প্রাথমিক তদন্তে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণ থেকেই এই বিপর্যয়ের সূত্রপাত বলে ধারণা করা হচ্ছে। পাকিস্তান ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল সায়েন্সেস (পিমস)-এর মুখপাত্র ডা. আনিজা জলিল গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, হতাহতদের দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। হাসপাতালে আনার পরপরই ছয়জনকে মৃত ঘোষণা করা হয়। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক, বিশেষ করে একজনের শরীরের ২০ শতাংশ গভীরভাবে দগ্ধ হয়েছে।
হাসপাতালের নির্বাহী পরিচালক ডা. রানা ইমরান সিকান্দারের নির্দেশে তাৎক্ষণিকভাবে জরুরি বিভাগে ‘রেড অ্যালার্ট’ বা জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে এবং আহতদের সর্বোচ্চ চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করা হচ্ছে। এছাড়া আরও দুটি মরদেহ এবং একজন আহত ব্যক্তিকে স্থানীয় ক্যাপিটাল হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। ইসলামাবাদের অতিরিক্ত ডেপুটি কমিশনার (জেনারেল) সাহেবজাদা ইউসুফ ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে জানান, বিস্ফোরণের তীব্রতা এতটাই ভয়াবহ ছিল যে, এতে ঘটনাস্থলসহ আশেপাশের অন্তত চারটি বাড়ি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ধ্বংসস্তূপের নিচে কেউ আটকা পড়েছে কি না, তা নিশ্চিত করতে উদ্ধারকারী দলগুলো আধুনিক প্রযুক্তি ও বিশেষ সরঞ্জাম ব্যবহার করে তল্লাশি চালায়। তিনি নিশ্চিত করেন, দুর্ভাগ্যজনকভাবে নিহতদের তালিকায় বিয়ের আসরে থাকা নবদম্পতিও রয়েছেন, যা ঘটনাটিকে আরও হৃদয়বিদারক করে তুলেছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে ইতিমধ্যে একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই মর্মান্তিক ঘটনায় গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন পাকিস্তানের সিনেট চেয়ারম্যান ইউসুফ রাজা গিলানি।
এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, “একটি পরিবারের বিয়ের উৎসব এভাবে মাতমে পরিণত হওয়া অত্যন্ত বেদনাদায়ক এবং মেনে নেওয়া কঠিন।” তিনি নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানানোর পাশাপাশি গ্যাস সিলিন্ডার ব্যবহারের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা বিধিমালা কঠোরভাবে পালনের আহ্বান জানান।
অনিরাপদ সিলিন্ডার ব্যবহার রোধে কার্যকর কৌশল প্রণয়ন এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে তাদের দায়িত্ব পালনে আরও সচেষ্ট হওয়ার নির্দেশ দেন তিনি। রবিবার বিকেলের মধ্যেই উদ্ধার অভিযান সমাপ্ত ঘোষণা করা হলেও এলাকাজুড়ে এখন কেবলই স্বজনদের আহাজারি আর ধ্বংসস্তূপের নিস্তব্ধতা বিরাজ করছে।