দেশের একেবারে প্রান্তিক পর্যায় থেকে শুরু করে সমাজের প্রতিটি স্তরের মানুষের কাছে আধুনিক যোগাযোগ প্রযুক্তিকে সহজলভ্য করার তাগিদ দিয়েছেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বাংলাদেশে পরিচালিত অন্যতম শীর্ষস্থানীয় মোবাইল নেটওয়ার্ক অপারেটর বাংলালিংকের মূল বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান ভিওনের চেয়ারম্যান অগি ফাবেলার প্রতি এই বিশেষ আহ্বান জানান তিনি।
প্রধানমন্ত্রী দেশের সাধারণ ও নিম্ন আয়ের মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে অত্যন্ত সাশ্রয়ী মূল্যে আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সংবলিত স্মার্টফোন সরবরাহ করা এবং মোবাইল ইন্টারনেট ডেটার দাম যৌক্তিকভাবে কমানোর জন্য সংশ্লিষ্ট বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানটিকে আন্তরিকভাবে কাজ করার সুস্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন।
সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬ তারিখ সকাল সাড়ে ৯টায় বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ ভবনে অবস্থিত প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও তাৎপর্যপূর্ণ এই সৌজন্য সাক্ষাৎটি অনুষ্ঠিত হয়।
সরকারের উচ্চপর্যায়ের নীতিনির্ধারক ও আন্তর্জাতিক টেলিযোগাযোগ কোম্পানির শীর্ষ কর্মকর্তাদের এই বৈঠকটি দেশের তথ্যপ্রযুক্তি খাতের ভবিষ্যৎ রূপরেখা নির্ধারণ এবং ডিজিটাল বৈষম্য দূরীকরণে একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে কাজ করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট অর্থনীতিবিদ ও প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা।
অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ ও পেশাদার পরিবেশে অনুষ্ঠিত এই উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মাননীয় মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম।
এছাড়াও এই গুরুত্বপূর্ণ আলোচনায় সরাসরি অংশগ্রহণ করেন প্রধানমন্ত্রীর ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ। অন্যদিকে, বৈশ্বিক টেলিকম জায়ান্ট ভিওন এবং তাদের অঙ্গপ্রতিষ্ঠান বাংলালিংকের পক্ষ থেকে বৈঠকে প্রতিনিধিত্ব করেন ভিওনের অন্যতম জ্যেষ্ঠ বোর্ড সদস্য মিশেল সোয়েটিং এবং বাংলালিংকের বর্তমান প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বা সিইও ইওহান হেনড্রিক মার্টিনাস বাস।
এই অত্যন্ত সময়োপযোগী ও গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের বিস্তারিত তথ্য ও সারসংক্ষেপ আনুষ্ঠানিক সংবাদ ব্রিফিংয়ের মাধ্যমে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের কাছে তুলে ধরেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব শাহদাৎ হোসেন স্বাধীন।
তিনি উপস্থিত সাংবাদিকদের বিস্তারিতভাবে জানান যে, এদিনের পুরো আলোচনার মূল কেন্দ্রবিন্দুতেই ছিল কীভাবে বাংলাদেশের আপামর জনসাধারণের জন্য আধুনিক ডিজিটাল সেবাকে আরও বেশি সহজলভ্য, জনবান্ধব ও সার্বিকভাবে অন্তর্ভুক্তিমূলক করা যায়।
একুশ শতকের আধুনিক বিশ্বে ইন্টারনেট এবং স্মার্টফোন এখন আর কেবল বিলাসিতা বা সাধারণ যোগাযোগের মাধ্যম নয়, বরং এগুলো শিক্ষা, আধুনিক স্বাস্থ্যসেবা, কৃষি সম্প্রসারণ ও জাতীয় অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি। তাই দেশের আপামর ও বৃহত্তর জনগোষ্ঠীকে এই সুবিধার আওতায় আনতে বর্তমান সরকার দৃঢ়ভাবে বদ্ধপরিকর।
বৈঠককালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলালিংক কর্তৃপক্ষের প্রতি অত্যন্ত স্পষ্টভাবে ও জোরালোভাবে আহ্বান জানান যেন তারা এমন কোনো উদ্ভাবনী ও দীর্ঘমেয়াদী বাণিজ্যিক উদ্যোগ গ্রহণ করে, যার মাধ্যমে সমাজের নিম্ন আয়ের, শ্রমজীবী ও পিছিয়ে পড়া মানুষের হাতেও সাশ্রয়ী মূল্যে অত্যাধুনিক প্রযুক্তিসম্পন্ন স্মার্টফোন পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হয়।
তিনি দৃঢ়তার সাথে উল্লেখ করেন যে, দেশের সব শ্রেণি-পেশার মানুষ, বিশেষ করে কৃষক, পোশাক কারখানার শ্রমিক, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও শিক্ষার্থীরা যেন ডিজিটাল অর্থনীতির সুফল পুরোপুরি ভোগ করতে পারেন, সেজন্য সাশ্রয়ী মূল্যের ইন্টারনেট সংযোগ সক্ষম ডিভাইস সরবরাহ করা একান্ত অপরিহার্য।
এর ফলে দেশের তৃণমূল পর্যায়ের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীও আধুনিক জ্ঞান-বিজ্ঞান, বৈশ্বিক তথ্যপ্রবাহ ও ডিজিটাল আর্থিক লেনদেনের সাথে সরাসরি যুক্ত হওয়ার অবারিত সুযোগ পাবে। স্মার্টফোন বা ডিজিটাল ডিভাইস সরবরাহের পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেশে প্রচলিত মোবাইল ইন্টারনেটের ব্যবহারিক মূল্য আরও কমানোর বিষয়টি গভীরভাবে ও সহানুভূতির সাথে বিবেচনা করার জন্য ভিওন ও বাংলালিংক কর্তৃপক্ষের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানান।
বর্তমান পরিবর্তনশীল বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে নিরবচ্ছিন্ন ইন্টারনেট সংযোগকে একটি অন্যতম মৌলিক মানবাধিকারের সমতুল্য হিসেবে বিবেচনা করা হয়ে থাকে। তাই সাধারণ মানুষের জন্য ইন্টারনেটের দৈনন্দিন ব্যবহারকে আরও স্বাচ্ছন্দ্যময় ও ব্যয়সাশ্রয়ী করতে পারলে তা দেশের সামগ্রিক আর্থসামাজিক উন্নয়নে এক অভাবনীয় ও দৃশ্যমান গতি সঞ্চার করবে বলে তিনি প্রবল আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
সাশ্রয়ী মূল্যের উচ্চগতির ইন্টারনেট সেবার মাধ্যমে দেশের অগণিত তরুণ সমাজ, বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া শিক্ষার্থী এবং পেশাদার ফ্রিল্যান্সাররা আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতামূলক বাজারে নিজেদের আরও সুদৃঢ় ও সম্মানজনক অবস্থানে নিয়ে যেতে সক্ষম হবেন।
পরিশেষে, সংশ্লিষ্ট মহলের প্রবল প্রত্যাশা যে, শীর্ষ পর্যায়ের এই দ্বিপাক্ষিক বৈঠকটি বাংলাদেশের টেলিযোগাযোগ খাতে নতুন ও কার্যকর বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং সাধারণ গ্রাহকবান্ধব সেবা সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে এক নতুন দিগন্তের উন্মোচন করবে।
বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান ভিওন যদি সরকারের এই সুদূরপ্রসারী ও জনকল্যাণমুখী আহ্বানে ইতিবাচকভাবে সাড়া দিয়ে সাশ্রয়ী প্রযুক্তির স্মার্টফোন ও স্বল্প মূল্যের উচ্চগতির ইন্টারনেট সেবা নিশ্চিত করতে সময়োপযোগী ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করে, তবে তা একটি পরিপূর্ণ আধুনিক, জ্ঞানভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠা এবং একটি তথ্যনির্ভর ও সমৃদ্ধশালী ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তোলার দীর্ঘমেয়াদী রূপকল্প বাস্তবায়নের পথে একটি অবিস্মরণীয় অগ্রগতি হিসেবে ইতিহাসে লিপিবদ্ধ থাকবে।