রাষ্ট্রীয় এই প্রতিষ্ঠান বিক্রির প্রক্রিয়ায় সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে পুরো নিলাম কার্যক্রমটি গণমাধ্যমে সরাসরি সম্প্রচার করা হবে বলেও তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল বা আইএমএফ-এর সাথে ৭০০ কোটি মার্কিন ডলারের ঋণ কর্মসূচির শর্ত পূরণ এবং পাকিস্তানের ভঙ্গুর অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতেই এই কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বছরের পর বছর ধরে লোকসানে থাকা রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর সংস্কারের অংশ হিসেবে সরকার পিআইএ-র ৫১ থেকে ১০০ শতাংশ মালিকানা বা শেয়ার বিক্রি করার পরিকল্পনা করেছে। গত প্রায় দুই দশকের মধ্যে এটিই হতে যাচ্ছে দেশটির কোনো বড় সরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রথম এবং সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বেসরকারীকরণ কার্যক্রম। পিআইএ-র মালিকানা কেনার দৌড়ে অংশ নেওয়ার জন্য ইতিমধ্যে চারটি কনসোর্টিয়াম বা শিল্পগোষ্ঠীকে প্রাক-যোগ্যতা বা প্রি-কোয়ালিফিকেশন দেওয়া হয়েছে।
এই চারটি প্রতিষ্ঠান হলো-লাকি সিমেন্ট কনসোর্টিয়াম, আরিফ হাবিব কর্পোরেশন কনসোর্টিয়াম, ফৌজি ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড এবং এয়ার ব্লু লিমিটেড। প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ বুধবার এই চার প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সাথে বৈঠক করেন এবং সরকারের গৃহীত স্বচ্ছ ও পেশাদার পদক্ষেপের বিষয়ে তাদের আশ্বস্ত করেন। রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার মাধ্যম পিটিভি নিউজ সূত্রে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রী নিলাম প্রক্রিয়াটি সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হওয়ার বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।
বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পিআইএ-র ‘হারানো গৌরব’ ফিরিয়ে আনা এবং একে আধুনিক বিশ্বের বিমান পরিষেবা খাতের সাথে তাল মিলিয়ে চলার উপযোগী করে তোলাই সরকারের মূল লক্ষ্য। তিনি আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, “শিগগিরই পিআইএ তার পুরনো ঐতিহ্য ও স্লোগান ‘গ্রেট পিপল টু ফ্লাই উইথ’-এর মর্যাদায় ফিরে আসবে।”
তিনি জোর দিয়ে বলেন, বিশ্বজুড়ে পিআইএ-র ফ্লাইট নেটওয়ার্ক পুনরায় সচল করা হলে তা প্রবাসী পাকিস্তানি নাগরিকদের যাতায়াতে যেমন স্বস্তি ফিরিয়ে আনবে, তেমনি পাকিস্তানের পর্যটন খাতের বিকাশেও অপরিহার্য ভূমিকা রাখবে। নিলামে বিজয়ী প্রতিষ্ঠান বা গোষ্ঠী তাদের মেধা ও সর্বশক্তি দিয়ে জাতীয় এই বিমান সংস্থার মর্যাদা পুনরুদ্ধারে কাজ করবে বলে প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন।
বৈঠকে উপস্থিত ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরাও এই পুরো প্রক্রিয়ায় সরকারের স্বচ্ছতা ও মেধাভিত্তিক দৃষ্টিভঙ্গির প্রশংসা করেছেন। দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা, দুর্নীতি ও ঋণের ভারে জর্জরিত পিআইএ অবশেষে বেসরকারি মালিকানায় ঘুরে দাঁড়াতে পারবে কি না, এখন সেদিকেই তাকিয়ে আছে পুরো পাকিস্তান।