সোমবার, ডিসেম্বর ১৫, ২০২৫
১ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

পাকিস্তানে সহকারী কমিশনারের গাড়িতে সন্ত্রাসী হামলা, পুলিশসহ নিহত ৩

আর এন এস আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ০২ ডিসেম্বর, ২০২৫, ০১:৫৭ পিএম

পাকিস্তানে সহকারী কমিশনারের গাড়িতে সন্ত্রাসী হামলা, পুলিশসহ নিহত ৩
ছবি: Dawn News

পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের বান্নু জেলায় মঙ্গলবার এক ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটেছে। মিরানশাহর সহকারী কমিশনার শাহ ওয়ালিকে বহনকারী গাড়ি লক্ষ্য করে চালানো এই অতর্কিত হামলায় দুইজন পুলিশ সদস্য এবং একজন সাধারণ নাগরিক নিহত হয়েছেন।

 

আঞ্চলিক পুলিশ কর্মকর্তার (আরপিও) মুখপাত্র কাশিফ নেওয়াজ পাকিস্তানের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম ‘ডন’-এর কাছে এই হতাহতের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, হামলাটি বান্নুর স্পর্শকাতর ক্যান্টনমেন্ট থানা এলাকার সীমানার মধ্যেই সংঘটিত হয়। সন্ত্রাসীদের প্রবল আক্রমণের মুখে সহকারী কমিশনারের গাড়িটি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং ঘটনাস্থল থেকে পাওয়া ভিডিও ফুটেজে গাড়িটিতে দাউ দাউ করে আগুন জ্বলতে দেখা যায়।

 

এই হামলায় ঘটনাস্থলেই দুই পুলিশ কনস্টেবল এবং একজন স্থানীয় বাসিন্দা প্রাণ হারান। এছাড়া নিরাপত্তা বহরে থাকা আরও দুই পুলিশ কর্মকর্তা গুরুতর আহত হয়েছেন, যাদের দ্রুত উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। তবে হামলার মূল লক্ষ্যবস্তু সহকারী কমিশনার শাহ ওয়ালির বর্তমান অবস্থা নিয়ে ধোঁয়াশা সৃষ্টি হয়েছে।

 

বিভিন্ন অসমর্থিত সূত্রে এবং স্থানীয় গণমাধ্যমে তার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লেও, পুলিশ বা সরকারি প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চয়তা পাওয়া যায়নি। প্রশাসন জানিয়েছে, তারা সঠিক তথ্য যাচাই-বাছাই করছেন এবং শীঘ্রই এ বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হবে। মিরানশাহ মূলত উত্তর ওয়াজিরিস্তান জেলার প্রশাসনিক সদর দপ্তর এবং এটি ভৌগোলিক ও কৌশলগতভাবে বান্নু জেলার সীমান্তবর্তী হওয়ায় এলাকাটি নিরাপত্তার দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

 

এই হামলাটি এমন এক সময়ে ঘটল যখন মাত্র একদিন আগেই সোমবার লাক্কি মারওয়াত এবং বান্নু জেলায় পৃথক আত্মঘাতী বোমা ও বন্দুক হামলায় দুই পুলিশ সদস্য নিহত এবং পাঁচজন আহত হয়েছিলেন। পরপর দুই দিন নিরাপত্তা বাহিনী ও প্রশাসনের ওপর এমন হামলার ঘটনায় পুরো অঞ্চলে চরম উত্তেজনা ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। সাম্প্রতিক সময়ে খাইবার পাখতুনখোয়া এবং বেলুচিস্তানে সন্ত্রাসী কার্যকলাপ উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে, যা দেশটির জাতীয় নিরাপত্তার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

 

বিশ্লেষকদের মতে, ২০২২ সালে নিষিদ্ধ ঘোষিত তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তান (টিটিপি) সরকারের সঙ্গে চলমান যুদ্ধবিরতি চুক্তি একপাক্ষিকভাবে বাতিল করার পর থেকেই পরিস্থিতির অবনতি হতে শুরু করে। যুদ্ধবিরতি শেষের ঘোষণার পর টিটিপি অঙ্গীকার করেছিল যে তারা নিরাপত্তা বাহিনী, পুলিশ এবং আইনশৃঙ্খল রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর আক্রমণ জোরদার করবে।

 

মঙ্গলবারের এই ঘটনা সেই ধারাবাহিক অস্থিতিশীলতা এবং নিরাপত্তা সংকটেরই অংশ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে এবং হামলাকারীদের গ্রেফতারে চিরুনি অভিযান শুরু হয়েছে।

 

- DAWN