রবিবার, ডিসেম্বর ৭, ২০২৫
২২ অগ্রহায়ণ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

কাশ্মীরে মানবাধিকার লঙ্ঘনের জাতিসংঘের রিপোর্টে পাকিস্তানের গভীর উদ্বেগ

আর এন এস আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৬ নভেম্বর, ২০২৫, ০৫:২৪ পিএম

কাশ্মীরে মানবাধিকার লঙ্ঘনের জাতিসংঘের রিপোর্টে পাকিস্তানের গভীর উদ্বেগ
ছবি: Reuters

ভারত-নিয়ন্ত্রিত জম্মু ও কাশ্মীরে মানবাধিকার লঙ্ঘনের চিত্র তুলে ধরে জাতিসংঘের বিশেষ বিশেষজ্ঞদের প্রকাশিত সাম্প্রতিক প্রতিবেদনের বিষয়ে ‘গভীর উদ্বেগ’ প্রকাশ করেছে পাকিস্তান। বুধবার দেশটির পররাষ্ট্র দপ্তর (এফও) থেকে দেওয়া এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে এই প্রতিক্রিয়া জানানো হয়।

 

জাতিসংঘের ওই প্রতিবেদনে কাশ্মীরে পদ্ধতিগতভাবে মানবাধিকার হরণের ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে বলে দাবি করেছে ইসলামাবাদ, যা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞদের পর্যবেক্ষণে উল্লেখ করা হয়েছে যে, চলতি বছরের এপ্রিলে পেহেলগামে একটি সন্ত্রাসী হামলার ঘটনার পর ভারতীয় নিরাপত্তা বাহিনী উপত্যকাজুড়ে ব্যাপক ধরপাকড় অভিযান পরিচালনা করে।

 

যদিও কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ ছাড়াই ওই হামলার দায় ইসলামাবাদের ওপর চাপিয়েছিল নয়াদিল্লি। জাতিসংঘের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অভিযানের নামে সাংবাদিক, শিক্ষার্থী ও মানবাধিকার কর্মীসহ প্রায় ২,৮০০ ব্যক্তিকে নির্বিচারে গ্রেফতার ও আটক করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা ভারতের এই পদক্ষেপকে ‘গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘন’ হিসেবে অভিহিত করে সতর্কবার্তা জারি করেছেন।

 

পাকিস্তানের পররাষ্ট্র দপ্তরের বিবৃতিতে বলা হয়, পাবলিক সেফটি অ্যাক্ট (পিএসএ) এবং আনলফুল অ্যাক্টিভিটিস প্রিভেনশন অ্যাক্ট (ইউএপিএ)-এর মতো কঠোর আইন ব্যবহার করে কাশ্মীরিদের অনির্দিষ্টকালের জন্য এবং অন্যায়ভাবে আটকে রাখা হচ্ছে। জাতিসংঘের তথ্যানুযায়ী, আটকদের ওপর অমানবিক নির্যাতন, পুলিশি হেফাজতে মৃত্যু, আইনি সহায়তা ও পরিবারের সাথে যোগাযোগ করতে না দেওয়া, এবং শাস্তিমূলক ব্যবস্থা হিসেবে জোরপূর্বক ঘরবাড়ি ভেঙে ফেলার মতো ঘটনা ঘটছে।

 

এছাড়াও, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা খর্ব করতে প্রায় ৮,০০০ সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট ব্লক করা হয়েছে এবং ভারতজুড়ে কাশ্মীরি ও মুসলিম সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে বিদ্বেষমূলক বক্তব্য বা ‘হেট স্পিচ’ ও হয়রানির ঘটনা বৃদ্ধি পেয়েছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এই পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে পাকিস্তান সরকার ভারতকে তাদের ‘নিপীড়নমূলক ও বলপ্রয়োগের নীতি’ অবিলম্বে বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছে।

 

বিবৃতিতে ভারত-নিয়ন্ত্রিত জম্মু ও কাশ্মীরে নির্বিচারে আটক সকল ব্যক্তিকে নিঃশর্ত মুক্তি দেওয়ার এবং ভারতজুড়ে বিশেষ করে মুসলিম ও খ্রিস্টান সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতন বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানানো হয়। ইসলামাবাদ দ্ব্যর্থহীন ভাষায় পুনর্ব্যক্ত করেছে যে, জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাব এবং কাশ্মীরি জনগণের আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী জম্মু ও কাশ্মীর বিরোধের শান্তিপূর্ণ ও ন্যায্য সমাধানের প্রতি তারা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

 

জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞদের মতে, পেহেলগাম হামলার পর ‘প্রতিশোধমূলক’ ব্যবস্থা হিসেবে যেসব পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, তা মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও শান্তিপূর্ণ সমাবেশের অধিকারের ওপর ‘অসামঞ্জস্যপূর্ণ বিধিনিষেধ’। পাকিস্তান হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, তারা কাশ্মীরি জনগণের ন্যায্য সংগ্রামের প্রতি তাদের নৈতিক, রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সমর্থন অব্যাহত রাখবে। জাতিসংঘের এই প্রতিবেদন কাশ্মীর উপত্যকায় চলমান অস্থিরতা ও মানবিক সংকটের ওপর নতুন করে আলোকপাত করল।

 

- DAWN