এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এশিয়ার দুই প্রভাবশালী রাষ্ট্রের মধ্যে কূটনৈতিক উত্তেজনা এখন চরমে পৌঁছেছে। জাপানের নতুন প্রধানমন্ত্রী তোখাইচি সম্প্রতি মন্তব্য করেছিলেন যে, চীন যদি তাইওয়ানের বিরুদ্ধে নৌ-অবরোধ বা অন্য কোনো কঠোর পদক্ষেপ নেয়, তবে তা জাপানি সামরিক প্রতিক্রিয়ার ভিত্তি হতে পারে। এই বক্তব্যের কড়া সমালোচনা করে চীনের শীর্ষ কূটনীতিক ওয়াং ই এক লিখিত বিবৃতিতে একে ‘বেপরোয়া’ এবং ‘বিস্ময়কর’ বলে অভিহিত করেছেন।
তিনি বলেন, জাপানের বর্তমান নেতাদের প্রকাশ্যে তাইওয়ান ইস্যুতে ভুল বার্তা দেওয়া এবং এমন সব কথা বলা উচিত হয়নি, যা স্পর্শকাতর সীমানা লঙ্ঘন করে। ওয়াং ই আরও উল্লেখ করেন যে, জাপানি সামরিকবাদের পুনরুত্থান রোধে বিশ্বের সকল দেশের দায়িত্ব রয়েছে এবং চীন জাপানের এই আচরণের বিরুদ্ধে দৃঢ় প্রতিক্রিয়া জানাতে বাধ্য হবে।
উত্তেজনার এই আবহে বেইজিং জাতিসংঘে নিযুক্ত তাদের রাষ্ট্রদূতের মাধ্যমে মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের কাছে একটি আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদলিপি পাঠিয়েছে। চিঠিতে জাপানের প্রধানমন্ত্রীর মন্তব্যকে আন্তর্জাতিক আইন ও কূটনৈতিক রীতিনীতির ‘মারাত্মক লঙ্ঘন’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। চীনের জাতিসংঘ রাষ্ট্রদূত ফু কং সতর্ক করে বলেছেন, জাপান যদি তাইওয়ান প্রণালীতে সশস্ত্র হস্তক্ষেপের দুঃসাহস দেখায়, তবে তা আগ্রাসন হিসেবে গণ্য হবে।
তিনি আরও যোগ করেন, চীন জাতিসংঘের সনদ ও আন্তর্জাতিক আইনের আওতায় আত্মরক্ষার অধিকার প্রয়োগ করবে এবং নিজেদের সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক অখণ্ডতা রক্ষায় বিন্দুমাত্র ছাড় দেবে না। উল্লেখ্য, বেইজিং স্বায়ত্বশাসিত তাইওয়ানকে নিজেদের অবিচ্ছেদ্য অংশ মনে করে এবং প্রয়োজনে বলপ্রয়োগ করে হলেও এটি মূল ভূখণ্ডের সাথে যুক্ত করার সম্ভাবনা নাকচ করে না। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র ও তার এশীয় মিত্ররা, বিশেষ করে জাপান ও ফিলিপাইন, তাইওয়ানের নিরাপত্তা নিয়ে বরাবরই উদ্বিগ্ন।
আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, জাপানের পূর্ববর্তী প্রধানমন্ত্রীদের তুলনায় সানা তোখাইচির অবস্থান এ বিষয়ে অনেক বেশি কঠোর। আগের নেতারা চীনের হুমকি নিয়ে কেবল উদ্বেগ প্রকাশ করতেন, কিন্তু জাপান সরাসরি কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানাবে, তা নিয়ে প্রকাশ্যে মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকতেন। তুমুল বিতর্কের মুখেও জাপানি প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্য প্রত্যাহার করতে অস্বীকার করেছেন। তবে তিনি জানিয়েছেন যে, ভবিষ্যতে সুনির্দিষ্ট কোনো কাল্পনিক পরিস্থিতি নিয়ে মন্তব্য করা থেকে তিনি বিরত থাকবেন। এই ঘটনা দুই প্রতিবেশী রাষ্ট্রের মধ্যকার দীর্ঘদিনের অবিশ্বাসের সম্পর্ককে আরও জটিল করে তুলেছে।