়াদের জন্য শুভকামনা প্রকাশ করেন।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, আজাদ কাশ্মীরের জনগণের কল্যাণ, অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কেন্দ্রীয় সরকার সর্বদা সচেষ্ট থাকবে। শাহবাজ শরিফ ফয়সাল রাঠোরকে প্রতিশ্রুতি দেন যে, ফেডারেল সরকার এজেকে প্রশাসনের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করবে এবং উন্নয়নের স্বার্থে সব ধরনের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদান করবে।
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বিবেচনায় ফয়সাল রাঠোর গত চার বছরের মধ্যে আজাদ কাশ্মীরের চতুর্থ প্রধানমন্ত্রী এবং ১৯৭৫ সালে ওই অঞ্চলে সংসদীয় সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তনের পর থেকে ১৬তম সরকারপ্রধান। সোমবার অনুষ্ঠিত নাটকীয় অনাস্থা ভোটে তিনি পিপিপি এবং পাকিস্তান মুসলিম লিগ-নওয়াজ (পিএমএল-এন) সদস্যদের কাছ থেকে মোট ৩৬টি ভোট পান।
অন্যদিকে, পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) দুইজন সদস্য এই প্রস্তাবের বিরোধিতা করেছিলেন। আজাদ কাশ্মীরের সংবিধান অনুযায়ী, বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব পাস হওয়া মানেই সেই প্রস্তাবে নাম থাকা উত্তরসূরির পক্ষে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সমর্থন নিশ্চিত হওয়া।
মুজাফফরাবাদের প্রেসিডেন্ট হাউসে আজ মঙ্গলবার নতুন প্রধানমন্ত্রীর শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান হওয়ার কথা রয়েছে। প্রাথমিকভাবে প্রেসিডেন্ট ব্যারিস্টার সুলতান মাহমুদ চৌধুরীর শপথ বাক্য পাঠ করানোর কথা থাকলেও, সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী তিনি অসুস্থতার কারণে রাজধানী মুজাফফরাবাদে ভ্রমণ করতে পারছেন না।
তাঁর অনুপস্থিতিতে বিধানসভার স্পিকার চৌধুরী লতিফ আকবর এই সাংবিধানিক দায়িত্ব পালন করতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। নির্বাচিত হওয়ার পরপরই ৪৭ বছর বয়সী প্রধানমন্ত্রী রাঠোর প্রশাসনের দক্ষতা বাড়াতে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সংস্কারের ঘোষণা দিয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছে সরকারি ব্যয় সংকোচন বা ডাউনসাইজিং প্রক্রিয়া, সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য নতুন পরিবহন নীতি প্রণয়ন এবং সচিবের সংখ্যা ২০-এর মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা।
এছাড়াও তিনি নিম্ন আয়ের কর্মচারীদের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি ও সাধারণ মানুষের সমস্যা সমাধানে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কাজ করার অঙ্গীকার করেছেন। শাহবাজ শরিফের এই ফোনকল এবং রাঠোরের প্রাথমিক পদক্ষেপগুলো আজাদ কাশ্মীরের রাজনীতিতে নতুন স্থিতিশীলতার ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।