শনিবার, জুলাই ১৮, ২০২৬
৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শহীদ শরীফ ওসমান হাদির মরদেহ আজ সন্ধ্যায় দেশে ফিরছে, শনিবার মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে জানাজা

আর এন এস ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৯ ডিসেম্বর, ২০২৫, ১২:৪৯ পিএম

শহীদ শরীফ ওসমান হাদির মরদেহ আজ সন্ধ্যায় দেশে ফিরছে, শনিবার মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে জানাজা
ছবি: File Photo

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অগ্রসেনানি এবং ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদির মরদেহ আজ শুক্রবার সন্ধ্যায় সিঙ্গাপুর থেকে দেশে এসে পৌঁছাবে। সিঙ্গাপুরের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গতকাল বৃহস্পতিবার রাত পৌনে ১০টার দিকে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তার অকাল মৃত্যুতে দেশজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে এবং আগামীকাল শনিবার সারা দেশে রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করা হয়েছে।

 

ইনকিলাব মঞ্চের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বাংলাদেশ বিমানের একটি বাণিজ্যিক ফ্লাইটে শুক্রবার সিঙ্গাপুরের স্থানীয় সময় বিকেল ৩টা ৫০ মিনিটে শহীদ ওসমান হাদির মরদেহ নিয়ে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা করা হবে। ফ্লাইটটি আজ সন্ধ্যা ৬টা ৫ মিনিটে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করার কথা রয়েছে। এর আগে আজ সকাল ১০টায় সিঙ্গাপুরের ঐতিহাসিক দ্য আঙ্গুলিয়া মসজিদে তার প্রথম জানাজা সম্পন্ন হয়েছে।

 

বাংলাদেশে তার দ্বিতীয় জানাজা আগামীকাল শনিবার বাদ জোহর রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে অনুষ্ঠিত হবে। ইনকিলাব মঞ্চের পক্ষ থেকে দলমত নির্বিশেষে সর্বস্তরের জনগণকে এই জানাজায় শরিক হওয়ার জন্য বিনীত আহ্বান জানানো হয়েছে। শরীফ ওসমান হাদির এই বিয়োগান্তক ঘটনার সূত্রপাত হয় গত ১২ ডিসেম্বর। রাজধানীর পুরানা পল্টন এলাকায় নির্বাচনী প্রচারণা চালানোর সময় তিনি একদল সশস্ত্র সন্ত্রাসীর অতর্কিত হামলার শিকার হন।

 

সন্ত্রাসীদের ছোড়া গুলি তার মাথায় বিদ্ধ হলে তিনি গুরুতর আহত হন। তাৎক্ষণিকভাবে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং পরবর্তীতে এভারকেয়ার হাসপাতালে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়। শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলে গত ১৫ ডিসেম্বর সরকারের বিশেষ তত্ত্বাবধানে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। সেখানে দীর্ঘ লড়াই শেষে গতকাল রাতে তিনি পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করেন।

 

শরীফ ওসমান হাদির মৃত্যুতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন। তিনি এক শোকবার্তায় হাদির অসামান্য সাহসিকতা ও দেশপ্রেমের কথা স্মরণ করেন। এই তরুণ নেতার মৃত্যুতে সৃষ্ট পরিস্থিতিতে শোককে শক্তিতে রূপান্তর করতে এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে সরকার দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। আগামীকাল শনিবার রাষ্ট্রীয়ভাবে শোক পালনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে, যার ফলে সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত থাকবে।