শনিবার, জুলাই ১৮, ২০২৬
৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নিজ অস্ত্রের গুলিতে রেলওয়ে পুলিশের এক তরুণ সদস্যের মর্মান্তিক মৃত্যু

আর এন এস ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৮ এপ্রিল, ২০২৬, ০১:২৩ পিএম

নিজ অস্ত্রের গুলিতে রেলওয়ে পুলিশের এক তরুণ সদস্যের মর্মান্তিক মৃত্যু
ছবি: সংগৃহীত

খুলনা নগরীতে কর্তব্যরত অবস্থায় নিজস্ব আগ্নেয়াস্ত্রের গুলিতে বাংলাদেশ রেলওয়ে পুলিশের এক তরুণ সদস্যের মর্মান্তিক ও অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যু হয়েছে। শনিবার ভোরে খুলনা মহানগরীর সোনাডাঙ্গা আবাসিক এলাকার দ্বিতীয় পর্যায়ে অবস্থিত রেলওয়ে জেলা পুলিশ কার্যালয়ে এই হৃদয়বিদারক ঘটনাটি ঘটে।

 

প্রাথমিক তদন্ত ও পুলিশের দেওয়া আনুষ্ঠানিক তথ্য অনুযায়ী, ওই পুলিশ সদস্য নিজের সরকারি অস্ত্র ব্যবহার করে আত্মহত্যা করেছেন বলে জোরালোভাবে ধারণা করা হচ্ছে। এই আকস্মিক ঘটনায় স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন এবং নিহতের সহকর্মীদের মধ্যে গভীর শোক ও ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

 

নিহত ওই পুলিশ কনস্টেবলের নাম সম্রাট বিশ্বাস। সাতাশ বছর বয়সী এই তরুণ পুলিশ সদস্য বৃহত্তর গোপালগঞ্জ জেলার কাশিয়ানী উপজেলার বাসিন্দা শৈলেন বিশ্বাসের সন্তান। তিনি খুলনা রেলওয়ে জেলা কার্যালয়ে অত্যন্ত নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সাথে নিজের দৈনন্দিন দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন।

 

একজন দায়িত্বশীল এবং প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যের এমন আকস্মিক ও মর্মান্তিক পরিণতিতে তার সহকর্মীসহ সকলেই গভীরভাবে হতবাক হয়ে পড়েছেন।

 

ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ সম্পর্কে খুলনা রেলওয়ে পুলিশের দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ সুপার আহমেদ মাঈনুল হাসান গণমাধ্যমের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

 

তিনি উপস্থিত সাংবাদিকদের জানান, শনিবার ভোরে কনস্টেবল সম্রাট বিশ্বাস কার্যালয়ের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সংরক্ষিত অস্ত্রাগার এলাকায় পাহারার দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন। অত্যন্ত সংবেদনশীল এই দায়িত্ব পালনকালীন সময়েই এই মর্মান্তিক ঘটনাটি সংঘটিত হয়।

 

পুলিশ সুপারের দেওয়া সুনির্দিষ্ট তথ্য মতে, আনুমানিক ভোর সাড়ে চারটা থেকে ভোর পাঁচটার মধ্যবর্তী কোনো এক সময়ে কনস্টেবল সম্রাট তার নিজের নামে বরাদ্দকৃত সরকারি রাইফেল দিয়ে নিজের মাথায় গুলি চালিয়ে আত্মহননের পথ বেছে নেন।

 

এই ঘটনার পেছনে প্রকৃত অর্থে ঠিক কী কারণ লুকিয়ে আছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে এবং পুরোপুরি স্পষ্টভাবে জানা যায়নি। পারিবারিক কোনো জটিলতা, ব্যক্তিগত পর্যায়ের হতাশা নাকি পেশাগত কোনো গভীর মানসিক চাপ তাকে এমন একটি চরম ও আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করেছে।

 

তা নিখুঁতভাবে উদঘাটনের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ইতিমধ্যে বিস্তারিত ও নিরপেক্ষ তদন্তের কাজ শুরু করেছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের মানসিক স্বাস্থ্য, কর্মক্ষেত্রের সার্বিক পরিবেশ এবং নানাবিধ মনস্তাত্ত্বিক চাপের বিষয়টি এই মর্মান্তিক ঘটনার মধ্য দিয়ে আবারও নতুন করে সচেতন মহলে আলোচনায় উঠে এসেছে।

 

খুলনা রেলওয়ে পুলিশ প্রশাসন নিহত ওই কনস্টেবলের মরদেহটি দ্রুততম সময়ের মধ্যে উদ্ধার করে আইনি প্রক্রিয়া ও ময়নাতদন্তের জন্য স্থানীয় সরকারি হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করেছে।

 

একইসাথে ঘটনাস্থল থেকে প্রয়োজনীয় সকল পারিপার্শ্বিক আলামত অত্যন্ত সতর্কতার সাথে সংগ্রহ করা হয়েছে।  ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা পুরো বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্ব, স্বচ্ছতা ও সংবেদনশীলতার সাথে খতিয়ে দেখছেন বলে নিশ্চিত করা হয়েছে।

 

একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং পেশাদার বাহিনীর একজন তরুণ সদস্যের এমন অকাল মৃত্যু সত্যিই অনাকাঙ্ক্ষিত। এই মর্মান্তিক ঘটনা তার অসহায় পরিবার ও দীর্ঘদিনের সহকর্মীদের জন্য এক গভীর শোক ও অপূরণীয় ক্ষতি বয়ে এনেছে।