মঙ্গলবার, জানুয়ারী ২০, ২০২৬
৭ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সাংহাইয়ে কোরিয়ার অস্থায়ী সরকার ভবনের শতবর্ষ উদযাপন

আর এন এস আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৭ জানুয়ারী, ২০২৬, ০৭:৩৭ পিএম

সাংহাইয়ে কোরিয়ার অস্থায়ী সরকার ভবনের শতবর্ষ উদযাপন
ছবি: Yonhap

দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে মিউং বুধবার চীনের সাংহাইয়ে অবস্থিত কোরিয়ার ঐতিহাসিক অস্থায়ী সরকার ভবন পরিদর্শন করেছেন। ভবনটি নির্মাণের ১০০ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে তিনি জাপানি ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে লড়াই করা বীরদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

 

একই সঙ্গে তিনি নির্বাসিত অস্থায়ী সরকারের নেতৃত্বদানকারী এবং কোরিয়ার স্বাধীনতা আন্দোলনের অন্যতম মহানায়ক কিম কু-এর (১৮৭৬-১৯৪৯) ১৫০তম জন্মবার্ষিকীও উদযাপন করেন। প্রেসিডেন্ট লি তার বক্তব্যে সিউল এবং বেইজিংয়ের সার্বভৌমত্ব হারানো এবং স্বাধীনতার জন্য লড়াই করার অভিন্ন ইতিহাসের ওপর আলোকপাত করেন। এই ঐতিহাসিক স্মৃতিচারণের মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে বন্ধুত্ব ও সহযোগিতা আরও গভীর হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

 

তিনি বলেন, “স্বাধীনতা ও মুক্তির জন্য কোরিয়ান ও চীনা জনগণের তীব্র সংগ্রাম ইতিহাসে খোদাই হয়ে থাকবে এবং এটিই আমাদের দুই জাতির সম্পর্কের মূল ভিত্তি এবং একাত্মতার শেকড়।” উল্লেখযোগ্য যে, ১৯২৬ থেকে ১৯৩২ সাল পর্যন্ত সাংহাইয়ের এই ভবনটিই ছিল কোরিয়ান অস্থায়ী সরকারের প্রধান কার্যালয়। ১৯৫০-৫৩ সালের কোরীয় যুদ্ধের ধ্বংসস্তূপ থেকে উঠে এসে দক্ষিণ কোরিয়া আজ যে অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও গণতান্ত্রিক শক্তিতে পরিণত হয়েছে, তার জন্য পূর্বপুরুষদের ত্যাগের কথা কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ করেন প্রেসিডেন্ট লি।

 

তিনি বলেন, “আমাদের পূর্বপুরুষরা দেশ রক্ষায় জীবন দিয়ে যে মহান ত্যাগ স্বীকার করেছেন, তা ছাড়া আজকের এই রিপাবলিক অব কোরিয়ার অস্তিত্ব থাকা সম্ভব ছিল না।” ১৯০০ সালের শুরুর দিকে কোরিয়ার স্বাধীনতা আন্দোলনে চীনের অপরিহার্য ভূমিকার কথা উল্লেখ করে প্রেসিডেন্ট বলেন, “কোরিয়ার স্বাধীনতা আন্দোলনের ইতিহাস চীনকে ছাড়া বলা সম্ভব নয়। আমাদের আন্দোলনের সঙ্গে সম্পর্কিত প্রায় অর্ধেক ঐতিহাসিক স্থানই চীনে অবস্থিত, যা ছিল আমাদের সংগ্রামের প্রধান মঞ্চ।”

 

এর আগে বেইজিংয়ে চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক আলোচনার সময় লি ঐতিহাসিক স্থানগুলো সংরক্ষণ এবং সাবেক স্বাধীনতা সংগ্রামীদের দেহাবশেষ উদ্ধারে চীনা সরকারের সহযোগিতা চেয়েছেন। দক্ষিণ কোরিয়াও এ বিষয়ে তৎপরতা বাড়াবে বলে তিনি প্রতিশ্রুতি দেন। প্রেসিডেন্টের এই সফরে তার সঙ্গে ছিলেন ফার্স্ট লেডি কিম হে কিয়ং, ভেটেরান্স মন্ত্রী কওন ওহ-উল এবং কিম কু-এর প্রপৌত্র ও ক্ষমতাসীন ডেমোক্রেটিক পার্টির এমপি কিম ইয়ং-ম্যানসহ স্বাধীনতা সংগ্রামীদের বেশ কয়েকজন বংশধর।

 

- EN