সোমবার, ডিসেম্বর ১৫, ২০২৫
১ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

মঙ্গলের পরিবেশে ড্রোন ওড়ানোর সাহসী প্রচেষ্টায় তরুণদের প্রশংসা মোদীর

আর এন এস আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ৩০ নভেম্বর, ২০২৫, ০২:০৪ পিএম

মঙ্গলের পরিবেশে ড্রোন ওড়ানোর সাহসী প্রচেষ্টায় তরুণদের প্রশংসা মোদীর
ছবি: ANI

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী তার মাসিক রেডিও অনুষ্ঠান ‘মন কি বাত’-এর ১২৮তম পর্বে দেশের যুবসমাজের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, ভারতের বর্তমান প্রজন্ম বা ‘জেন-জি’ এখন আর গতানুগতিক চিন্তার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, বরং তারা মহাকাশ বিজ্ঞানের মতো জটিল ক্ষেত্রেও নিজেদের মেধার স্বাক্ষর রাখছে।

 

সম্প্রতি পুনেতে অনুষ্ঠিত একটি ড্রোন প্রতিযোগিতায় একদল তরুণের মঙ্গলের মতো দুর্গম পরিবেশে ড্রোন ওড়ানোর প্রচেষ্টাকে তিনি ‘নতুন চিন্তা, উদ্ভাবন এবং যুবশক্তির’ প্রতীক হিসেবে অভিহিত করেছেন। ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থা (ইসরো) আয়োজিত এই বিশেষ প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া তরুণদের একটি ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে।

 

ভিডিওটিতে দেখা যায়, মঙ্গলের পৃষ্ঠতলের মতো রুক্ষ এবং প্রতিকূল আবহাওয়ায় ড্রোন ওড়ানোর চেষ্টা করছে পুনের একদল তরুণ বিজ্ঞানী। মোদী বলেন, “তাদের ড্রোনটি বারবার পড়ে গিয়ে ভেঙে যাচ্ছিল, কিন্তু তারা হাল ছাড়েনি। অসংখ্য প্রচেষ্টার পর অবশেষে তারা মঙ্গলের মতো কঠিন পরিস্থিতিতেও ড্রোনটি কিছুক্ষণ ওড়াতে সক্ষম হয়।” এই ঘটনা তাকে চন্দ্রযান মিশনের স্মৃতি মনে করিয়ে দেয়।

 

তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, যেদিন চন্দ্রযানের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছিল, সেদিন গোটা দেশ হতাশ হলেও বিজ্ঞানীরা মনোবল হারাননি। সেই ব্যর্থতা থেকেই চন্দ্রযান-৩ এর সাফল্যের ভিত্তি রচিত হয়েছিল। প্রধানমন্ত্রীর মতে, তরুণদের এই অদম্য জেদই হলো ‘বিকশিত ভারত’-এর সবচেয়ে বড় শক্তি। মহাকাশ গবেষণায় ভারতের অগ্রগতি প্রসঙ্গে মোদী হায়দ্রাব্দের স্কাইরুট এরোস্পেস-এর ‘ইনফিনিটি ক্যাম্পাস’ উদ্বোধনের কথা উল্লেখ করেন।

 

তিনি বলেন, এটি ভারতের মহাকাশ ইকোসিস্টেমে এক নতুন গতির সঞ্চার করেছে। তিনি আরও বলেন, “একটা সময় ছিল যখন কোনো জিপিএস বা নেভিগেশন সুবিধা ছাড়াই আমাদের নাবিকরা বিশাল সমুদ্র পাড়ি দিতেন। আর আজ, আমাদের তরুণরা মহাকাশের অসীম সীমানা মাপার সাহস দেখাচ্ছে।” স্কাইরুটের তৈরি প্রথম অরবিটাল রকেট ‘বিক্রম-১’-এর উন্মোচনকেও তিনি ভারতের আত্মনির্ভরতার পথে একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে চিহ্নিত করেন।

 

এছাড়াও, প্রধানমন্ত্রী প্রতিরক্ষা ও বিমান চলাচল খাতে ভারতের অগ্রগতির চিত্র তুলে ধরেন। তিনি হায়দ্রাবাদে বিশ্বের বৃহত্তম ‘লিপ ইঞ্জিন এমআরও’ (মেইনটেনেন্স, রিপেয়ার অ্যান্ড ওভারহোল) ফ্যাসিলিটি উদ্বোধনের কথা উল্লেখ করেন, যা বিমান রক্ষণাবেক্ষণে ভারতকে স্বাবলম্বী করবে।

 

পাশাপাশি, ভারতীয় নৌবাহিনীতে আইএনএস মাহে-র অন্তর্ভুক্তিকেও তিনি দেশের সুরক্ষা ব্যবস্থার আধুনিকায়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বর্ণনা করেন। সব মিলিয়ে, মোদীর এই বক্তব্য প্রমাণ করে যে, মহাকাশ থেকে শুরু করে প্রতিরক্ষা-প্রতিটি ক্ষেত্রেই ভারতের যুবশক্তি আজ নতুন এক দিগন্ত উন্মোচন করছে।

 

- ANI News