এই যুদ্ধবিরতির মূল শর্তই হলো-সীমান্তের ওপার থেকে টিটিপি বা অন্য কোনো গোষ্ঠী পাকিস্তানের অভ্যন্তরে হামলা চালাবে না। গত চার বছরে তালেবান কাবুলের ক্ষমতায় আসার পর দুই প্রতিবেশী দেশের সম্পর্ক বর্তমানে ইতিহাসের তলানিতে ঠেকেছে। গত ১১ অক্টোবর থেকে সীমান্ত পারাপার বন্ধ রয়েছে এবং দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য কার্যক্রমও সম্পূর্ণ স্থবির। ২,৬০০ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্তে একাধিকবার রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ও বিমান হামলার ঘটনা ঘটেছে, যাতে উভয় পক্ষেরই বহু প্রাণহানি হয়েছে।
এই উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে তুরস্ক ও কাতার মধ্যস্থতার উদ্যোগ নিয়েছিল। দোহার আলোচনায় একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও তা দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। সম্প্রতি আফগানিস্তান অভিযোগ করেছে যে পাকিস্তান তাদের ভূখণ্ডে বিমান হামলা চালিয়েছে, যদিও পাকিস্তান সরকার ও সেনাবাহিনী এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। মুখপাত্র তাহির আন্দ্রাবি বর্তমান পরিস্থিতির ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে বলেন, সম্প্রতি ইসলামাবাদ এবং ওয়ানা ক্যাডেট কলেজে যে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলাগুলো হয়েছে, তাতে আফগান নাগরিকদের জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেছে।
তিনি বলেন, “যখন আফগান নাগরিকরা আমাদের ভূখণ্ডে এসে হামলা চালায়, তখন যুদ্ধবিরতি কার্যকর আছে বলে আমরা আশাবাদী হতে পারি না।” পাকিস্তান সরকার আগেই জানিয়েছিল যে, দক্ষিণ ওয়াজিরিস্তানের ক্যাডেট কলেজে হামলার পরিকল্পনাকারীরা আফগানিস্তান থেকে এসেছিল। এছাড়া ইসলামাবাদের আদালত চত্বরে আত্মঘাতী হামলার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিও পাকিস্তানি নাগরিক ছিল না বলে নিশ্চিত করেছেন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ সন্ত্রাসবাদের এই নতুন ঢেউয়ের জন্য পরোক্ষভাবে আফগানিস্তান ও ভারতকে দায়ী করেছেন এবং কঠোর জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফও ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, প্রয়োজন হলে আফগানিস্তানের ভেতরে সন্ত্রাসীদের আস্তানা লক্ষ্য করে হামলা চালানো হতে পারে।
পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র নিশ্চিত করেছেন যে, আফগানিস্তান থেকে আসা যেকোনো হুমকি মোকাবিলায় পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থায় রয়েছে এবং তারা যেকোনো পরিস্থিতির জবাব দিতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত। মূলত, এই যুদ্ধবিরতির ভবিষ্যৎ এখন পুরোপুরি নির্ভর করছে সীমান্তের ওপার থেকে সন্ত্রাসী তৎপরতা বন্ধ হওয়ার ওপর।