সোমবার, ডিসেম্বর ১৫, ২০২৫
১ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সন্ত্রাসীদের অনুপ্রবেশে আফগান বাহিনীর সরাসরি সহায়তা- পাকিস্তান সেনাবাহিনীর গুরুতর অভিযোগ

আর এন এস আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৯ নভেম্বর, ২০২৫, ০১:৫৭ পিএম

সন্ত্রাসীদের অনুপ্রবেশে আফগান বাহিনীর সরাসরি সহায়তা- পাকিস্তান সেনাবাহিনীর গুরুতর অভিযোগ
ছবি: Dawn News

পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে সীমান্ত উত্তেজনা নতুন মোড় নিয়েছে। পাকিস্তানের আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরীফ চৌধুরী এক বিস্ফোরক মন্তব্যে অভিযোগ করেছেন যে, আফগান সীমান্তরক্ষী বাহিনী পরিকল্পিতভাবে পাকিস্তানি চেকপোস্ট লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণ করে, যাতে সেই সুযোগে সন্ত্রাসীরা পাকিস্তানের ভূখণ্ডে অনুপ্রবেশ করতে পারে।

 

শুক্রবার সন্ধ্যায় আইএসপিআর কর্তৃক প্রকাশিত ২৫ নভেম্বরের এক ভিডিও ব্রিফিংয়ে তিনি এই চাঞ্চল্যকর তথ্য তুলে ধরেন। লেফটেন্যান্ট জেনারেল চৌধুরী বলেন, আন্তর্জাতিক রীতি অনুযায়ী সীমান্ত সুরক্ষার দায়িত্ব উভয় দেশের বাহিনীর ওপরই বর্তায়। কিন্তু বর্তমানে আফগান সীমান্তের বাস্তবতা সম্পূর্ণ ভিন্ন। তিনি অভিযোগ করেন, "সীমান্তের অপর প্রান্ত থেকে একটি দেশের বাহিনী প্রথমে আমাদের পোস্টগুলো লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণ শুরু করে এবং সংঘাত উসকে দেয়।

 

এরপর যখন আমাদের জওয়ানরা সেই হামলা মোকাবিলায় ব্যস্ত হয়ে পড়ে, তখন সেই সুযোগ ও নিরাপত্তার ফাঁকফোকর ব্যবহার করে তারা সন্ত্রাসীদের পাকিস্তানের ভেতরে ঢুকিয়ে দেয়।" তিনি একে অত্যন্ত সুপরিকল্পিত ও সমন্বিত হামলা হিসেবে অভিহিত করেন। কেবল সন্ত্রাসীরাই নয়, চোরাকারবারীদের যানবাহন পারাপারেও একই কৌশল অবলম্বন করা হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

 

সীমান্তে সেনাবাহিনী ও ফ্রন্টিয়ার কর্পস (এফসি) মোতায়েন থাকার পরও কীভাবে সন্ত্রাসীরা অনুপ্রবেশ করছে বা চোরাচালান অব্যাহত রয়েছে-জনমনে ওঠা এমন প্রশ্নেরও বিস্তারিত জবাব দেন ডিজি আইএসপিআর। তিনি বরফাচ্ছাদিত দুর্গম এলাকাতেও পাকিস্তানের নির্মিত কাঁটাতারের বেড়া ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার ছবি সাংবাদিকদের সামনে প্রদর্শন করেন।

 

তবে তিনি ভৌগোলিক বাস্তবতা তুলে ধরে বলেন, সীমান্ত পোস্টগুলো একে অপরের চেয়ে প্রায় ১৫ থেকে ২৫ কিলোমিটার দূরত্বে অবস্থিত। এত বিশাল ও দুর্গম এলাকা ‘সম্পূর্ণরূদ্ধ’ বা নিশ্ছিদ্র করা (Hermetically seal) কার্যত অসম্ভব। বাস্তব উদাহরণ হিসেবে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের মেক্সিকো সীমান্তের কথা উল্লেখ করে বলেন, বিপুল সম্পদ ও অত্যাধুনিক প্রযুক্তি থাকা সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্র তাদের সীমান্ত পুরোপুরি নিশ্ছিদ্র করতে পারেনি।

 

একই ব্রিফিংয়ে তিনি আফগান তালেবানের পক্ষ থেকে করা একটি সাম্প্রতিক অভিযোগ সরাসরি নাকচ করে দেন। তালেবানের দাবি ছিল, পাকিস্তান আফগানিস্তানের ভেতরে রাতারাতি বিমান হামলা চালিয়েছে। এই দাবিকে ভিত্তিহীন আখ্যায়িত করে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, পাকিস্তানের নিরাপত্তা দর্শনে ‘ভালো তালেবান’ বা ‘খারাপ তালেবান’ বলে কিছু নেই; সন্ত্রাসীরা শুধুই সন্ত্রাসী এবং তাদের মধ্যে কোনো পার্থক্য করা হয় না।

 

পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক টানাপোড়েন এবং সীমান্তে চলমান উত্তেজনার মধ্যে দেশটির সামরিক মুখপাত্রের এই বক্তব্য দুই প্রতিবেশী রাষ্ট্রের নিরাপত্তা সম্পর্কের অবনতিকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে।

 

ইসলামাবাদ দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ করে আসছে যে, আফগানিস্তানের মাটি ব্যবহার করে তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তান (টিটিপি) ও অন্যান্য জঙ্গি গোষ্ঠী পাকিস্তানে হামলা চালাচ্ছে, যদিও কাবুল বরাবরই এই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। এই পাল্টাপাল্টি অভিযোগের ফলে আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে।

 

- DAWN