জাতির উদ্দেশ্যে দেওয়া ভাষণে প্রধান উপদেষ্টা অত্যন্ত আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, "আমি আজ আপনাদের সামনে এক অত্যন্ত বেদনাদায়ক সংবাদ নিয়ে হাজির হয়েছি। সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আমাদের আন্দোলনের অকুতোভয় সৈনিক শরীফ ওসমান হাদি আর আমাদের মাঝে নেই।" তিনি জানান, সিঙ্গাপুরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ভিভিয়ান বালাকৃষ্ণান ব্যক্তিগতভাবে টেলিফোন করে তাকে হাদির মৃত্যুর সংবাদটি নিশ্চিত করেছেন।
ফ্যাসিবাদ ও আধিপত্যবাদবিরোধী লড়াইয়ে হাদির অসামান্য অবদানের কথা স্মরণ করে অধ্যাপক ইউনূস প্রার্থনা করেন যেন মহান রাব্বুল আলামিন তাকে শহীদ হিসেবে কবুল করেন। প্রধান উপদেষ্টা তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন যে, ওসমান হাদির মৃত্যু বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রার ক্ষেত্রে এক অপূরণীয় ক্ষতি। জুলাই বিপ্লবে তার সাহসী ভূমিকা এবং পরবর্তী সময়ে দেশের স্বার্থ রক্ষায় তার নিরলস পরিশ্রম তরুণ প্রজন্মের কাছে তাকে একজন আদর্শে পরিণত করেছিল।
তার এই চলে যাওয়া কেবল তার পরিবারের জন্য নয়, বরং গোটা জাতির জন্য এক বিশাল শূন্যতা তৈরি করেছে। প্রধান উপদেষ্টা মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং তার শোকসন্তপ্ত স্ত্রী, পরিবারের সদস্য, আত্মীয়-স্বজন ও অগণিত সহকর্মীদের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করেন। হাদির পরিবারের প্রতি রাষ্ট্রের দায়বদ্ধতার কথা উল্লেখ করে অধ্যাপক ইউনূস বলেন, যে ত্যাগ হাদি স্বীকার করেছেন, তার ঋণ শোধ করা সম্ভব নয়।
তবে তার পরিবারের পাশে থাকা সরকারের নৈতিক দায়িত্ব। এরই অংশ হিসেবে তার স্ত্রী ও একমাত্র সন্তানের লালন-পালন ও ভবিষ্যতের সকল দায়িত্ব সরকার বহন করবে। তিনি দেশবাসীকে এই শোকের মুহূর্তে ধৈর্য ধারণ করার এবং শহীদ হাদির স্বপ্ন পূরণে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান। হাদির রক্ত বৃথা যেতে দেওয়া হবে না এবং তার আদর্শকে ধারণ করেই নতুন বাংলাদেশ গড়ে তোলা হবে বলে তিনি পুনরায় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।