এই ন্যক্কারজনক ও অমানবিক ঘটনার প্রতিবাদে এবং অভিযুক্ত যুবককে দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবিতে স্থানীয় একটি বহুতল ভবন ঘেরাও করে তীব্র বিক্ষোভ শুরু করেছেন ওই এলাকার ক্ষুব্ধ বাসিন্দারা।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং অভিযুক্তকে আটক করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলে বিক্ষুব্ধ জনতা উল্টো পুলিশকেই দীর্ঘ সময় ধরে অবরুদ্ধ করে রাখে।
বৃহস্পতিবার বিকেল পাঁচটার দিকে নগরীর বাকলিয়া থানার অধীনস্থ চেয়ারম্যানঘাটা এলাকার আবু জাফর সড়কে এই অনাকাঙ্ক্ষিত ও উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশের দায়িত্বশীল সূত্রের বরাতে জানা যায়, শিশু নির্যাতনের এই মর্মান্তিক খবর এলাকায় জানাজানি হওয়ার পরপরই সাধারণ মানুষের মাঝে গভীর শোক ও তীব্র ক্ষোভের দাবানল ছড়িয়ে পড়ে।
ক্ষুব্ধ জনতা অবিলম্বে অপরাধীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে রাস্তায় নেমে আসে এবং অভিযুক্তের সম্ভাব্য অবস্থানস্থল ঘিরে ফেলে। এমন পরিস্থিতিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় বাকলিয়া থানা পুলিশের একটি বিশেষ দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়।
কিন্তু পুলিশ যখন অভিযুক্ত ব্যক্তিকে ওই নির্দিষ্ট ভবন থেকে বের করে আইনি হেফাজতে নেওয়ার চেষ্টা করে, তখন উত্তেজিত জনতা তাদের পথরোধ করে দাঁড়ায়। তাদের দাবি, আইনি প্রক্রিয়ার পাশাপাশি অপরাধীকে জনসমক্ষেই জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে।
সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত বিক্ষুব্ধ জনতার প্রবল বাধার মুখে পুলিশ অভিযুক্তকে ওই ভবন থেকে উদ্ধার করে নিরাপদে থানায় নিয়ে যেতে পারেনি।
অন্যদিকে, পাশবিক নির্যাতনের শিকার ওই নিষ্পাপ শিশুটিকে দ্রুত উদ্ধার করে উন্নত চিকিৎসা ও শারীরিক পরীক্ষার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বিশেষায়িত বিভাগ ‘ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে’ ভর্তি করা হয়েছে।
বর্তমানে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে সেখানে শিশুটির চিকিৎসা কার্যক্রম চলমান রয়েছে। সার্বিক অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সম্পর্কে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) দক্ষিণ বিভাগের উপকমিশনার হোসেইন মোহাম্মদ কবির ভুঁইয়া গণমাধ্যমের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন।
তিনি নিশ্চিত করেছেন যে, গুরুতর আহত ভুক্তভোগী শিশুটিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে চিকিৎসার জন্য নির্ধারিত চিকিৎসা কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে এবং ঘটনাস্থলের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সেখানে বিপুলসংখ্যক অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
পুলিশের এই ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা আরও জানান, স্থানীয় উত্তেজিত জনতা প্রবলভাবে বিশ্বাস করছে যে অভিযুক্ত যুবক ওই ভবনের ভেতরেই আত্মগোপন করে আছে। এই ধারণার বশবর্তী হয়ে তারা পুরো ভবনটি চারপাশ থেকে কড়া পাহারায় ঘিরে রেখেছে এবং ভেতর থেকে কাউকে বাইরে বের হতে দিচ্ছে না।
পরিস্থিতি অত্যন্ত গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করে তিনি নিজে ওই ঘটনাস্থলের দিকে রওনা হয়েছেন বলে গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন। অভিযুক্ত ব্যক্তিকে যেকোনো মূল্যে দ্রুততম সময়ের মধ্যে আইনের আওতায় এনে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে তিনি সাধারণ মানুষকে আশ্বস্ত করেন।
আন্তর্জাতিক মানবাধিকার মানদণ্ড অনুযায়ী, শিশুদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যেকোনো রাষ্ট্র ও সমাজের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার হওয়া উচিত। অথচ চট্টগ্রামে শিশু নির্যাতনের এই অমানবিক ঘটনা কোনো বিচ্ছিন্ন চিত্র নয়।
এই ঘটনার ঠিক এক দিন আগেই জেলার সাতকানিয়া উপজেলায় পাঁচ বছর বয়সী আরেক কন্যাশিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে একজন শিক্ষকের বিরুদ্ধে থানায় আনুষ্ঠানিক মামলা দায়ের করা হয়েছে।
পরপর দুই দিনে কোমলমতি শিশুদের ওপর এমন দুটি লোমহর্ষক পাশবিক নির্যাতনের ঘটনা প্রকাশ পাওয়ায় বৃহত্তর চট্টগ্রামের সাধারণ মানুষের মনে চরম উদ্বেগ, সামাজিক নিরাপত্তাহীনতা এবং অপরাধীদের বিচারহীনতা নিয়ে গভীর ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।
সচেতন নাগরিক সমাজ মনে করছে, দ্রুততম সময়ের মধ্যে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে অপরাধীদের আইনের মুখোমুখি করে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা না গেলে জনমনে প্রশাসনের প্রতি আস্থার সংকট তৈরি হতে পারে।