সকাল সাড়ে ১০টা থেকে সরেজমিনে দেখা যায়, রাজধানীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ দলে দলে শাহবাগে জড়ো হচ্ছেন। বিক্ষোভকারীদের হাতে জাতীয় পতাকা এবং মুখে ছিল অধিকার আদায়ের দৃপ্ত স্লোগান। 'আমরা সবাই হাদি হবো, যুগে যুগে লড়ে যাবো'-এমন স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। এছাড়া ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে এবং হাদি হত্যার দ্রুত বিচারের দাবিতে বিক্ষোভকারীরা মুহুর্মুহু স্লোগান দিচ্ছেন। শোকাতুর ও ক্ষুব্ধ জনতাকে সামাল দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে।
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া মাদ্রাসা শিক্ষার্থী আশফাকুর রহমান আবেগজড়িত কণ্ঠে জানান, একজন নির্ভীক দেশপ্রেমিককে হারানোর শোকে তারা স্তব্ধ। রাতে এই দুঃসংবাদ পাওয়ার পর থেকেই তারা রাজপথে নামার প্রস্তুতি নিয়েছেন। রামপুরা থেকে আসা ইমরুল কায়েস বলেন, শরীফ ওসমান হাদির মৃত্যু পুরো জাতির জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি। এই হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তারা ঘরে ফিরবেন না বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন।
হাদি হত্যার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর বৃহস্পতিবার রাতেই দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ শুরু হয়। পরিস্থিতির উত্তাপ ছড়িয়ে পড়লে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে অবস্থিত দৈনিক প্রথম আলো ও ডেইলি স্টার ভবনে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। হামলার কারণে কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ায় শুক্রবার পত্রিকা দুটির কোনো মুদ্রিত সংস্করণ প্রকাশিত হয়নি। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার আগামীকাল শনিবার সারা দেশে একদিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছে।
উল্লেখ্য, গত ১২ ডিসেম্বর নির্বাচনী প্রচারণা শেষে ফেরার পথে সন্ত্রাসীদের গুলিতে গুরুতর আহত হন তরুণ এই রাজনীতিবিদ। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও গতকাল সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। আজ সন্ধ্যায় তার মরদেহ দেশে পৌঁছানোর কথা রয়েছে এবং শনিবার জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। দেশব্যাপী চলমান এই আন্দোলনকে ঘিরে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।