দুর্গম ও ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে পৌঁছাতে উদ্ধারকর্মীরা রীতিমতো হিমশিম খাচ্ছেন। উত্তর সুমাত্রা প্রদেশের পুলিশ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, বন্যার তোড়ে পাহাড়ি গ্রামগুলোতে কাদা, বিশাল পাথর এবং উপড়ে পড়া গাছ ভেসে এসে ব্যাপক ধ্বংসলীলা চালিয়েছে। সবচাইতে ক্ষতিগ্রস্ত শহর সিবোলগাতে উদ্ধারকর্মীরা বুধবার পর্যন্ত পাঁচটি মরদেহ উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছেন এবং আহত অবস্থায় তিনজনকে হাসপাতালে পাঠিয়েছেন।
সেখানে এখনও চারজন গ্রামবাসী নিখোঁজ রয়েছেন, যাদের সন্ধানে অভিযান চলছে। এছাড়া প্রতিবেশী মধ্য তাপানুলি জেলায় ভূমিধসে একটি বসতবাড়ি চাপা পড়ে একই পরিবারের চার সদস্য প্রাণ হারিয়েছেন। সেখানে প্রায় দুই হাজার ঘরবাড়ি ও স্থাপনা পানির নিচে তলিয়ে গেছে। দক্ষিণ তাপানুলি জেলাতেও গাছ উপড়ে পড়ে একজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওগুলোতে দেখা যায়, বন্যার পানি বাড়িঘরের ছাদ উপচে পড়ছে এবং আতঙ্কিত বাসিন্দারা নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ছোটাছুটি করছেন। কোনো কোনো এলাকায় নিমিষেই রাস্তাঘাট খরস্রোত নদীতে পরিণত হয়েছে, যেখানে ভেসে যাচ্ছে গাছের গুড়ি ও ধ্বংসাবশেষ। সিবোলগা পুলিশ প্রধান এডি ইনগান্টা জানিয়েছেন, দুর্গতদের জন্য জরুরি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের অবিলম্বে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তিনি সতর্ক করে বলেন, বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে আরও ভূমিধসের আশঙ্কা রয়েছে। পাহাড়ি এই শহরে অন্তত ১৭টি বাড়ি এবং একটি খাবার দোকান বা ক্যাফে মাটির সাথে সম্পূর্ণ মিশে গেছে। উদ্ধারকাজ সম্পর্কে তিনি বলেন, "প্রতিকূল আবহাওয়া এবং কাদার স্তূপ উদ্ধার অভিযানে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।" কাকতালীয়ভাবে, সুমাত্রার এই বিপর্যয় এমন এক সময়ে ঘটল, যেদিন দেশটির প্রধান দ্বীপ জাভাতে ১০ দিনের উদ্ধার অভিযানের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।
সেখানেও প্রবল বৃষ্টি ও ভূমিধসে ৩৮ জন নিহত হয়েছিলেন। জাভার দিলাকাপ ও বানজারনেগারা জেলায় এখনও অনেকে নিখোঁজ থাকলেও মাটির অস্থিতিশীলতা ও খারাপ আবহাওয়ার কারণে এবং উদ্ধারকর্মীদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে সেখানে অভিযান বন্ধ ঘোষণা করতে হয়েছে।
১৭ হাজারেরও বেশি দ্বীপ নিয়ে গঠিত ইন্দোনেশিয়ায় অক্টোবর থেকে মার্চ পর্যন্ত বর্ষাকালে এ ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ নিয়মিত ঘটনা। দেশটির কোটি কোটি মানুষ পাহাড়ি এলাকা বা উর্বর প্লাবনভূমির কাছাকাছি বসবাস করায় তারা প্রায়শই বন্যা ও ভূমিধসের চরম ঝুঁকির মধ্যে থাকেন।