পাকিস্তান সেনাবাহিনীর জনসংযোগ শাখা (আইএসপিআর) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে উত্তর ওয়াজিরস্তান এবং কুররাম জেলায় দুটি পৃথক এবং বড় ধরণের অভিযান পরিচালনা করা হয়। উত্তর ওয়াজিরস্তানে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে তীব্র বন্দুকযুদ্ধে ছয়জন সন্ত্রাসী নিহত হয়। একই সময়ে কুররাম জেলায় পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর যৌথ অভিযানে আরও পাঁচজন সন্ত্রাসী প্রাণ হারায়।
আইএসপিআর নিহতদের ‘খারিজি’ বা রাষ্ট্রবিরোধী জঙ্গি হিসেবে অভিহিত করেছে এবং তাদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে। সেনাবাহিনী জানিয়েছে, নিহতরা দীর্ঘদিন ধরে নিরাপত্তা বাহিনী এবং সাধারণ নাগরিকদের ওপর হামলার সঙ্গে জড়িত ছিল এবং অঞ্চলটিতে অস্থিতিশীলতা তৈরির চেষ্টা করছিল। এদিকে খাইবার জেলার মালাগোড়ি এলাকায় নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সন্ত্রাসীদের আরেকটি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রের বরাতে জানা যায়, চীনা প্রকৌশলীদের নিরাপত্তার জন্য কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই এলাকায় একদল সন্দেহভাজনকে পাহাড়ের দিকে যেতে দেখে স্থানীয়রা নিরাপত্তা বাহিনীকে সতর্ক করে। এরপর শুরু হওয়া বন্দুকযুদ্ধে একজন সন্ত্রাসী নিহত হয় এবং দুজনকে জীবিত গ্রেপ্তার করা হয়। সংঘর্ষের সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সেনাবাহিনীর গানশিপ হেলিকপ্টার ও আর্টিলারি সহায়তা নেওয়া হয়।
তবে অভিযানের সফলতার পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনী ও রাজনৈতিক মহলকে চড়া মূল্যও দিতে হয়েছে। পেশোয়ারের রেগি এলাকায় অজ্ঞাত মোটরসাইকেল আরোহীদের গুলিতে সানাউল্লাহ নামে সিটিডির এক কর্মকর্তা নিহত হন। একই দিনে বাজৌর জেলার ওয়ার মামুন্দ এলাকায় আরেক সিটিডি কর্মকর্তা সাইফুর রেহমানকে গুলি করে হত্যা করা হয়। সহিংসতার শিকার হয়েছেন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বরাও।
দক্ষিণ ওয়াজিরস্তানে এক বোমা হামলায় গুরুতর আহত হওয়ার পর শনিবার জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম-ফজল (জেইউআই-এফ)-এর জ্যেষ্ঠ নেতা এবং ওয়াফাকুল মাদারিস আল-আরবিয়ার জেলা সভাপতি মাওলানা সুলতান মুহাম্মদ ওয়াজির চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। জেইউআই-এফ প্রধান মাওলানা ফজলুর রহমান এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেছেন, ধর্মীয় নেতাদের ওপর এই ধারাবাহিক হামলা রাষ্ট্রের নিরাপত্তার জন্য অশনিসংকেত।
তিনি একে কেবল ব্যক্তির ওপর হামলা নয়, বরং একটি ‘শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক মতাদর্শের’ ওপর আঘাত হিসেবে বর্ণনা করেছেন। এছাড়া আপার সাউথ ওয়াজিরস্তানে পিস কমিটির প্রধান কাদির খানের গাড়িতেও আইইডি বিস্ফোরণ ঘটানো হয়েছে, যাতে তিনি আহত হন। সব মিলিয়ে খাইবার পাখতুনখোয়ার সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি এখন প্রশাসনের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।