এই ঘোষণার মাধ্যমে সরকার দেশের ক্রান্তিলগ্নে হাদির অসামান্য ত্যাগের প্রতি রাষ্ট্রীয় সম্মান ও দায়বদ্ধতা প্রদর্শন করল। সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় হাদির মৃত্যুর সংবাদটি অত্যন্ত ভারাক্রান্ত হৃদয়ে দেশবাসীকে জানান প্রধান উপদেষ্টা। তিনি উল্লেখ করেন, হাদির মতো একজন নিবেদিতপ্রাণ ও সাহসী তরুণের চলে যাওয়া বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রার জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি।
শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করে অধ্যাপক ইউনূস বলেন, "শরীফ ওসমান হাদির এই অকাল মৃত্যুতে আমি ব্যক্তিগতভাবে এবং সরকারের পক্ষ থেকে গভীর শোক প্রকাশ করছি। আমরা তার শোকাতুর পরিবারের পাশে আছি। শহীদ হাদির স্ত্রী ও তার একমাত্র সন্তানের সুন্দর ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে সরকার সব ধরনের দায়িত্ব গ্রহণ করছে।" প্রধান উপদেষ্টা তার ভাষণে শরীফ ওসমান হাদিকে ‘ফ্যাসিবাদ ও আধিপত্যবাদবিরোধী সংগ্রামের এক অমর সৈনিক’ হিসেবে অভিহিত করেন।
তিনি বলেন, হাদি যে নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেছিলেন এবং যে লড়াই শুরু করেছিলেন, তা এখনো অপূর্ণ রয়ে গেছে। সেই স্বপ্ন বাস্তবায়ন এবং একটি বৈষম্যহীন রাষ্ট্র বিনির্মাণের দায়িত্ব এখন সমগ্র জাতির কাঁধে ন্যস্ত। এই বীর যোদ্ধার আত্মত্যাগ বৃথা যেতে দেওয়া হবে না বলে তিনি পুনরায় দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। তিনি দেশবাসীকে আহ্বান জানান যেন তারা হাদির এই শোককে শক্তিতে রূপান্তর করে দেশের উন্নয়নে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করে যান।
হাদির রাজনৈতিক ও সামাজিক ভূমিকার প্রশংসা করে প্রধান উপদেষ্টা আরও বলেন, হাদি ছিলেন তারুণ্যের শক্তির প্রতীক এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে এক আপসহীন কণ্ঠস্বর। তার প্রয়াণ দেশের জন্য এক বিশাল শূন্যতা তৈরি করলেও তার আদর্শ পরবর্তী প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে। সরকারের এই ঘোষণার ফলে শহীদ হাদির পরিবার সামাজিক ও অর্থনৈতিক সুরক্ষা পাবে বলে আশা করা হচ্ছে। পরিশেষে, প্রধান উপদেষ্টা হাদির বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং দেশবাসীকে তার আদর্শ ধারণ করার অনুরোধ জানান।