শনিবার দুপুরে উপজেলার চুনতি বনপুকুর এলাকার ফোর সিজন হোটেলের সামনে এই ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে। বেপরোয়া গতি এবং একটি যাত্রীবাহী গাড়ি আরেকটিকে অতিক্রম করার অসুস্থ প্রতিযোগিতার কারণেই এই মর্মান্তিক প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে বলে স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন।
এই দুর্ঘটনা আবারও প্রমাণ করল যে, মহাসড়কগুলোতে পরিবহন চালকদের অসতর্কতা সাধারণ মানুষের জীবনের জন্য কত বড় হুমকির কারণ। নিহতদের পরিচয় ইতোমধ্যে নিশ্চিত করেছে পুলিশ প্রশাসন।
তারা হলেন-পটিয়া উপজেলার বদিউল আলমের স্ত্রী রেহেনা আক্তার, ঝিনাইদহ সদর উপজেলার গোপালপুর এলাকার চান আলীর ছেলে নাঈমুল ইসলাম জিহান, একই এলাকার আনোয়ার হোসেনের ছেলে নাঈমুল ইসলাম এবং ভোলা জেলার বাসিন্দা মনির আহমদ।
মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনার খবর পেয়ে নিহতদের স্বজনদের মধ্যে গভীর শোকের ছায়া নেমে আসে এবং হাসপাতাল প্রাঙ্গণে এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের বিস্তারিত বিবরণ অনুযায়ী, মারসা পরিবহনের দুটি যাত্রীবাহী বাস তীব্র গতিতে একে অপরকে পেছনে ফেলার প্রতিযোগিতায় লিপ্ত ছিল।
একপর্যায়ে যাত্রীবোঝাই একটি বাস পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে এবং মহাসড়কের পাশের গভীর খাদে ছিটকে পড়ে একটি বড় গাছের সঙ্গে সজোরে ধাক্কা খায়। এই ভয়াবহ সংঘর্ষের ফলে বাসের সামনের অংশ দুমড়েমুচড়ে যায় এবং দুর্ঘটনাস্থলেই একজনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়।
পরবর্তীতে গুরুতর আহত অবস্থায় অন্যান্য যাত্রীদের উদ্ধার করে দ্রুত স্থানীয় হাসপাতাল ও বিভিন্ন চিকিৎসাকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও তিনজনের মৃত্যু হয়।
আহত বাকি পনেরো জন বর্তমানে বিভিন্ন হাসপাতালে নিবিড় পর্যবেক্ষণে চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং তাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে। দুর্ঘটনার পরপরই চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে যান চলাচল বেশ কিছুক্ষণের জন্য মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়, যার ফলে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।
খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যান আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা। তারা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার পাশাপাশি উদ্ধারকাজে সরাসরি অংশ নেন।
দোহাজারী হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সালাউদ্দীন চৌধুরী এই দুর্ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে গণমাধ্যমকে জানান, প্রয়োজনীয় আইনি ও চিকিৎসা প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পর নিহতদের মরদেহ তাদের নিজ নিজ পরিবারের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করা হবে।
এদিকে, এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার পর স্থানীয় উত্তেজিত জনতা ক্ষুব্ধ হয়ে গুরুত্বপূর্ণ এই মহাসড়কে মারসা পরিবহনের সব ধরনের যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেয়। এর ফলে ওই এলাকায় যাতায়াতকারী সাধারণ যাত্রীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েন।
সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে এবং যান চলাচল সম্পূর্ণ স্বাভাবিক করতে হাইওয়ে পুলিশের একাধিক দল সেখানে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা এড়াতে চালকদের ট্রাফিক আইন ও গতিসীমা কঠোরভাবে মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে।