রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) পূর্বাচল নিউ টাউন প্রকল্পে ১০ কাঠা আয়তনের একটি প্লট বরাদ্দে ক্ষমতার অপব্যবহার ও গুরুতর অনিয়মের অভিযোগে এই মামলাটি দায়ের করেছিল দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। মঙ্গলবার ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৪ এর বিচারক রবিউল আলম রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে রায়ের এই তারিখ নির্ধারণ করেন।
দুদকের পাবলিক প্রসিকিউটর মীর আহমেদ সালাম সংবাদমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন যে, দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া, সাক্ষ্যগ্রহণ এবং উভয় পক্ষের আইনি ব্যাখ্যার পর আদালত রায় ঘোষণার জন্য প্রস্তুত হয়েছে। এর আগে গত ২৩ নভেম্বর আদালত আজকের দিনটিকে (মঙ্গলবার) যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের জন্য ধার্য করেছিল। মামলার বিচারিক কার্যক্রম ও শুনানির বিবরণ থেকে জানা যায়, অভিযুক্ত ১৭ জন আসামির মধ্যে ১৬ জনই বর্তমানে পলাতক রয়েছেন।
পলাতক আসামিদের মধ্যে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের নামও রয়েছে। আদালতের নিয়ম অনুযায়ী, পলাতক আসামিদের অনুপস্থিতিতেই (in absentia) এই বিচারকার্য পরিচালিত হয়েছে এবং রাষ্ট্রপক্ষ তাদের বিপক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেছে। মঙ্গলবার আদালতে একমাত্র উপস্থিত আসামি খুরশিদ আলমের পক্ষে তাঁর আইনজীবী শুনানিতে অংশ নেন এবং মক্কেলকে নির্দোষ দাবি করে আইনি যুক্তি তুলে ধরেন।
এর আগে গত ১৮ নভেম্বর মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এবং দুদকের সহকারী পরিচালক আফনান জান্নাত কেয়ার জবানবন্দি ও জেরা সমাপ্তির মধ্য দিয়ে সাক্ষ্যগ্রহণ পর্ব শেষ হয়। রাষ্ট্রপক্ষে এই মামলায় মোট ৩২ জন সাক্ষী আদালতের সামনে তাদের জবানবন্দি প্রদান করেছেন। সাক্ষীদের জবানবন্দিতে প্লট বরাদ্দের প্রক্রিয়ায় অনিয়ম এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের চিত্র উঠে এসেছে বলে রাষ্ট্রপক্ষ দাবি করেছে।
মামলার নথিপত্র ও ইতিহাস পর্যালোচনা করে দেখা যায়, ২০২৫ সালের ১৩ জানুয়ারি দুর্নীতি দমন কমিশনের উপ-পরিচালক মো. সালাউদ্দিন বাদী হয়ে শেখ হাসিনা, শেখ রেহানা ও টিউলিপ সিদ্দিকসহ ১৫ জনের নাম উল্লেখ করে এই মামলাটি দায়ের করেন। পরবর্তীতে মামলার তদন্ত শেষে তদন্তকারী কর্মকর্তা ১০ মার্চ আদালতে ১৭ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র বা চার্জশিট দাখিল করেন।
বিচারিক প্রক্রিয়ার ধারাবাহিকতায় গত ৩১ জুলাই ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৪ এবং বিশেষ জজ আদালত-৫ পৃথকভাবে এই সংক্রান্ত একাধিক মামলায় অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দিয়েছিল। আগামী ১ ডিসেম্বর এই রায়ের মাধ্যমে দীর্ঘ প্রতীক্ষিত এবং জনগুরুত্বপূর্ণ এই মামলাটির একটি আইনি নিস্পত্তি হতে যাচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।