এ কর্মসূচির মাধ্যমে প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের শিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণ, আর্থিক সহায়তা প্রদান এবং তাদের আত্মনির্ভরশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগকে আরও বেগবান করার আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ও সুধীজন।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর ) বেলা ২টা ৩০ মিনিটে রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলা মিনি হলরুমে “প্রতিবন্ধী শিশুদের মূলস্রোতধারায় অন্তর্ভুক্তিতে সমাজসেবা অধিদপ্তরের শিক্ষা উপবৃত্তি কর্মসূচির তাৎপর্য” শীর্ষক সেমিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন।
সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিভাগীয় সমাজসেবা কার্যালয়, রাজশাহীর অতিরিক্ত পরিচালক জনাব তাপস ফলিয়া। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন দুর্গাপুর উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা জনাব আ.ন.ম. রাকিবুল ইউসুফ।
সেমিনারে দুর্গাপুর উপজেলা মেডিকেল অফিসার ডা. মোঃ মেহেদী হাসান বলেন, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি নির্বাচনের ক্ষেত্রে তিনি অত্যন্ত আন্তরিকতা ও সতর্কতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন, যাতে কোনো প্রকৃত প্রতিবন্ধী ব্যক্তি সরকারি সুবিধা থেকে বঞ্চিত না হন।
একই সঙ্গে কেউ যেন প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে অনৈতিকভাবে প্রতিবন্ধী ভাতা বা অন্যান্য সুবিধা গ্রহণ করতে না পারেন, সে বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়। তিনি বলেন, প্রকৃত প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা প্রদানের বিধান রয়েছে।
এসব সুযোগ কাজে লাগিয়ে তারা যেন সমাজের বোঝা না হয়ে নিজেদের যোগ্যতা ও প্রতিভার বিকাশ ঘটিয়ে দেশ ও সমাজের কল্যাণে অবদান রাখতে পারেন, সেটিই আমাদের প্রত্যাশা। উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান বলেন, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা সমাজের বোঝা নন; বরং তারা আমাদের সুবর্ণ নাগরিক।
তাদের যথাযথ সম্মান, মর্যাদা ও অধিকার নিশ্চিত করে সমাজের যোগ্য ও আত্মমর্যাদাশীল নাগরিক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। তিনি আরও বলেন, প্রতিবন্ধী শিশুদের প্রতি বৈষম্য, অবহেলা ও নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি পরিহার করতে হবে।
তাদের শিক্ষা, সামাজিক অংশগ্রহণ ও বিকাশের সুযোগ নিশ্চিত করতে আমাদের সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। কোনো প্রতিবন্ধী শিশু যেন অধিকার থেকে বঞ্চিত না হয় কিংবা অবহেলার শিকার না হয়, সে বিষয়ে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে।
সেমিনারের সঞ্চালক দুর্গাপুর উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা আ.ন.ম. রাকিবুল ইউসুফ বলেন, সমাজসেবা অধিদপ্তর সরকারের সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি বাস্তবায়নে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। সরকারের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ ‘ফ্যামিলি কার্ড’ বাস্তবায়নের ক্ষেত্রেও সমাজসেবা বিভাগ কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
তিনি বলেন, সরকারি সুবিধা প্রকৃত উপকারভোগীদের কাছে পৌঁছে দিতে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। কোনো ধরনের পক্ষপাতিত্বের সুযোগ না রেখে প্রান্তিক ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় সমাজসেবা বিভাগ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনকালে বিভাগীয় সমাজসেবা কার্যালয়, রাজশাহীর অতিরিক্ত পরিচালক তাপস ফলিয়া সমাজসেবা অধিদপ্তরের বিভিন্ন কার্যক্রম ও সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির বিস্তারিত চিত্র তুলে ধরেন।
তিনি প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের শিক্ষা উপবৃত্তি ও প্রতিবন্ধী ভাতা প্রদানের কার্যক্রমের গুরুত্ব, উপকারভোগী নির্বাচন এবং এসব কর্মসূচির মাধ্যমে প্রতিবন্ধী শিশুদের শিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণের বিষয়টি সুস্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করেন।
তিনি বলেন, প্রতিবন্ধী শিশুদের শিক্ষার অধিকার নিশ্চিত করা এবং তাদের সমাজের মূলস্রোতধারায় সম্পৃক্ত করা রাষ্ট্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। শিক্ষা উপবৃত্তি কর্মসূচি প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবন অব্যাহত রাখতে সহায়তা করার পাশাপাশি তাদের আত্মবিশ্বাস, আত্মমর্যাদা ও ভবিষ্যৎ কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা তৈরিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে।
তিনি আরও বলেন, “সমাজসেবা অধিদপ্তরের বৃহৎ ও জনকল্যাণমূলক কর্মসূচিগুলোর প্রচার-প্রসার আরও বেগবান করতে হবে। উপস্থিত বিভিন্ন দপ্তরের প্রধান, জনপ্রতিনিধি ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের নেতৃবৃন্দের প্রতি আহ্বান জানাই, আপনারা নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করে এসব কর্মসূচির তথ্য সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেবেন।
এর মাধ্যমে প্রকৃত উপকারভোগীরা যেন তাদের ন্যায্য অধিকার ও সরকারি সুবিধা লাভ করতে পারেন, তা নিশ্চিত করতে হবে। সেমিনারে উপস্থিত বক্তারা বলেন, প্রতিবন্ধী শিশুদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সামাজিক নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত করা শুধু সরকারের একার দায়িত্ব নয়; এ ক্ষেত্রে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, জনপ্রতিনিধি, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন এবং সমাজের সর্বস্তরের মানুষের সম্মিলিত অংশগ্রহণ অপরিহার্য।
তারা আরও বলেন, প্রতিবন্ধী শিশুদের জন্য সহায়ক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলা, সামাজিক প্রতিবন্ধকতা দূর করা এবং তাদের প্রতিভা বিকাশের সুযোগ সৃষ্টি করতে পারলেই একটি বৈষম্যহীন, মানবিক ও সমতাভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠা সম্ভব হবে।
সেমিনারে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা তারজিনা খাতুন, উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা শারমিন শাপলা, উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আসাদুজ্জামানসহ বিভিন্ন দপ্তরের প্রধানগণ।
এছাড়া উপস্থিত ছিলেন অগ্রগামী প্রতিবন্ধী উন্নয়ন সংস্থার পরিচালক রবিউল ইসলাম, আলীপুর প্রত্যাশা স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের পরিচালক সোহেল চৌধুরী, পথচলা প্রতিবন্ধী উন্নয়ন সংস্থার পরিচালক মোঃ আক্কাশ আলী, দুর্গাপুর বুদ্ধি, বাক্ ও শ্রবণ প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা মোসাঃ আফরোজা খাতুন, ড্যাফোডিলের কাওছার আহম্মদ প্রমুখ।