রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীদের দাবি, গত বছর আদালতের কার্যক্রম চলাকালীন সহিংসতা উসকে দেওয়া এবং সরকারি কাজে বাধা সৃষ্টির পেছনে এই যাজকের প্রত্যক্ষ ভূমিকা ছিল। ঘটনার সূত্রপাত হয়েছিল গত বছরের ১৯ জানুয়ারি। ২০২৪ সালের ৩ ডিসেম্বর দেশজুড়ে বিতর্কিত সামরিক আইন বা মার্শাল ল জারি করেছিলেন তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ইউন সুক ইওল। এই ঘটনার জেরে তাকে আটক করা হয় এবং পরবর্তীতে আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি করা হয়।
গত বছরের শুরুতে সিউল ওয়েস্টার্ন ডিস্ট্রিক্ট কোর্ট যখন সাবেক প্রেসিডেন্টের আটকাদেশের মেয়াদ বৃদ্ধির ঘোষণা দেয়, তখন আদালত চত্বরে চরম বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। অভিযোগ রয়েছে, আদালতের এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে সাবেক প্রেসিডেন্টের কট্টর সমর্থকরা আদালত ভবনে জোরপূর্বক প্রবেশ করে এবং ব্যাপক ভাঙচুর ও দাঙ্গায় লিপ্ত হয়। প্রসিকিউটরদের তদন্তে উঠে এসেছে যে, সিউলের সারং জেইল চার্চের প্রধান যাজক জিওন কোয়াং-হুন এই সহিংসতায় তার অনুসারীদের উৎসাহিত করেছিলেন।
জিওন কোয়াং-হুন দক্ষিণ কোরিয়ার রক্ষণশীল রাজনীতির একজন পরিচিত মুখ এবং তিনি দীর্ঘদিন ধরেই ডানপন্থী আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত। প্রসিকিউশন তার বিরুদ্ধে বেআইনি অনুপ্রবেশে সহায়তা এবং সরকারি কর্মকর্তাদের দায়িত্ব পালনে বাধা দেওয়ার মতো গুরুতর অভিযোগ এনেছে। তদন্তকারীদের মতে, আদালতের মতো স্পর্শকাতর স্থানে হামলা চালানো এবং বিচারিক প্রক্রিয়ায় ভীতি প্রদর্শন করা আইনের শাসনের ওপর সরাসরি আঘাত। তাই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচারের স্বার্থে তাকে গ্রেপ্তার করা প্রয়োজন বলে মনে করছে রাষ্ট্রপক্ষ।
সেদিনের সেই দাঙ্গার ঘটনা দক্ষিণ কোরিয়ার রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছিল। সাবেক প্রেসিডেন্টের মার্শাল ল জারির ঘটনাটি এমনিতেই দেশটির গণতন্ত্রের জন্য এক বড় ধাক্কা ছিল। তার ওপর বিচারিক প্রক্রিয়ার সময় সমর্থকদের এমন সহিংস আচরণ পরিস্থিতির জটিলতাকে আরও বাড়িয়ে তোলে। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, সেদিন উত্তেজিত জনতা আদালত প্রাঙ্গণের নিরাপত্তা বেষ্টনী ভেঙে ফেলে এবং স্লোগান দিতে দিতে ভবনের ভেতরে ঢুকে পড়ার চেষ্টা করে।
পুলিশ ও নিরাপত্তা রক্ষীদের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়, যা নিয়ন্ত্রণ করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে বেশ বেগ পেতে হয়েছিল। বিশ্লেষকদের মতে, এই গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আবেদন দক্ষিণ কোরিয়ার বর্তমান প্রশাসনের কঠোর অবস্থানেরই ইঙ্গিত। রাজনৈতিক বা ধর্মীয় পরিচয় যা-ই হোক না কেন, আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়-এই বার্তাটিই হয়তো সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে চাইছে কর্তৃপক্ষ। আগামী দিনগুলোতে আদালত এই পরোয়ানার বিষয়ে কী সিদ্ধান্ত নেয় এবং জিওন কোয়াং-হুনের পক্ষ থেকে কী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়, সেদিকেই এখন সবার নজর। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সিউলে আবারও রাজনৈতিক উত্তেজনা বৃদ্ধির আশঙ্কা করছেন কেউ কেউ।