এই ঘটনা দেশটির উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশে চলমান নিরাপত্তা সংকটের গভীরতা আবারও সামনে নিয়ে এসেছে। স্থানীয় পুলিশ মুখপাত্র ইয়াকুব জুলকারনাইন গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন যে, ডেরা ইসমাইল খানের পানিয়ালা এলাকায় এই বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এলাকাটি শহীদ নওয়াব খান পুলিশ স্টেশনের আওতাধীন। পুলিশ জানায়, দুর্বৃত্তরা আগে থেকেই রাস্তায় ইমপ্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস (আইইডি) বা শক্তিশালী বোমা পুঁতে রেখেছিল।
পুলিশের টহল গাড়িটি ওই স্থান অতিক্রম করার সময় বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে। বিস্ফোরণের তীব্রতায় গাড়িটি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান এএসআই গুল আলম, কনস্টেবল রফিক এবং পুলিশের গাড়িচালক সাখি জান। গাড়িতে থাকা আরেক কনস্টেবল আজাদ শাহ অলৌকিকভাবে অক্ষত অবস্থায় বেঁচে গেছেন।
হামলার পরপরই ডেরা ইসমাইল খানের জেলা পুলিশ কর্মকর্তা (ডিপিও) সাজ্জাদ আহমেদ সাহেবজাদাসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এবং বোমা নিষ্ক্রিয়করণ ইউনিটের সদস্যরা ঘটনাস্থলে ছুটে যান। পুরো এলাকাটি বর্তমানে কঠোর নিরাপত্তা বেষ্টনী বা কর্ডন দিয়ে ঘিরে রাখা হয়েছে। হামলাকারীদের চিহ্নিত ও গ্রেফতার করার লক্ষ্যে ওই এলাকায় ব্যাপক তল্লাশি অভিযান শুরু করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
পুলিশ জানিয়েছে, তারা এই হামলার ঘটনাটি সবদিক থেকে তদন্ত করে দেখছে। ডেরা ইসমাইল খান ডিপিও কার্যালয় থেকে জারি করা এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, অজ্ঞাতনামা সন্ত্রাসীরা এই হামলা চালিয়েছে। ডিপিও সাজ্জাদ আহমেদ সাহেবজাদা সংবাদমাধ্যমের সাথে আলাপকালে এই ঘটনাকে ‘সন্ত্রাসীদের কাপুরুষোচিত হামলা’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।
তিনি দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে বলেন, এ ধরনের ন্যাক্কারজনক হামলা চালিয়ে পুলিশের মনোবল ভেঙে দেওয়া যাবে না। সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে পুলিশ বাহিনী তাদের সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকারে প্রস্তুত রয়েছে। উল্লেখ্য, গত কয়েক মাস ধরে পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া এবং বেলুচিস্তান প্রদেশে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর হামলার ঘটনা আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।
বিশেষ করে ২০২২ সালের নভেম্বরে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তান (টিটিপি) সরকারের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি চুক্তি বাতিল করার পর থেকে পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটে। এরপর থেকেই সংগঠনটি নিরাপত্তা বাহিনী, পুলিশ এবং অন্যান্য সংস্থার সদস্যদের লক্ষ্য করে নিয়মিত হামলা চালিয়ে আসছে।
বুধবারের এই হামলা সেই ধারাবাহিক সহিংসতারই একটি অংশ বলে মনে করছেন নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা। এই ঘটনা স্থানীয় জনমনে নতুন করে আতঙ্কের সৃষ্টি করেছে এবং প্রশাসনের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে।