শনিবার, নভেম্বর ৭, ২০২৬
২৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জিয়া ও খালেদা জিয়ার সমাধিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের শ্রদ্ধা

আর এন এস ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৭ নভেম্বর, ২০২৬, ১১:৪১ এএম

জিয়া ও খালেদা জিয়ার সমাধিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের শ্রদ্ধা
ছবি : Collected

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও জাতীয় ইতিহাসে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ একটি দিন ৭ নভেম্বর। ঐতিহাসিক জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস হিসেবে পরিচিত এই দিনটি জাতির গণতান্ত্রিক চেতনা, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার এক অনন্য প্রতীক।

 

২০২৬ সালের এই ঐতিহাসিক দিনে এক ভিন্ন মাত্রার ভাবগাম্ভীর্য ও রাষ্ট্রীয় মর্যাদার মধ্য দিয়ে দিনটি পালিত হয়েছে। শনিবার সকালে এক স্নিগ্ধ পরিবেশে স্বাধীন বাংলাদেশের অন্যতম রূপকার, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) প্রতিষ্ঠাতা ও শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং দলের সাবেক চেয়ারপারসন, আপসহীন নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

 

শনিবার, ৭ নভেম্বর ২০২৬, সকাল ঠিক সাড়ে ৮টায় রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে অবস্থিত জিয়া উদ্যানে এক ভাবগম্ভীর ও রাষ্ট্রীয় আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে এই শ্রদ্ধা নিবেদন পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সমাধি প্রাঙ্গণে উপস্থিত হলে সেখানে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়।

 

তিনি অত্যন্ত ধীর পদক্ষেপে এগিয়ে গিয়ে তাঁর পিতা, আধুনিক বাংলাদেশের অন্যতম স্থপতি জিয়াউর রহমান এবং মাতা, বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের অবিসংবাদিত নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানান। পুষ্পস্তবক অর্পণের পর প্রধানমন্ত্রী সেখানে কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন এবং তাদের রুহের মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাতে অংশগ্রহণ করেন।

 

এই সময় সশস্ত্র বাহিনীর একটি চৌকস দল রাষ্ট্রীয় সম্মান প্রদর্শন করে এবং বিউগলে করুণ সুর বেজে ওঠে, যা পুরো পরিবেশকে এক গভীর শোক ও শ্রদ্ধার আবহে আচ্ছন্ন করে ফেলে। প্রধানমন্ত্রীর এই শ্রদ্ধা নিবেদন অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ও মন্ত্রিপরিষদের গুরুত্বপূর্ণ সদস্যবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

 

বিশেষ এই মুহূর্তে প্রধানমন্ত্রীর পাশে ছিলেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদ, অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং সমাজকল্যাণমন্ত্রী এ জেড এম জাহিদ হোসেন।

 

এছাড়া উপস্থিত ছিলেন প্রবীণ রাজনীতিক ও জাতীয় নেতা নজরুল ইসলাম খান, ফরহাদ হালিম ডোনার, আমানুল্লাহ আমান, দলের ভাইস চেয়ারম্যান ও সরকারের মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আজম খান এবং জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনিসহ দেশবরেণ্য আরও অনেক রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও সরকারের শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তাবৃন্দ।

 

তাদের উপস্থিতি এই অনুষ্ঠানকে কেবল একটি দলীয় কাঠামোর মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে এক বিশাল রাষ্ট্রীয় ও জাতীয় ঐক্যের প্রতীকে পরিণত করে। ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট বিবেচনায় ৭ নভেম্বরের এই দিনটি বাঙালি জাতির জন্য এক যুগান্তকারী পরিবর্তনের দিন।

 

১৯৭৫ সালের এই দিনে বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে এক চরম অস্থিতিশীলতা ও অনিশ্চয়তার মধ্যে সিপাহি ও জনতার এক অভূতপূর্ব অভ্যুত্থান ঘটেছিল। সেই অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে তৎকালীন সেনাপ্রধান জিয়াউর রহমানকে বন্দিদশা থেকে মুক্ত করে নিয়ে আসে সাধারণ সৈনিক ও জনতা।

 

এই দিনটি মূলত দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার এক স্বতঃস্ফূর্ত গণজাগরণের দিন। দেশের মানুষ ও সাধারণ সৈনিকেরা এক কাতারে দাঁড়িয়ে দেশপ্রেমের যে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিলেন, তা স্বাধীন বাংলাদেশের ইতিহাসে বিরল।

 

সেই বিপ্লব ও সংহতির চেতনাকে ধারণ করেই জিয়াউর রহমান পরবর্তীতে আধুনিক ও স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ার কাজে হাত দিয়েছিলেন। তিনি বহুদলীয় গণতন্ত্রের পুনর্প্রবর্তন, মুক্তবাজার অর্থনীতি চালু এবং বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের দর্শনের মাধ্যমে জাতিকে একটি নতুন পরিচয় এনে দিয়েছিলেন।

 

জিয়াউর রহমানের শাহাদাতবরণের পর বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেন তাঁরই সহধর্মিণী বেগম খালেদা জিয়া। একজন সাধারণ গৃহবধূ থেকে তিনি হয়ে ওঠেন দেশের কোটি কোটি মানুষের আস্থার প্রতীক এবং গণতান্ত্রিক আন্দোলনের আপসহীন নেত্রী।

 

নব্বইয়ের দশকের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে তাঁর অসামান্য নেতৃত্ব এবং পরবর্তীতে সংসদীয় গণতন্ত্রের পুনরুত্থানে তাঁর ভূমিকা বাংলাদেশের ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। বারবার কারাবরণ, শারীরিক অসুস্থতা এবং নানা রাজনৈতিক নিপীড়ন সহ্য করেও তিনি কখনও দেশের মানুষের অধিকার আদায়ের প্রশ্নে মাথা নত করেননি।

 

আজ যখন তিনি শারীরিকভাবে উপস্থিত নেই, তখন তাঁর সমাধি দেশের মানুষের কাছে এক পবিত্র তীর্থস্থানে পরিণত হয়েছে, যা থেকে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম প্রেরণা খুঁজে পায়। ২০২৬ সালের এই ৭ নভেম্বর এক নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতায় পালিত হচ্ছে।

 

এক দীর্ঘ ও কণ্টককীর্ণ রাজনৈতিক পথপরিক্রমা, নির্বাসন এবং দলের চরম দুঃসময়ে কাণ্ডারির ভূমিকা পালন করার পর আজ তারেক রহমান বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন।

 

তাই পিতা-মাতার সমাধিতে তাঁর এই শ্রদ্ধা নিবেদন কেবল একজন সন্তানের আবেগ নয়, বরং এটি একটি আদর্শিক উত্তরাধিকারের সফল বাস্তবায়নেরও প্রতীক। দীর্ঘ সংগ্রাম ও ত্যাগের পর একটি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে জনগণের বিপুল সমর্থন নিয়ে রাষ্ট্রক্ষমতায় আসীন হয়ে তিনি যেন তাঁর পিতা-মাতার লালিত স্বপ্নেরই বাস্তবায়ন ঘটাচ্ছেন।

 

তাঁর এই রাষ্ট্রীয় শ্রদ্ধা নিবেদন বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ রাজনীতির জন্য এক ইতিবাচক বার্তা বহন করে, যেখানে বিভেদের রাজনীতির অবসান ঘটিয়ে একটি ঐক্যবদ্ধ, গণতান্ত্রিক ও সমৃদ্ধশালী বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়েছে।

 

শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে প্রধানমন্ত্রী ও অন্যান্য মন্ত্রিপরিষদ সদস্যবৃন্দ সেখানে উপস্থিত সাধারণ মানুষ, দলীয় নেতাকর্মী এবং গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। উপস্থিত রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আজকের এই অনুষ্ঠান প্রমাণ করে যে, বাংলাদেশ তার গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও ঐতিহ্যের দিকে আবার সদর্পে ফিরে এসেছে।

 

শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান যে বহুদলীয় গণতন্ত্রের বীজ বপন করেছিলেন এবং বেগম খালেদা জিয়া যে আপসহীন সংগ্রামের মাধ্যমে তা রক্ষা করেছিলেন, তারই ধারাবাহিকতায় বর্তমান সরকার দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে বদ্ধপরিকর।

 

সব মিলিয়ে ২০২৬ সালের এই ৭ নভেম্বর একাধারে যেমন অতীতকে স্মরণ করার দিন, তেমনি ভবিষ্যতের এক নতুন ও উন্নত বাংলাদেশ গড়ার শপথ নেওয়ারও এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত হিসেবে জাতির ইতিহাসে উজ্জ্বল হয়ে থাকবে।