শনিবার, জুলাই ১৮, ২০২৬
৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার ও প্রশাসনিক সংস্কারে পাঁচ মাসে বর্তমান সরকারের দৃশ্যমান সাফল্য অর্জিত

আর এন এস ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৮ জুলাই, ২০২৬, ০৭:২২ পিএম

অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার ও প্রশাসনিক সংস্কারে পাঁচ মাসে বর্তমান সরকারের দৃশ্যমান সাফল্য অর্জিত
ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশের রাষ্ট্রকাঠামো পুনর্গঠন, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা আনয়ন এবং সামাজিক সুরক্ষার পরিধি বিস্তারে বর্তমান সরকারের গত পাঁচ মাসের বিভিন্নমুখী ইতিবাচক অগ্রগতির খতিয়ান আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেছে দেশের সর্বোচ্চ প্রশাসনিক দপ্তর।

 

ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের রাজনৈতিক নির্দেশনায় ও নেতৃত্বে বর্তমান সরকার রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে অত্যন্ত স্বল্প সময়ের মধ্যে ভঙ্গুর অর্থনৈতিক ব্যবস্থার আমূল সংস্কার এবং জনকল্যাণমূলক বহুমুখী উদ্যোগ বাস্তবায়নে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে বলে সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকে দাবি করা হয়েছে।

 

শনিবার, ১৮ জুলাই বিকেলে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে অবস্থিত প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আয়োজিত এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে সরকারের এই পাঁচ মাসের ধারাবাহিক অগ্রগতির বিবরণ বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন কার্যালয়ের বিশেষ মুখপাত্র মাহ্‌দী আমিন।

 

সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে সরকারি মুখপাত্র মাহ্‌দী আমিন অত্যন্ত স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে, একটি চরম বিপর্যস্ত অর্থনীতি, ভঙ্গুর শাসনব্যবস্থা এবং ক্ষতিগ্রস্ত রাষ্ট্রকাঠামো পুনর্গঠনের এক বিশাল ও কঠিন চ্যালেঞ্জ কাঁধে নিয়ে বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করেছিল।

 

তবে অত্যন্ত স্বল্প ও সীমিত সময়ের মধ্যেই সরকারের সুপরিকল্পিত ও কঠোর প্রশাসনিক পদক্ষেপের ফলে জাতীয় অর্থনীতিতে এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় এক দৃশ্যমান ও ইতিবাচক সাফল্য অর্জিত হয়েছে।

 

তিনি দেশের সামষ্টিক অর্থনীতির প্রধান প্রধান সূচকগুলোর একটি তুলনামূলক চিত্র উপস্থাপন করে বলেন যে, সরকারের নানামুখী বাজার তদারকি ও কঠোর আর্থিক শৃঙ্খলার কারণে দেশের সার্বিক মূল্যস্ফীতি উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পেয়ে বর্তমানে ৯ দশমিক ১৬ শতাংশে নেমে এসেছে।

 

একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাজারে নানাবিধ অস্থিরতা থাকা সত্ত্বেও বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার মজুত বা রিজার্ভের পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়ে বর্তমানে ৩৬ দশমিক ৫৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে দাঁড়িয়েছে, যা দেশের অর্থনৈতিক সক্ষমতার এক শক্তিশালী প্রমাণ।

 

এ ছাড়া প্রবাসীদের পাঠানো কষ্টার্জিত অর্থের প্রবাহ সচল রাখতে সরকারের বিশেষ নীতিগত সুবিধার কারণে গত মার্চ মাসে রেকর্ড পরিমাণ ৩ দশমিক ৭৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স বা প্রবাসী আয় দেশে এসেছে, যা দেশের অভ্যন্তরীণ তারল্য সংকট কাটাতে এক অনস্বীকার্য ভূমিকা পালন করেছে।

 

দেশের সাধারণ মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণ এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে সরকারের গৃহীত বিশেষ কর্মসূচিগুলোর বিবরণ দিয়ে মুখপাত্র জানান যে, বর্তমান সরকার সর্বদাই সাধারণ মানুষের কল্যাণকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার প্রদান করছে।

 

এই লক্ষ্য অর্জনে সরকারের অন্যতম প্রধান উদ্যোগ হিসেবে দেশের প্রায় ১২ লাখ ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ সম্পূর্ণভাবে মওকুফ করার ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা দেশের গ্রামীণ কৃষি অর্থনীতিতে এক নতুন প্রাণের সঞ্চার করেছে।

 

পাশাপাশি নিম্নআয়ের সাধারণ মানুষের প্রাত্যহিক খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দেশব্যাপী ৫৫ লাখ দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত পরিবারের মাঝে মাত্র ১৫ টাকা কেজি দরে চাল বিতরণের এক বিশাল ও নিরবচ্ছিন্ন মানবিক কার্যক্রম অত্যন্ত সফলভাবে পরিচালিত হচ্ছে।

 

দেশের নারী সমাজ ও তরুণ প্রজন্মের অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতা অর্জনের লক্ষ্যে অত্যন্ত সহজ শর্তে ও স্বল্প সুদে বিশেষ ঋণ সহায়তার ব্যবস্থা করা হয়েছে। আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির যুগে দেশের ফ্রিল্যান্সারদের পেশাগত ও সামাজিক স্বীকৃতি প্রদানের উদ্দেশ্যে বিশেষ পরিচয়পত্র বা আইডি কার্ড বিতরণ, নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য বিশেষ স্টার্টআপ তহবিল গঠন এবং সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি ও পেশার মানুষের জীবনমান সহজ করতে বিশেষায়িত কল্যাণ কার্ড চালুর যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করছে সরকার।

 

দেশের জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন ও গ্রামীণ স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নে বর্তমান সরকারের গৃহীত বৈপ্লবিক পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করে মুখপাত্র মাহ্‌দী আমিন জানান যে, দেশের স্বাস্থ্য খাতে একযোগে এক লাখ নতুন জনবল নিয়োগের একটি অত্যন্ত বৃহৎ ও ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা হয়েছে, যার মধ্যে দেশের নারী সমাজকে স্বাবলম্বী করতে শতকরা ৮০ ভাগ আসন নারীদের জন্য বিশেষভাবে সংরক্ষিত রাখা হয়েছে।

 

দেশের সরকারি হাসপাতালগুলোতে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে ডেঙ্গু পরীক্ষার সুযোগ তৈরি করা এবং তৃণমূলের মানুষের দোরগোড়ায় আধুনিক চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দিতে প্রতিটি ইউনিয়ন পর্যায়ে একটি করে সুসজ্জিত স্বাস্থ্য ইউনিট গঠনের মহাপরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে।

 

গ্রামীণ স্বাস্থ্যসেবা কাঠামোকে আরও মজবুত ও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে দেশের প্রতিটি উপজেলা হাসপাতালকে ১০১ শয্যাবিশিষ্ট আধুনিক হাসপাতালে উন্নীতকরণের কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে।

 

শিক্ষা ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং নতুন প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের আন্তর্জাতিক মানের উপযুক্ত করে গড়ে তুলতে বর্তমান সরকারের সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে মুখপাত্র বলেন যে, দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে পর্যায়ক্রমে সর্বাধুনিক স্মার্ট ক্লাসরুম স্থাপন, শিক্ষার্থীদের গবেষণার সুবিধার্থে শিক্ষাঙ্গনে বিনামূল্যে ফ্রি ওয়াই-ফাই সেবা প্রদান, শিক্ষার্থীদের পুষ্টি নিশ্চিত করতে মিড-ডে মিলের ব্যবস্থা এবং সময়োপযোগী নতুন পাঠ্যপুস্তক প্রণয়নের কাজ অত্যন্ত নিষ্ঠার সঙ্গে সম্পন্ন হচ্ছে।

 

দেশের নারী শিক্ষার হার বৃদ্ধি ও ছাত্রীদের উচ্চ শিক্ষায় উৎসাহিত করতে স্নাতক বা অনার্স পর্যন্ত মেয়েদের শিক্ষাজীবন সম্পূর্ণ অবৈতনিক বা অবৈতনিক শিক্ষার ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

 

এর পাশাপাশি যে সকল মেধাবী শিক্ষার্থী উচ্চ শিক্ষার উদ্দেশ্যে বিদেশে গমন করতে ইচ্ছুক, তাদের আর্থিক সংকট দূর করতে ও সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিতে ব্যাংক গ্যারান্টি হিসেবে কোনো প্রকার জামানত ছাড়াই ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত বিশেষ শিক্ষা ঋণ দেওয়ার এক অনন্য ও কল্যাণমুখী উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

 

সংবাদ সম্মেলনের সমাপনী বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্‌দী আমিন অত্যন্ত জোর দিয়ে বলেন যে, দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার, বাজারে স্থায়িত্ব আনয়ন এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর দীর্ঘস্থায়ী পুনর্গঠনের লক্ষ্যে বর্তমান সরকার অত্যন্ত সুনির্দিষ্ট ও কার্যকর নীতি গ্রহণ করেছে।

 

এই সামগ্রিক কৌশল বাস্তবায়নের মাধ্যমে একটি বৈষম্যহীন, দুর্নীতিমুক্ত এবং অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী নতুন বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সরকার সম্পূর্ণ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং এই রূপান্তর প্রক্রিয়ায় দেশের সাধারণ জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত ও সক্রিয় সহযোগিতা সর্বদা কাম্য।