শনিবার, জুলাই ১৮, ২০২৬
৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ড

এক মাসের মধ্যে খুনির মৃত্যুদণ্ড নিশ্চিতের ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর

আর এন এস আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৩ মে, ২০২৬, ০৬:০৫ পিএম

এক মাসের মধ্যে খুনির মৃত্যুদণ্ড নিশ্চিতের ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর
ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর পল্লবীতে আট বছর বয়সী নিষ্পাপ শিশু রামিসা আক্তারকে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় দেশজুড়ে যে তীব্র শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে, তার প্রেক্ষিতে অত্যন্ত কঠোর ও অনমনীয় অবস্থান ব্যক্ত করেছে সরকার।

 

এই বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের প্রধান অপরাধী ঘাতক সোহেল রানাকে আগামী এক মাসের মধ্যে বিচারের আওতায় এনে সর্বোচ্চ শাস্তি তথা মৃত্যুদণ্ড নিশ্চিত করার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

 

নারী ও শিশুদের প্রতি যেকোনো ধরনের সহিংসতা রোধে বর্তমান সরকার যে বিন্দুমাত্র ছাড় দেবে না, সেটিও তিনি তাঁর বক্তব্যে অত্যন্ত স্পষ্টভাবে ও দ্ব্যর্থহীন ভাষায় তুলে ধরেছেন।

 

শনিবার, ২৩ মে বিকেলে ময়মনসিংহের ত্রিশালে অবস্থিত ঐতিহাসিক নজরুল মঞ্চে এক বিশেষ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এই গুরুগম্ভীর ঘোষণা দেন।

 

মূলত জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৭তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত তিন দিনব্যাপী আড়ম্বরপূর্ণ উৎসবের শুভ উদ্বোধন এবং 'নজরুল পুরস্কার-২০২৫' প্রদান অনুষ্ঠানের মঞ্চ থেকেই দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা ও সামাজিক নিরাপত্তা নিয়ে তিনি এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, সময়োপযোগী ও সংবেদনশীল বার্তাটি প্রদান করেন।

 

রাষ্ট্রীয় এই অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, একটি স্বাধীন ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশে শিশু বা নারীর প্রতি বিন্দুমাত্র নির্যাতন কিংবা নিষ্ঠুরতা বর্তমান সরকার কোনো অবস্থাতেই মেনে নেবে না।

 

সমাজে ন্যায়বিচার ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার অংশ হিসেবে সরকার অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে রামিসার হত্যাকারীর বিচারকাজ সম্পন্ন করবে। আগামী এক মাসের মধ্যে অপরাধী সোহেল রানার সর্বোচ্চ আইনি শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদণ্ড নিশ্চিত করা হবে বলে তিনি শোকসন্তপ্ত পরিবার ও দেশবাসীকে আশ্বস্ত করেন।

 

অপরাধীদের প্রতি কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে আরও উল্লেখ করেন যে, এই বিচার প্রক্রিয়া এমনভাবে এবং এত দ্রুত সম্পন্ন করা হবে, যা দেশের বিচারব্যবস্থায় একটি মাইলফলক ও দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

 

দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই সর্বোচ্চ সাজা কার্যকর করার মূল উদ্দেশ্য হলো সমাজকে একটি সুস্পষ্ট ও কঠোর বার্তা দেওয়া, যাতে ভবিষ্যতে আর কোনো অপরাধী দেশের কোনো শিশু বা নারীর ওপর এমন পৈশাচিক নির্যাতন চালানোর সাহস না পায়।

 

সাধারণ মানুষের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং একটি মানবিক ও নিরাপদ সমাজ গঠনে বর্তমান সরকার যে পুরোপুরি বদ্ধপরিকর, তা প্রধানমন্ত্রীর এই বলিষ্ঠ ঘোষণার মধ্য দিয়ে আবারও সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয়েছে।