রবিবার, ডিসেম্বর ৭, ২০২৫
২২ অগ্রহায়ণ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

তাইওয়ানের কাছে জাপানি দ্বীপে সন্দেহভাজন চীনা ড্রোন

আর এন এস আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৫ নভেম্বর, ২০২৫, ০৭:১৪ পিএম

তাইওয়ানের কাছে জাপানি দ্বীপে সন্দেহভাজন চীনা ড্রোন
ছবি: Reuters

তাইওয়ানের খুব কাছে অবস্থিত জাপানের ইয়োনাগুনি দ্বীপের আকাশে একটি সন্দেহভাজন চীনা ড্রোন শনাক্ত করার পর জাপান তাদের যুদ্ধবিমান বা ফাইটার জেট মোতায়েন করেছে। টোকিও এবং বেইজিংয়ের মধ্যে চলমান তীব্র কূটনৈতিক উত্তেজনার মধ্যেই এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে।

 

জাপানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছে যে, সোমবার ইয়োনাগুনি দ্বীপ এবং তাইওয়ানের মধ্যবর্তী আকাশসীমায় একটি মানববিহীন আকাশযান বা ড্রোন উড়তে দেখা যায়, যা চীনের বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই ঘটনার তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া হিসেবে জাপানের বিমান আত্মরক্ষা বাহিনী বা এয়ার সেলফ-ডিফেন্স ফোর্স তাদের যুদ্ধবিমান আকাশে পাঠায়।

 

ইয়োনাগুনি দ্বীপটি জাপানের কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি অঞ্চল, যেখানে টোকিও ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা স্থাপনের পরিকল্পনা করছে। জাপানের এই পরিকল্পনা নিয়ে বেইজিং দীর্ঘদিন ধরেই ক্ষোভ প্রকাশ করে আসছে। সম্প্রতি জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানা তাকাইচি ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, তাইওয়ানের বিরুদ্ধে চীনের যেকোনো আগ্রাসী পদক্ষেপ জাপানি সামরিক হস্তক্ষেপের কারণ হতে পারে।

 

প্রধানমন্ত্রীর এমন মন্তব্যের পর থেকেই দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের চরম অবনতি ঘটে। চীন অভিযোগ করেছে যে, তাইওয়ান ইস্যুতে মন্তব্য করে জাপান সম্পর্কের 'লাল রেখা' অতিক্রম করেছে। পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করে যখন জাপানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী শিনজিরো কোইজুমি ইয়োনাগুনি দ্বীপ সফর করেন এবং সেখানে ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েনের সিদ্ধান্ত এগিয়ে নেওয়ার ঘোষণা দেন।

 

চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই পরিকল্পনাকে আঞ্চলিক উত্তেজনা সৃষ্টি এবং সামরিক সংঘাত উসকে দেওয়ার একটি ইচ্ছাকৃত ও সুপরিকল্পিত প্রচেষ্টা হিসেবে অভিহিত করেছে। তবে, প্রতিরক্ষামন্ত্রী কোইজুমি মঙ্গলবার চীনের এই অভিযোগ দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান, যে মাঝারি পাল্লার ভূমি-থেকে-আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র সেখানে মোতায়েন করার পরিকল্পনা করা হচ্ছে, তা সম্পূর্ণভাবে রক্ষণাত্মক সরঞ্জাম।

 

তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, এই ব্যবস্থা অন্য কোনো দেশকে আক্রমণ করার জন্য নয়, বরং জাপানের আকাশসীমায় অনুপ্রবেশকারী যেকোনো বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার লক্ষ্যেই স্থাপন করা হচ্ছে এবং এতে আঞ্চলিক উত্তেজনা বাড়ার কোনো কারণ নেই। উল্লেখ্য, ইয়োনাগুনি দ্বীপে ২০১৬ সাল থেকে জাপানি সেনাবাহিনীর একটি ঘাঁটি রয়েছে, যা স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রাথমিক আপত্তি সত্ত্বেও স্থাপন করা হয়েছিল।

 

চীন গণতান্ত্রিক তাইওয়ানকে নিজেদের ভূখণ্ড বলে দাবি করে এবং প্রয়োজনে শক্তি প্রয়োগ করে হলেও তা নিয়ন্ত্রণে আনার হুমকি দিয়ে আসছে। এমতাবস্থায়, তাইওয়ান সোমবার জানিয়েছে যে ইয়োনাগুনি দ্বীপে জাপানের সামরিক স্থাপনা ও সক্ষমতা বৃদ্ধি তাইওয়ান প্রণালীর সামগ্রিক নিরাপত্তা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক ভূমিকা পালন করবে। দুই এশীয় পরাশক্তির মধ্যে এই নতুন সামরিক তৎপরতা আঞ্চলিক ভূ-রাজনীতিতে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।

 

- ABC News