শনিবার, ডিসেম্বর ১৩, ২০২৫
২৯ অগ্রহায়ণ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

হংকংয়ের বহুতল আবাসনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৪৪

আর এন এস আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৭ নভেম্বর, ২০২৫, ০১:৩২ পিএম

হংকংয়ের বহুতল আবাসনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৪৪
ছবি: AP

হংকংয়ের তাই পো এলাকায় অবস্থিত বিশাল বহুতল আবাসন প্রকল্প ‘ওয়াং ফুক কোর্ট’-এ ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৪৪ জনে দাঁড়িয়েছে। গত কয়েক দশকের মধ্যে নগরীটিতে সংঘটিত সবচেয়ে প্রাণঘাতী এই দুর্ঘটনায় এখনো অন্তত ২৭৯ জন বাসিন্দা নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।

 

বৃহস্পতিবার টানা দ্বিতীয় দিনের মতো দমকলকর্মীরা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং ধ্বংসস্তূপের ভেতর থেকে আটকে পড়াদের উদ্ধারে প্রাণপণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। গত বুধবার বিকেলে স্থানীয় সময় অনুযায়ী আগুনের সূত্রপাত হয় এবং বাতাসের তীব্রতায় তা দ্রুত প্রকল্পের আটটি বহুতল ভবনের সাতটিতেই ছড়িয়ে পড়ে। বৃহস্পতিবার সকাল নাগাদ চারটি ভবনের আগুন কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হলেও বাকিগুলোতে এখনো তীব্র ধোঁয়া ও আগুনের লেলিহান শিখা দেখা যাচ্ছে।

 

নিহত ৪৪ জনের মধ্যে একজন উদ্ধারকারী দমকলকর্মীও রয়েছেন। এছাড়া দগ্ধ ও ধোঁয়ায় গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়া অন্তত ৬২ জনকে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। এই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় চরম অবহেলার অভিযোগে একটি নির্মাণ সংস্থার তিনজন পরিচালক ও একজন প্রকৌশল পরামর্শককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তাদের বিরুদ্ধে ‘নরহত্যা’ বা অনিচ্ছাকৃত হত্যার তদন্ত শুরু হয়েছে।

 

হংকং পুলিশের জ্যেষ্ঠ সুপারিনটেনডেন্ট আইলিন চুং জানিয়েছেন, ভবনের সংস্কার কাজে ব্যবহৃত সামগ্রী ও বহির্দেয়ালের উপাদানগুলো অগ্নিনিরোধক মানদণ্ড বজায় রেখে ব্যবহার করা হয়নি বলে তাঁরা সন্দেহ করছেন। পুলিশ অক্ষত একটি ভবনের জানালায় অত্যন্ত দাহ্য পদার্থ ‘স্টাইরোফোম’-এর উপস্থিতি পেয়েছে, যা নির্মাণ সংস্থাটি স্থাপন করেছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।

 

প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, ৩২ তলা একটি ভবনের সংস্কারের জন্য লাগানো বাঁশের ভারা (scaffolding) এবং নির্মাণকাজে ব্যবহৃত জালের মাধ্যমে আগুন বাতাসের তোড়ে দ্রুত অন্যান্য ভবনে ছড়িয়ে পড়ে। হংকং ফায়ার সার্ভিসের উপ-পরিচালক ডেরেক আর্মস্ট্রং চ্যান পরিস্থিতির ভয়াবহতা বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন, জ্বলন্ত ভবনগুলোর ভেতরে তাপমাত্রা অত্যধিক বেশি এবং ওপর থেকে ক্রমাগত ধ্বংসাবশেষ ও ভারা ভেঙে পড়ায় উদ্ধারকাজ অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ও চ্যালেঞ্জিং হয়ে উঠেছে।

 

১৯৮০-এর দশকে নির্মিত এই আবাসন প্রকল্পে প্রায় ২,০০০টি ফ্ল্যাটে ৪,৮০০ মানুষ বসবাস করতেন, যাদের অনেকেই বয়োজ্যেষ্ঠ নাগরিক। দুর্ঘটনার পরপরই প্রায় ১,০০০ বাসিন্দাকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। হংকংয়ের প্রধান নির্বাহী জন লি বুধবার রাতে এক বিবৃতিতে গভীর শোক প্রকাশ করে জানিয়েছেন, নিখোঁজ ২৭৯ জনের সন্ধানে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে। এটি হংকংয়ের আধুনিক ইতিহাসে অন্যতম ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয় হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।

 

এর আগে ১৯৯৬ সালের নভেম্বরে কাউলুন এলাকায় একটি বাণিজ্যিক ভবনে অগ্নিকাণ্ডে ৪১ জন প্রাণ হারিয়েছিলেন, যা নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রায় ২০ ঘণ্টা সময় লেগেছিল। বর্তমান পরিস্থিতি সেই বিয়োগান্তক ঘটনাকেও ছাড়িয়ে গেছে।

 

- Euro News