পিটিআই স্পষ্ট করে জানিয়েছে, খাইবার পাখতুনখোয়ায় (কেপি) সামরিক অভিযানের বিরোধিতা করা আর সন্ত্রাসীদের সমর্থন করা এক বিষয় নয়। বিবৃতিতে পিটিআই উল্লেখ করেছে, খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশে তাদের দল ক্ষমতায় থাকলেও সামরিক অভিযানের বিরোধিতা কেবল তাদের একক সিদ্ধান্ত নয়। বরং ২০২৫ সালের ১২ নভেম্বর প্রাদেশিক সরকারের আয়োজিত ‘শান্তি জিরগা’য় সকল রাজনৈতিক ও সামাজিক পক্ষ একমত হয়েছিল যে, সামরিক শক্তি প্রয়োগ কোনো সমস্যার টেকসই বা স্থায়ী সমাধান হতে পারে না।
দলের মতে, রাজনৈতিক বিরোধকে সংবাদ সম্মেলনে টেনে আনা এবং একটি নির্দিষ্ট দল ও প্রদেশের দিকে আঙুল তোলা দেশের প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠানের জন্য শোভনীয় নয়। পিটিআই এই দাবিও প্রত্যাখ্যান করেছে যে সন্ত্রাসীরা তাদের দলকে লক্ষ্যবস্তু করে না। তারা একে ‘সম্পূর্ণ মিথ্যা’ আখ্যা দিয়ে জানায়, অতীতে খোদ ইমরান খান এবং দলের অন্য নেতাদের জন্য একাধিকবার ‘থ্রেট অ্যালার্ট’ বা হামলার সতর্কতা জারি করেছিল রাষ্ট্রীয় সংস্থাই। এছাড়া সন্ত্রাসীদের হামলায় দলের বহু নেতাকর্মী শহীদ ও আহত হয়েছেন।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ইমরান খান যখন কারাগারে বন্দি এবং নিজের আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ থেকে বঞ্চিত, তখন জনসমক্ষে তার বিরুদ্ধে একতরফা অভিযোগ তোলা কোনোভাবেই ন্যায়সংগত নয়। এদিকে, খাইবার পাখতুনখোয়ার মুখ্যমন্ত্রী সোহেল আফ্রিদি এক পৃথক বিবৃতিতে সন্ত্রাস দমনে কেন্দ্রীয় সরকারের নীতির কঠোর সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেন, “সমস্যা শুধু এটা নয় যে রাষ্ট্র সন্ত্রাস দমনে আন্তরিক নয়; সমস্যা হলো মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা, জনপ্রতিনিধি এবং স্থানীয় জনগণকে আস্থায় না নিয়েই বদ্ধ ঘরে বসে সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে।”
তিনি পরিসংখ্যান তুলে ধরে বলেন, এ পর্যন্ত ২২টি বড় সামরিক অভিযান এবং প্রায় ১৪ হাজার গোয়েন্দাভিত্তিক অভিযান (আইবিও) চালানোর পরও সন্ত্রাসবাদ নির্মূল হয়নি। তাই ব্যর্থ কৌশলের পুনরাবৃত্তি না করে অবিলম্বে নীতিনির্ারণে মৌলিক পরিবর্তন বা ‘পলিসি শিফট’ আনার আহ্বান জানান তিনি। মুখ্যমন্ত্রী প্রশ্ন তোলেন, অতীতের কৌশল যেখানে জানমালের বিপুল ক্ষতি সত্ত্বেও কাঙ্ক্ষিত ফল দিতে ব্যর্থ হয়েছে, সেখানে একই পথে হেঁটে এবার ভিন্ন ফলের নিশ্চয়তা কে দেবে?
পিটিআইয়ের মতে, জাতীয় নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে তারা সর্বদা আপসহীন এবং সংবিধানের কাঠামোর ভেতরে থেকে যেকোনো রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সহযোগিতা করতে প্রস্তুত। তবে সন্ত্রাসবাদের মতো স্পর্শকাতর জাতীয় ইস্যুতে রাজনীতি না করে জাতীয় ঐক্য বজায় রাখার ওপর জোর দিয়েছে দলটি। উল্লেখ্য, আইএসপিআর প্রধান লেফট্যানেন্ট জেনারেল আহমেদ শরীফ চৌধুরী সম্প্রতি এক সংবাদ সম্মেলনে নাম না করে পিটিআইয়ের শাসনামলে সন্ত্রাসীদের সঙ্গে আলোচনার উদ্যোগের তীব্র সমালোচনা করেছিলেন।