সাবেক প্রেসিডেন্ট ইউন সুক ইওলের ব্যর্থ সামরিক আইন জারির এক বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত এই সংবাদ সম্মেলনে তিনি যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের নতুন দিক উন্মোচন করেন। প্রেসিডেন্ট লি জানান, গত অক্টোবরে গিয়ংজুতে অনুষ্ঠিত শীর্ষ সম্মেলনে ট্রাম্পের সঙ্গে তাঁর এই বিষয়ে আলোচনা হয়। বর্তমানে দক্ষিণ কোরিয়াকে তাদের প্রয়োজনীয় ইউরেনিয়ামের প্রায় পুরোটাই আমদানি করতে হয়, যার ৩০ শতাংশ আসে রাশিয়া থেকে।
ট্রাম্পের প্রস্তাব অনুযায়ী, দক্ষিণ কোরিয়া যদি নিজেদের মাটিতে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করতে পারে, তবে তা অর্থনৈতিকভাবে অত্যন্ত লাভজনক হবে। এই অংশীদারিত্বের বিস্তারিত রূপরেখা তৈরির জন্য মার্কিন বাণিজ্যমন্ত্রী হাওয়ার্ড লুটনিককে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এটি বাস্তবায়িত হলে দক্ষিণ কোরিয়ার জ্বালানি নিরাপত্তা ও কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন অনেকাংশে বৃদ্ধি পাবে।
সংবাদ সম্মেলনে প্রেসিডেন্ট লি পারমাণবিক শক্তিচালিত সাবমেরিন তৈরির বিষয়েও কথা বলেন। তিনি একে তাঁর সাম্প্রতিক সফরের একটি বড় অর্জন হিসেবে উল্লেখ করেন। ট্রাম্প নীতিগতভাবে সিউলকে পারমাণবিক সাবমেরিন তৈরির অনুমোদন দিলেও, তিনি চান এটি যুক্তরাষ্ট্রের ফিলাডেলফিয়ার শিপইয়ার্ডে নির্মিত হোক। তবে প্রেসিডেন্ট লি অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা বিবেচনায় এই সাবমেরিন দক্ষিণ কোরিয়ার নিজস্ব শিপইয়ার্ডেই তৈরি করার পক্ষে মত দেন।
তিনি স্পষ্ট করে বলেন, পারমাণবিক সাবমেরিন তৈরির অর্থ পারমাণবিক বোমা তৈরি নয়। দক্ষিণ কোরিয়া আন্তর্জাতিক পরমাণু অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তির প্রতি সম্পূর্ণ শ্রদ্ধাশীল এবং কোরীয় উপদ্বীপকে পারমাণবিক অস্ত্রমুক্ত রাখাই তাদের মূল নীতি। উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে স্থবির হয়ে পড়া কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনরুদ্ধারের বিষয়েও প্রেসিডেন্ট লি কথা বলেন।
তিনি ট্রাম্পকে একজন ‘পিসমেকার’ বা শান্তির দূত হিসেবে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান এবং কিম জং উনের সঙ্গে আলোচনা শুরুর অনুরোধ করেন। উত্তেজনা কমাতে প্রয়োজনে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যৌথ সামরিক মহড়ার পরিসর কমানোরও ইঙ্গিত দেন তিনি। এছাড়া, চীন ও জাপানের মধ্যকার আঞ্চলিক উত্তেজনায় দক্ষিণ কোরিয়া কোনো পক্ষ না নিয়ে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করতে চায় বলে তিনি উল্লেখ করেন। সব মিলিয়ে, প্রেসিডেন্ট লি’র এই বক্তব্য এশীয়-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের ভূ-রাজনীতিতে দক্ষিণ কোরিয়ার একটি ভারসাম্যপূর্ণ ও শক্তিশালী অবস্থানের ইঙ্গিত দেয়।