মঙ্গলবার, জুলাই ২৮, ২০২৬
১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে নির্বাচন কমিশন - সিইসি

আর এন এস ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৮ জুলাই, ২০২৬, ০১:২৬ পিএম

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে নির্বাচন কমিশন - সিইসি
ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদ রাষ্ট্রপতির শূন্যস্থান পূরণের লক্ষ্যে আসন্ন নির্বাচন আয়োজনে নির্বাচন কমিশন সম্পূর্ণভাবে প্রস্তুত রয়েছে বলে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছে। মঙ্গলবার, আটাশে জুলাই, জাতীয় সংসদ ভবনে ভারপ্রাপ্ত স্পিকার কায়সার কামালের সঙ্গে এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, উচ্চপর্যায়ের ও রুদ্ধদ্বার বৈঠক শেষে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন গণমাধ্যমের প্রতিনিধিদের সামনে এই তথ্য নিশ্চিত করেন।

 

দেশের শাসনতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা, গণতান্ত্রিক কাঠামোর স্থায়িত্ব এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার স্বার্থে এই নির্বাচনটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকরা। প্রধান নির্বাচন কমিশনার অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে সাংবাদিকদের জানান যে, এই নির্বাচনের প্রাথমিক আলোচনা ও আইনি দিকগুলোর পুঙ্খানুপুঙ্খ পর্যালোচনা ইতিমধ্যে সুচারুভাবে সম্পন্ন হয়েছে।

 

সংবিধানের নির্ধারিত বিধানাবলি ও আইনি কাঠামোর বিশদ ব্যাখ্যা প্রদান করে তিনি দেশবাসীকে আশ্বস্ত করেছেন যে, নির্বাচন কমিশন যেকোনো মুহূর্তে এই বহুল প্রতীক্ষিত নির্বাচনটি সম্পূর্ণ সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও সুশৃঙ্খলভাবে আয়োজন করার শতভাগ সক্ষমতা রাখে।

 

নির্বাচনের সুনির্দিষ্ট তারিখ ও সময়সূচির বিষয়ে সাংবাদিকদের করা এক প্রশ্নের জবাবে সিইসি সুস্পষ্টভাবে জানান যে, এখন পর্যন্ত চূড়ান্ত দিনক্ষণ নির্ধারণ করা হয়নি। তবে পুরো প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত দ্রুতগতিতে এবং সঠিক আইনি কাঠামোর মধ্য দিয়ে এগোচ্ছে।

 

তিনি অত্যন্ত প্রাঞ্জল ভাষায় ব্যাখ্যা করেন যে, সাংবিধানিক নিয়ম ও ঐতিহ্য অনুযায়ী জাতীয় সংসদের স্পিকারের সঙ্গে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও নিবিড় সমন্বয় সাধন প্রক্রিয়ার পরই নির্বাচনের একটি নির্দিষ্ট দিনক্ষণ চূড়ান্ত করা হবে।

 

এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তটি চূড়ান্ত হওয়ার পর তা কালক্ষেপণ না করে রাষ্ট্রীয় সরকারি গেজেট বা প্রজ্ঞাপন আকারে প্রকাশের মাধ্যমে দেশবাসীকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়ে দেওয়া হবে। এই স্বচ্ছ ও সুস্পষ্ট প্রক্রিয়াটি দেশের গণতান্ত্রিক প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা ও বিশ্বাস বজায় রাখতে ব্যাপকভাবে সাহায্য করবে।

 

সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ও তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হলো, এই অত্যন্ত সংবেদনশীল ও রাষ্ট্রীয়ভাবে গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনে স্বয়ং প্রধান নির্বাচন কমিশনার নিজেই রিটার্নিং অফিসার হিসেবে গুরুদায়িত্ব পালন করবেন। এটি নির্বাচন প্রক্রিয়ার সর্বোচ্চ পর্যায়ের জবাবদিহিতা, স্বচ্ছতা ও আইনি সুরক্ষার বিষয়টি নিশ্চিত করে।

 

তিনি আরও জানান, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের যাবতীয় আনুষ্ঠানিকতা ও দাপ্তরিক কার্যক্রম নির্বাচন কমিশন প্রাঙ্গণ থেকেই সরাসরি পরিচালিত হবে, যাতে কার্যক্রমে সর্বোচ্চ সতর্কতা ও নিরাপত্তা বজায় থাকে।

 

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে জনমনে এবং রাজনৈতিক অঙ্গনে থাকা বিভিন্ন জল্পনা-কল্পনা ও আইনি জটিলতার আশঙ্কার অবসান ঘটিয়ে সিইসি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সময়োপযোগী আইনি ব্যাখ্যা প্রদান করেন।

 

তিনি অত্যন্ত দৃঢ়তার সঙ্গে নিশ্চয়তা দেন যে, জাতীয় সংসদের অধিবেশন চলমান থাকা বা না থাকার বিষয়টি এই নির্বাচন প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের আইনি, শাসনতান্ত্রিক বা পদ্ধতিগত বাধা তৈরি করতে পারবে না।

 

বাংলাদেশের সংবিধানের সুস্পষ্ট নির্দেশনার আলোকে এই প্রক্রিয়াটি সম্পূর্ণ স্বাধীন ও বাধাহীনভাবে তার নিজস্ব গতিতে অগ্রসর হবে। দেশের শীর্ষ পদের নির্বাচন নিয়ে যাতে কোনো ধরনের সাংবিধানিক শূন্যতা বা অস্পষ্টতা তৈরি না হয়, সে বিষয়ে নির্বাচন কমিশন অত্যন্ত সতর্ক, পেশাদার ও সজাগ রয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

 

নির্বাচন কমিশনের ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা ও প্রশাসনিক রোডম্যাপ সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা দিতে গিয়ে এ এম এম নাসির উদ্দিন জানান যে, তাদের সামনে বর্তমানে বেশ কিছু গুরুদায়িত্ব ও বড় চ্যালেঞ্জ অপেক্ষমাণ রয়েছে।

 

বিশেষ করে, আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনের মতো দেশব্যাপী একটি বিশাল ও বহুমুখী কর্মযজ্ঞ সফলভাবে সম্পন্ন করার জন্য কমিশনের ওপর ব্যাপক চাপ ও প্রত্যাশা রয়েছে। সেই বাস্তবতাকে সামনে রেখেই, নির্বাচন কমিশন দৃঢ়ভাবে চাইছে সম্ভাব্য দ্রুততম সময়ের মধ্যে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের মতো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কিন্তু তুলনামূলকভাবে কম পরিসরের নির্বাচনটি সফলভাবে শেষ করতে।

 

এই পর্বটি সুচারুভাবে সম্পন্ন হলে কমিশন তাদের সম্পূর্ণ জনবল, প্রশাসনিক মনোযোগ ও আনুষঙ্গিক রসদ স্থানীয় সরকার নির্বাচনের বিশাল চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় নিরবচ্ছিন্নভাবে নিয়োগ করতে সক্ষম হবে। এটিকে নির্বাচন কমিশনের একটি অত্যন্ত কৌশলগত, বাস্তবসম্মত ও সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত হিসেবেই মূল্যায়ন করা হচ্ছে।

 

বৈঠকের অন্যান্য আলোচ্যসূচি নিয়ে সাংবাদিকদের বিভিন্ন কৌতূহলোদ্দীপক প্রশ্নের জবাবে প্রধান নির্বাচন কমিশনার অত্যন্ত পেশাদারিত্বের সঙ্গে তার প্রাতিষ্ঠানিক অবস্থান পরিষ্কার করেন। জাতীয় সংসদের অন্যান্য আসন বিন্যাস, উপনির্বাচন বা অন্যান্য রাজনৈতিক ও আঞ্চলিক বিষয় নিয়ে এই বৈঠকে কোনো আলোচনা হয়েছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি অত্যন্ত স্পষ্টভাবে ও জোরালো ভাষায় জানান যে, ভারপ্রাপ্ত স্পিকারের সঙ্গে মঙ্গলবারের বৈঠকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ব্যতীত অন্য কোনো আঞ্চলিক আসন বা প্রাসঙ্গিক বিষয় নিয়ে বিন্দুমাত্র আলোচনা হয়নি।

 

তাদের সম্পূর্ণ মনোযোগ ও লক্ষ্য ছিল কেবল রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পদের নির্বাচন প্রক্রিয়াকে কীভাবে ত্রুটিমুক্ত ও সংবিধানসম্মত করা যায়, সেই দিকে। পরিশেষে তিনি গভীর আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, খুব শিগগিরই সমস্ত প্রস্তুতি একেবারে চূড়ান্ত পর্যায়ে গুছিয়ে এনে যথাসময়েই একটি আনুষ্ঠানিক ও পূর্ণাঙ্গ ঘোষণা জাতির সামনে তুলে ধরা হবে, যা রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব হস্তান্তরের প্রক্রিয়াকে আরও সুসংহত করবে।