রবিবার, অক্টোবর ২৫, ২০২৬
১০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফর

একনেক বৈঠক স্থগিত, আটকে গেল ১৫ প্রকল্প

আর এন এস ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:১৯ পিএম

একনেক বৈঠক স্থগিত, আটকে গেল ১৫ প্রকল্প
ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশের জাতীয় অর্থনৈতিক ও অবকাঠামোগত উন্নয়নের অবিরাম ধারাবাহিকতায় একটি অনাকাঙ্ক্ষিত অথচ অনিবার্য বিরতি ঘটেছে। আজ রোববার সকালে রাজধানী ঢাকার শেরেবাংলা নগরে অবস্থিত পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের এনইসি সম্মেলন কক্ষে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) পূর্বনির্ধারিত একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও নীতিনির্ধারণী বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল।

 

কিন্তু গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আসন্ন রাষ্ট্রীয় জাপান সফরের কারণে একেবারেই শেষ মুহূর্তে এই অতি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকটি স্থগিত ঘোষণা করা হয়েছে।

 

এই আকস্মিক প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের ফলে সাময়িকভাবে পিছিয়ে গেল দেশের সার্বিক আর্থসামাজিক উন্নয়নের সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে যুক্ত প্রায় নয় হাজার কোটি টাকা ব্যয়সাপেক্ষ পনেরোটি বৃহত্তর উন্নয়ন প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক অনুমোদন প্রক্রিয়া।

 

সরকারি নথিপত্র ও প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এই স্থগিতাদেশের কারণ হিসেবে কেবল ‘অনিবার্য পরিস্থিতি’ বা ‘অনিবার্য কারণ’ উল্লেখ করা হলেও, পরিকল্পনা কমিশনের দায়িত্বশীল এবং উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা সংবাদমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন যে, মূলত প্রধানমন্ত্রীর আসন্ন অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ জাপান সফরকে কেন্দ্র করেই গত রাতে বৈঠকটি স্থগিত করার এই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।

 

পরিকল্পনা কমিশন এবং সরকারের নীতিনির্ধারণী উচ্চপদস্থ মহল থেকে প্রাপ্ত নির্ভরযোগ্য তথ্য অনুযায়ী, আজ সন্ধ্যার একটি বিশেষ ফ্লাইটে প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রীয় সফরে জাপানের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করবেন। একটি দেশের সরকারপ্রধান যখন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং কৌশলগত কোনো বিদেশি রাষ্ট্র সফরে যান, তখন সফরের অব্যবহিত পূর্বে তাকে বেশ কিছু জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ের অত্যন্ত সংবেদনশীল, নীতিনির্ধারণী ও গুরুত্বপূর্ণ দাপ্তরিক ফাইলের কাজ সুসম্পন্ন করতে হয়।

 

একনেকের বৈঠক সাধারণত দীর্ঘ সময় ধরে পুঙ্খানুপুঙ্খ আলোচনার মাধ্যমে চলে এবং এটি সকালে শুরু হলে দুপুরের খাবারের আগে কোনোভাবেই শেষ করা সম্ভব হতো না বলে সংশ্লিষ্ট নীতিনির্ধারকরা মনে করেছেন।

 

এত স্বল্প সময়ের মধ্যে এতগুলো বৃহৎ প্রকল্পের প্রতিটি দিকের বিশদ বিশ্লেষণ এবং চূড়ান্ত অনুমোদনের কাজ শেষ করে আন্তর্জাতিক সফরের পূর্ণাঙ্গ প্রস্তুতি গ্রহণ করা প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে অত্যন্ত কঠিন ও সময়সাপেক্ষ হয়ে পড়ত।

 

সার্বিক দিক এবং সময়ের এই অপর্যাপ্ততা অত্যন্ত গভীরভাবে বিবেচনা করেই শেষ পর্যন্ত জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির এই বৈঠকটি সাময়িকভাবে স্থগিত রাখার যৌক্তিক ও বাস্তবসম্মত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।

 

আজকের একনেক বৈঠকে চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য মোট পনেরোটি উন্নয়ন প্রকল্প পূর্ণাঙ্গ প্রস্তাবনা আকারে উপস্থাপনের জন্য যাবতীয় প্রস্তুতি সম্পূর্ণ করা হয়েছিল। জাতীয় পর্যায়ে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ এই প্রকল্পগুলোর জন্য সর্বমোট ব্যয়ের প্রাক্কলন করা হয়েছিল প্রায় নয় হাজার কোটি টাকার কাছাকাছি।

 

অনুমোদনের জন্য প্রস্তুত রাখা প্রকল্পগুলোর তালিকা গভীরভাবে বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, শিক্ষা খাতের সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়ন, টেকসই নগর ব্যবস্থাপনা, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা, প্রান্তিক পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অপারেশনাল সক্ষমতা বৃদ্ধির মতো অত্যন্ত সংবেদনশীল এবং জনগুরুত্বপূর্ণ খাতগুলো এখানে অন্তর্ভুক্ত ছিল।

 

বৈঠকটি স্থগিত হওয়ার কারণে এই বিপুল পরিমাণ অর্থ বরাদ্দের বিষয়টি সাময়িকভাবে আটকে গেলেও, সরকারের সংশ্লিষ্ট মহল থেকে দেশবাসীকে আশ্বস্ত করা হয়েছে যে, প্রধানমন্ত্রী জাপান সফর শেষে দেশে প্রত্যাবর্তনের পর খুব দ্রুত সময়ের মধ্যেই পরবর্তী একনেক বৈঠক আহ্বান করা হবে এবং স্থগিত হওয়া এই সমস্ত প্রকল্পগুলো সেখানে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার ভিত্তিতে অনুমোদনের জন্য পুনরায় উপস্থাপন করা হবে।

 

অনুমোদনের অপেক্ষায় থাকা এই পনেরোটি প্রকল্পের মধ্যে অন্যতম সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প ছিল দেশের জ্বালানি খাতের সক্ষমতা বৃদ্ধির একটি বিশেষ উদ্যোগ। বিশেষ করে, তিতাস গ্যাসক্ষেত্রে দুটি নতুন মূল্যায়ন ও উন্নয়ন গ্যাসকূপ খননের বিষয়টি এই তালিকায় শীর্ষস্থানীয় ছিল।

 

তিতাস-৩২ এবং তিতাস-৩৩ নামক এই দুটি কূপ খননের মাধ্যমে দেশীয় গ্যাসের উৎপাদন উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধির একটি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করেছিল সরকার। বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে জ্বালানি সংকট যখন একটি আন্তর্জাতিক সমস্যায় পরিণত হয়েছে, তখন নিজস্ব প্রাকৃতিক সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহার এবং আমদানিকৃত জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে আনার লক্ষ্যে এই গ্যাসকূপ খনন প্রকল্পটিকে অত্যন্ত সময়োপযোগী পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছিল।

 

এই প্রকল্পটির অনুমোদন এবং বাস্তবায়ন শুরু হলে তা দেশের শিল্প খাতে নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করার পাশাপাশি জাতীয় অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে অত্যন্ত শক্তিশালী এবং ইতিবাচক ভূমিকা পালন করত বলে জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা অভিমত ব্যক্ত করেছেন।

 

জ্বালানি খাতের পাশাপাশি দেশের শিক্ষা এবং আধুনিক নগর ব্যবস্থাপনার মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলোর উন্নয়নও আজকের একনেক বৈঠকের আলোচ্যসূচিতে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে অন্তর্ভুক্ত ছিল। এর মধ্যে ‘উদ্ভাবনী জলবায়ু-বান্ধব নগর উন্নয়ন’ নামক একটি যুগান্তকারী প্রকল্প অনুমোদনের অপেক্ষায় ছিল।

 

বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশগুলো বর্তমানে যে বহুমুখী পরিবেশগত হুমকির সম্মুখীন হচ্ছে, তা মোকাবিলা করে টেকসই এবং পরিবেশবান্ধব আধুনিক নগর গড়ে তোলার লক্ষ্যে এই প্রকল্পটি গ্রহণ করা হয়েছিল।

 

অন্যদিকে, উচ্চশিক্ষার প্রসারে ময়মনসিংহ অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের একটি লালিত স্বপ্ন পূরণের লক্ষ্যে নেত্রকোনা বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের প্রকল্পটিও আজকের বৈঠকে অনুমোদনের জন্য চূড়ান্তভাবে প্রস্তুত রাখা হয়েছিল।

 

এই আধুনিক বিশ্ববিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হলে ওই বিস্তীর্ণ অঞ্চলের হাজার হাজার শিক্ষার্থী সহজে এবং স্বল্প ব্যয়ে আধুনিক ও বিশ্বমানের উচ্চশিক্ষা গ্রহণের সুযোগ পেত, যা দীর্ঘমেয়াদে দেশের জন্য দক্ষ মানবসম্পদ তৈরিতে একটি অবিস্মরণীয় মাইলফলক হিসেবে কাজ করত।

 

তালিকায় থাকা অন্যান্য জনগুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে দেশের উত্তরাঞ্চলের বিস্তীর্ণ বরেন্দ্র এলাকার মানুষের জীবনমান উন্নয়নের একটি বিশেষ ও মানবিক উদ্যোগ। প্রাকৃতিকভাবে খরাপ্রবণ এই বরেন্দ্র অঞ্চলে নিরাপদ পানীয় জল সরবরাহ এবং স্বাস্থ্যসম্মত স্যানিটেশন ব্যবস্থা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে একটি বৃহৎ প্রকল্প অনুমোদনের অপেক্ষায় ছিল।

 

সুপেয় পানির তীব্র সংকট এই অঞ্চলে একটি নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার। এই প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে ওই অঞ্চলের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যঝুঁকি উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পেত এবং তাদের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা অনেক বেশি সহজ ও নিরাপদ হতো।

 

একই সাথে, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন এলাকার প্রধান সড়কগুলোর ক্ষতিগ্রস্ত অংশের ব্যাপক সংস্কার, আধুনিক নর্দমা ব্যবস্থা নির্মাণ এবং পথচারীদের জন্য নিরাপদ হাঁটার পথ বা ফুটপাত উন্নয়নের একটি অত্যন্ত প্রয়োজনীয় প্রকল্পও এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত ছিল।

 

রাজধানী ঢাকার যানজট নিরসন এবং বর্ষাকালে ভয়াবহ জলাবদ্ধতার মতো দীর্ঘস্থায়ী সমস্যাগুলো সমাধানের ক্ষেত্রে এই প্রকল্পটি অত্যন্ত কার্যকর এবং বাস্তবসম্মত একটি পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছিল।

 

দেশের অভ্যন্তরীণ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ পুলিশের অনন্য ভূমিকা অনস্বীকার্য। পুলিশের এই প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতাকে আরও আধুনিক, গতিশীল এবং যুগোপযোগী করার লক্ষ্যে বিশেষায়িত যানবাহন এবং বিভিন্ন স্পর্শকাতর অভিযানের কাজে ব্যবহারযোগ্য অপারেশনাল যানবাহন ক্রয়ের জন্য দুটি পৃথক প্রকল্প আজকের বৈঠকে উপস্থাপনের জন্য সম্পূর্ণভাবে প্রস্তুত ছিল।

 

বর্তমান সময়ের বহুমুখী অপরাধ প্রবণতা কঠোর হস্তে দমন করা, জরুরি মুহূর্তে দ্রুততম সময়ের মধ্যে ঘটনাস্থলে পৌঁছানো এবং অপরাধীদের আইনের আওতায় আনার ক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পরিবহন সক্ষমতা বৃদ্ধি করা একটি অপরিহার্য শর্ত।

 

এই প্রকল্প দুটির কাঙ্ক্ষিত অনুমোদন পাওয়া গেলে বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনী তাদের দৈনন্দিন আভিযানিক কার্যক্রমে আরও বেশি পেশাদারিত্ব এবং অভাবনীয় দক্ষতার পরিচয় দিতে সক্ষম হতো, যা দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখার ক্ষেত্রে অত্যন্ত সহায়ক ভূমিকা পালন করত।

 

স্বাস্থ্য খাতের অবকাঠামোগত এবং আধুনিক প্রযুক্তিগত উন্নয়নের একটি অত্যন্ত সময়োপযোগী এবং যুগান্তকারী প্রকল্পও আজকের একনেক বৈঠকে অনুমোদনের জন্য অপেক্ষমাণ ছিল। দেশের পাঁচটি সরকারি মেডিকেল কলেজে অত্যাধুনিক সুবিধাসংবলিত পারমাণবিক চিকিৎসা কেন্দ্র বা নিউক্লিয়ার মেডিসিন সেন্টার স্থাপনের জন্য একটি বৃহৎ প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছিল।

 

বর্তমানে ক্যানসার, থাইরয়েড এবং অন্যান্য জটিল ও দুরারোগ্য রোগের উন্নত চিকিৎসা এবং নির্ভুল রোগ নির্ণয়ের ক্ষেত্রে পারমাণবিক চিকিৎসাবিজ্ঞানের কোনো বিকল্প নেই। রাজধানী ঢাকার বাইরে প্রান্তিক পর্যায়ের সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় এই অত্যাধুনিক চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দেওয়ার মহৎ লক্ষ্যেই সরকার এই প্রকল্পটি গ্রহণ করেছিল।

 

এই অতি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে দেশের সাধারণ এবং স্বল্প আয়ের রোগীদের উন্নত চিকিৎসার জন্য আর ঢাকামুখী হয়ে বাড়তি অর্থ ব্যয় করতে হতো না, বরং তারা নিজ নিজ এলাকাতেই আধুনিক এবং বিশ্বমানের চিকিৎসাসেবা গ্রহণের সুযোগ পেত, যা জাতীয় স্বাস্থ্য খাতের সামগ্রিক উন্নয়নে একটি যুগান্তকারী পরিবর্তন নিয়ে আসত।

 

সার্বিক বিশ্লেষণে এটি অত্যন্ত স্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হয় যে, আজকের একনেক বৈঠকে অনুমোদনের জন্য অপেক্ষমাণ থাকা প্রতিটি প্রকল্পই দেশের আর্থসামাজিক প্রেক্ষাপট, অবকাঠামোগত আধুনিকায়ন এবং জনকল্যাণের মানদণ্ডে ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং সুদূরপ্রসারী।

 

যদিও প্রধানমন্ত্রীর রাষ্ট্রীয় জাপান সফরের মতো একটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ এবং জাতীয় স্বার্থের অনুকূল কূটনৈতিক ব্যস্ততার কারণে এই প্রকল্পগুলোর অনুমোদন প্রক্রিয়া সাময়িকভাবে কিছুটা বিলম্বিত হলো, তথাপি এটি দেশের সামগ্রিক উন্নয়নের গতিশীল ধারায় কোনো দীর্ঘস্থায়ী নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে না বলেই সংশ্লিষ্ট অর্থনীতিবিদ ও বিশেষজ্ঞরা জোরালোভাবে মনে করেন।

 

একটি দেশের সরকারপ্রধানের সফল বৈদেশিক সফর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করার পাশাপাশি নতুন বৈদেশিক বিনিয়োগ, দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতার নতুন দ্বার উন্মোচন করে। তাই বর্তমান প্রেক্ষাপটে একনেক বৈঠকের এই সাময়িক বিরতিকে একটি কৌশলগত এবং সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

 

পরিশেষে বলা যায়, দেশের চলমান উন্নয়ন অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখার ক্ষেত্রে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির এই বৈঠকগুলো অত্যন্ত নিয়ামক শক্তি হিসেবে কাজ করে। পনেরোটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের অনুমোদন সাময়িকভাবে স্থগিত হলেও, সরকারের পরিকল্পনা কমিশন এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলো তাদের প্রস্তুতিমূলক কাজগুলো আরও নিখুঁতভাবে যাচাই-বাছাই করার একটি বাড়তি সুযোগ পেল।

 

আশা করা হচ্ছে, প্রধানমন্ত্রী তার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সফল জাপান সফর শেষে দেশে ফিরে আসার পরপরই একটি বিশেষ একনেক বৈঠকের মাধ্যমে এই সমস্ত আটকে থাকা প্রকল্পগুলো দ্রুততম সময়ের মধ্যে আলোর মুখ দেখবে।

 

দেশের আপামর জনসাধারণ এবং অর্থনীতি সংশ্লিষ্ট সকলেই এখন সেই মাহেন্দ্রক্ষণের অপেক্ষায় রয়েছেন, যখন এই নয় হাজার কোটি টাকার বিপুল বিনিয়োগ বাস্তবায়নের মাধ্যমে বাংলাদেশ তার কাঙ্ক্ষিত অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জন এবং উন্নত রাষ্ট্র গঠনের অভীষ্ট পথে আরও এক ধাপ দৃঢ়তার সঙ্গে এগিয়ে যাবে।