এ পেশায় কাজ করতে গেলে কেউ প্রশংসা করবে, আবার কেউ নিন্দা করবে। দুটোকেই গ্রহণ করে পেশাদারিত্বের সঙ্গে এগিয়ে যেতে হবে। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির (ববিসাস) অষ্টম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান আলোচকের বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের জীবনানন্দ দাশ কনফারেন্স হলে ‘গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, গণতন্ত্র ও সুশাসন প্রতিষ্ঠায় রাষ্ট্রের করণীয়’ শীর্ষক এ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। আকবর হোসেন বলেন, গণতন্ত্র ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ওতপ্রোতভাবে জড়িত।
গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় যেমন গণমাধ্যম প্রয়োজন, তেমনি গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে গণতান্ত্রিক চর্চাও জরুরি। সাংবাদিকের নিজস্ব মতাদর্শ থাকতে পারে, তবে সাংবাদিকতায় বস্তুনিষ্ঠতা বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বস্তুনিষ্ঠতা থাকলে নিজস্ব মতাদর্শের ঊর্ধ্বে উঠে সবার প্রতি ন্যায়বিচার করা সম্ভব।
তিনি আরও বলেন, একজন সাংবাদিকের স্বাধীন থাকার সবচেয়ে বড় শক্তি তাঁর সততা ও পেশাদারিত্ব। এই পেশাদারিত্বের মাধ্যমে সাংবাদিকরা সরকার ও রাষ্ট্রীয় ক্ষমতাকে প্রশ্ন করবেন এবং জবাবদিহি ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে ভূমিকা রাখবেন।
ক্ষমতাসীনদের সঙ্গে সাংবাদিকদের সম্পর্ক সবসময় পেশাগত অবস্থানে থাকা উচিত; অতিরিক্ত ঘনিষ্ঠতা কিংবা অযথা বিরোধ,কোনোটিই কাম্য নয়। গণমাধ্যমের সততা ও পেশাদারিত্বের মধ্য দিয়েই সরকারের স্বচ্ছতা, গণতন্ত্র ও সুশাসন প্রতিষ্ঠা সম্ভব।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. মামুন অর রশিদ বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার পাশাপাশি অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার চর্চার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার মাধ্যমে প্রকৃত সত্য তুলে ধরতে সাংবাদিকদের প্রতি আহ্বান জানান।
ববিসাসের সভাপতি মো. রবিউল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বরিশাল প্রেসক্লাবের সভাপতি অধ্যক্ষ আমিনুল ইসলাম খসরু, বরিশাল রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি আনিসুর রহমান স্বপন, বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার সহযোগী অধ্যাপক ড. আবদুল আলিম বছির, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের চেয়ারম্যান সহকারী অধ্যাপক মো. ফরহাদ উদ্দীন এবং বরিশাল জেলা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি আযাদ আলাউদ্দীন।
এর আগে সকাল সাড়ে ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রাউন্ড ফ্লোরে কেক কাটার মধ্য দিয়ে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আয়োজন শুরু হয়। পরে কনফারেন্স হলের সামনে বাংলাদেশের সংবাদপত্রের ইতিহাস ও জুলাই আন্দোলনভিত্তিক তথ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়।
আলোচনা সভা শেষে আমন্ত্রিত অতিথিদের হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেওয়া হয়। পরে সভাপতি মো. রবিউল ইসলাম উপস্থিত সবাইকে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর শুভেচ্ছা জানিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করেন। অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের নেতৃবৃন্দ, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা এবং বরিশাল শহরের বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।