রবিবার, জুন ২৮, ২০২৬
১৪ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে শিক্ষার্থীদের প্রস্তুত হওয়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

আর এন এস ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৮ জুন, ২০২৬, ০৪:৫৮ পিএম

সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে শিক্ষার্থীদের প্রস্তুত হওয়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
ছবি: সংগৃহীত

একটি উন্নত, আধুনিক ও সমৃদ্ধশালী বাংলাদেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যে দেশের বর্তমান প্রজন্মকে এখন থেকেই মানসিকভাবে প্রস্তুত হওয়ার উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমান।

 

রবিবার, ২৮ জুন, রাজধানী ঢাকার শেরেবাংলা নগরে অবস্থিত জাতীয় সংসদ ভবনে পরিদর্শনে আসা দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও দর্শনার্থীদের উদ্দেশে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য প্রদানকালে তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ আহ্বান জানান।

 

তিনি উল্লেখ করেন, আজকের তরুণ প্রজন্মই আগামী দিনের বাংলাদেশের মূল চালিকাশক্তি এবং জাতির ভবিষ্যৎ কর্ণধার। তাই দেশ গড়ার মহৎ কাজে নিজেদের আত্মনিয়োগ করতে হলে পুঁথিগত বিদ্যার পাশাপাশি ব্যবহারিক জ্ঞান ও আধুনিক দক্ষতা অর্জনের কোনো বিকল্প নেই বলে তিনি মনে করেন।

 

এদিন দুপুরে জাতীয় সংসদ ভবনের অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের জন্য সংরক্ষিত বিশেষ ভোজনালয়ে প্রধানমন্ত্রীর নিজস্ব উদ্যোগে এবং বিশেষ আয়োজনে এক প্রীতি মধ্যাহ্নভোজের আয়োজন করা হয়।

 

দেশের ভবিষ্যৎ নাগরিকদের সম্মানার্থে আয়োজিত এই আনন্দঘন মধ্যাহ্নভোজে প্রধানমন্ত্রী স্বয়ং উপস্থিত থেকে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অত্যন্ত আন্তরিক পরিবেশে কুশল বিনিময় করেন। এই বিশেষ আয়োজনে আপ্যায়নের পাশাপাশি তিনি শিক্ষার্থীদের দৈনন্দিন জীবন, পড়াশোনার অগ্রগতি এবং ভবিষ্যৎ জীবনের গঠনমূলক পরিকল্পনার বিষয়েও খোঁজখবর নেন।

 

প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত স্নেহশীল ও অভিভাবকসুলভ ভাষায় শিক্ষার্থীদের পাঠ্যবইয়ের পড়াশোনার গণ্ডি পেরিয়ে বহির্বিশ্বের জ্ঞানচর্চার প্রসার ঘটানোর পরামর্শ দেন। একইসঙ্গে তিনি শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের জন্য নিয়মিত খেলাধুলা এবং বিভিন্ন সহশিক্ষা কার্যক্রমে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।

 

তিনি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন, বহুমুখী প্রতিভার বিকাশের মাধ্যমেই শিক্ষার্থীরা নিজেদের যোগ্য, দক্ষ ও আদর্শ সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে সক্ষম হবে, যা একটি স্বাধীন জাতির সার্বিক উন্নয়নের প্রধান পূর্বশর্ত।

 

শিক্ষার্থীদের অনুপ্রাণিত করতে গিয়ে সরকারপ্রধান অত্যন্ত জোরালো ভাষায় বলেন, "বর্তমান প্রজন্মই দেশের ভবিষ্যৎ। তাই একটি উন্নত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে শিক্ষার্থীদের প্রস্তুত থাকতে হবে।" তার এই প্রেরণাদায়ী বক্তব্য উপস্থিত শিক্ষার্থীদের মধ্যে এক নতুন আশার সঞ্চার করে।

 

প্রধানমন্ত্রীর এই দিকনির্দেশনামূলক বার্তা শুধু উপস্থিত শিক্ষার্থীদের জন্যই নয়, বরং সমগ্র দেশের ছাত্রসমাজের জন্য এক ইতিবাচক ও দূরদর্শী বার্তা হিসেবে কাজ করবে বলে উপস্থিত শিক্ষাবিদরা মনে করছেন।

 

বিশ্বায়নের এই যুগে প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে নিজেদের অবস্থান সুদৃঢ় করতে হলে শিক্ষার্থীদের এখন থেকেই দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে কাজ করার কোনো বিকল্প নেই বলেও এই আয়োজনের আলোচনায় উঠে আসে।

 

জাতীয় সংসদ ভবনের বিশেষ ওই ভোজনালয়ে আয়োজিত এই প্রীতিপূর্ণ মধ্যাহ্নভোজে দেশের স্বনামধন্য কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সংগঠনের নির্বাচিত প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণের বিরল সুযোগ পান।

 

আমন্ত্রিত অতিথিদের এই বিশেষ তালিকায় ছিলেন কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ-এর আইন বিভাগের উনত্রিশ জন উদ্যমী শিক্ষার্থী, গণসাক্ষরতা অভিযানের সহযোগী সংস্থা ‘সুরভী’র মাধ্যমে আসা একুশ জন সুবিধাবঞ্চিত শিক্ষার্থী ও তাদের নিবেদিতপ্রাণ শিক্ষকবৃন্দ এবং স্বনামধন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান তেজগাঁও কলেজ বিতর্ক পরিষদের ষোলো জন বিতার্কিক শিক্ষার্থী ও শিক্ষক।

 

বিভিন্ন আর্থসামাজিক প্রেক্ষাপট থেকে আসা এই শিক্ষার্থীদের মিলনমেলা পুরো অনুষ্ঠানটিকে আরও বেশি তাৎপর্যপূর্ণ ও প্রাণবন্ত করে তোলে। আমন্ত্রিত এই শিক্ষার্থীরা মূলত জাতীয় সংসদ ভবন পরিদর্শন কর্মসূচির একটি বিশেষ অংশ হিসেবে সেদিন সেখানে উপস্থিত হয়েছিলেন।

 

সরকারের এই ব্যতিক্রমী ও শিক্ষার্থীবান্ধব উদ্যোগের ফলে শিক্ষার্থীরা দিনব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করে জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের নানাবিধ প্রাতিষ্ঠানিক কার্যক্রম ও দেশের আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়া সম্পর্কে একেবারে বাস্তব ও সম্যক ধারণা লাভ করেন।

 

তাত্ত্বিক জ্ঞানের পাশাপাশি ব্যবহারিক জ্ঞান অর্জনের এই সুযোগ তাদের জন্য ছিল এক অনন্য সাধারণ অভিজ্ঞতা। সংসদ ভবনের অপরূপ ও বিশ্বনন্দিত স্থাপত্যশৈলী দর্শনের পাশাপাশি তারা অত্যন্ত সমৃদ্ধ সংসদীয় গ্রন্থাগার পরিদর্শন করেন, যেখানে দেশের আইন, ইতিহাস, সংস্কৃতি ও রাজনীতির বহু দুর্লভ গ্রন্থের বিশাল সংগ্রহ রয়েছে।

 

এরপর তারা সংসদ ভবনের উত্তর প্লাজায় আয়োজিত এক আনন্দমুখর আলোকচিত্র ধারণ পর্বে অংশ নেন এবং নিজেদের এই ঐতিহাসিক সফরের স্মৃতি ক্যামেরাবন্দি করেন। পরিদর্শনের সবচেয়ে আকর্ষণীয় পর্ব ছিল সরাসরি সংসদ অধিবেশন কক্ষে বসে সংসদের মূল কার্যপ্রণালী, আইন প্রণেতাদের যুক্তিপূর্ণ বিতর্ক এবং রাষ্ট্র পরিচালনার গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা স্বচক্ষে দেখার সুযোগ লাভ করা, যা তাদের গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ সম্পর্কে আরও সচেতন করে তুলেছে।

 

দেশের সর্বোচ্চ আইন প্রণয়নকারী প্রতিষ্ঠান জাতীয় সংসদের অধিবেশন সরাসরি দেখার সুযোগ লাভের পাশাপাশি সরকারপ্রধানের আমন্ত্রণে এমন একটি সম্মানজনক ও প্রীতিপূর্ণ আয়োজনে অংশগ্রহণ করতে পেরে উপস্থিত শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা চরম উচ্ছ্বাস ও গভীর সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

 

দেশের প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে এমন উষ্ণ ও আন্তরিক আপ্যায়ন এবং জীবনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনামূলক পরামর্শ পাওয়াকে তারা তাদের জীবনের অন্যতম স্মরণীয় মুহূর্ত হিসেবে অভিহিত করেন।

 

সাধারণ শিক্ষার্থীদের প্রতি এমন অকৃত্রিম ভালোবাসা, সময় ও মনোযোগ প্রদর্শনের জন্য তারা সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতি গভীর সম্মান, বিনম্র কৃতজ্ঞতা ও আন্তরিক ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। সরকারের এই ধরনের কল্যাণমুখী উদ্যোগ আগামী প্রজন্মকে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করতে এবং জাতীয় দায়িত্ব পালনে আরও বেশি সচেতন করে তুলতে এক যুগান্তকারী ভূমিকা পালন করবে।