পাকিস্তানের দাবি, তাদের একটি বিশেষ ত্রাণবাহী বিমান গত ৬০ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে ভারতের আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতির অপেক্ষায় আটকে আছে, যা চরম অমানবিকতার শামিল। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক বিবৃতিতে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র দপ্তর ক্ষোভ প্রকাশ করে জানিয়েছে, ভারত ইচ্ছাকৃতভাবে পাকিস্তানের ত্রাণ কার্যক্রমে বাধা দিচ্ছে। যদিও ৪৮ ঘণ্টা অপেক্ষার পর সোমবার রাতে ভারত আকাশসীমা ব্যবহারের একটি আংশিক অনুমতি দিয়েছিল।
কিন্তু পাকিস্তান সেটিকে "বাস্তবসম্মত নয়" বলে প্রত্যাখ্যান করেছে। ইসলামাবাদের দাবি, ভারত যে শর্তে অনুমতি দিয়েছে তা অত্যন্ত সীমিত সময়ের জন্য এবং এতে ফিরতি ফ্লাইটের কোনো বৈধতা বা অনুমতিপত্র ছিল না। ফলে এই জরুরি ত্রাণ মিশন পরিচালনা করা অপারেশনাল বা কার্যকারিতার দিক থেকে অসম্ভব হয়ে পড়েছে। পাকিস্তান এই ঘটনাকে শ্রীলঙ্কার "ভ্রাতৃপ্রতীম জনগণের" জন্য পাঠানো জরুরি সহায়তা কার্যক্রমকে ব্যাহত করার অপপ্রয়াস হিসেবে দেখছে।
এদিকে, ঘূর্ণিঝড় ডিটওয়াহ ও তৎপরবর্তী বন্যা এবং ভূমিধসে শ্রীলঙ্কার পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। দেশটির দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৪১০ জনে দাঁড়িয়েছে এবং এখনও অন্তত ৩৩৬ জন নিখোঁজ রয়েছেন। ২০০৪ সালের সুনামির পর এটিই শ্রীলঙ্কার ইতিহাসে সবচেয়ে বড় প্রাকৃতিক দুর্যোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। প্রায় ১৫ লাখ মানুষ এই দুর্যোগে সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট অনুরা কুমারা দিশানায়েকে জরুরি অবস্থা জারি করেছেন। রাজধানী কলম্বোতে বন্যার পানি কিছুটা নামতে শুরু করলেও ওয়েলিমাডাসহ মধ্যদিকের পাহাড়ি অঞ্চলগুলোতে ভূমিধসের সতর্কতা এখনও বহাল রয়েছে। কাদা ও ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও বহু মানুষের মরদেহ চাপা পড়ে থাকার আশঙ্কা করছেন উদ্ধারকর্মীরা।
কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, এর আগে সোমবার ইঙ্গিত পাওয়া গিয়েছিল যে ভারত মানবিক কারণে পাকিস্তানের বিমানকে আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি দেবে। কিন্তু বাস্তবে তা ফলপ্রসূ হয়নি। উল্লেখ্য, গত এপ্রিলে ভারত-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের পাহেলগামে একটি হামলায় ২৬ জন নিহত হওয়ার পর দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা চরমে পৌঁছায় এবং একে অপরের জন্য আকাশসীমা বন্ধ করে দেয়।
অক্টোবরে ইসলামাবাদ এই নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ আরও বাড়ায়। এই দীর্ঘস্থায়ী বৈরি সম্পর্কের প্রভাব এখন সরাসরি পড়ছে আঞ্চলিক মানবিক সহায়তা কার্যক্রমের ওপর। কলম্বোর সাধারণ মানুষ যখন প্রকৃতির রুদ্ররোষে সর্বস্ব হারিয়ে বাঁচার লড়াই করছে, তখন দুই পারমাণবিক শক্তিধর প্রতিবেশী রাষ্ট্রের এই কূটনৈতিক টানাপড়েন পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।