শোকাতুর জনতার কণ্ঠে ধ্বনিত হচ্ছে হাদির স্মৃতিচারণ এবং তার আদর্শকে সমুন্নত রাখার অঙ্গীকার। আজ সকালে সরেজমিনে দেখা যায়, মানিক মিয়া এভিনিউ অভিমুখে আসা প্রতিটি মিছিলে শোকের আবহ বিরাজ করছে। সমবেত জনতা ‘আমরা সবাই হাদি হবো, যুগে যুগে লড়ে যাবো’ এবং ‘হাদির রক্ত বৃথা যেতে দেব না’-এমন সব আবেগঘন স্লোগানে রাজপথ কাঁপিয়ে তুলছেন। নেতার কফিনকে ঘিরে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে আসা মানুষের ভিড় ক্রমেই বাড়ছে।
জানাজার সময় যত ঘনিয়ে আসছে, মানিক মিয়া এভিনিউ এবং এর আশপাশের এলাকা জনসমুদ্রে পরিণত হচ্ছে। রাজনৈতিক দল ও মত নির্বিশেষে সর্বস্তরের মানুষের এই স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ একটি শোকাবহ পরিবেশের সৃষ্টি করেছে। বিশাল এই জনসমাগম এবং জানাজা অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কোনো ফাঁক রাখেনি প্রশাসন। মানিক মিয়া এভিনিউয়ের প্রতিটি প্রবেশপথে বসানো হয়েছে বিশেষ নিরাপত্তা চৌকি।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বিপুল সংখ্যক পুলিশ, র্যাব ও আনসার সদস্য মোতায়েনের পাশাপাশি সেনাবাহিনীর সদস্যদেরও টহল দিতে দেখা গেছে। জানাজা শেষে হাদির মরদেহ জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের মাজারের পাশে সমাহিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে ইনকিলাব মঞ্চের পক্ষ থেকে জানানো হয়। এই ঘোষণা শোকাতুর সমর্থকদের মধ্যে আবেগপ্রবণ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে।
উল্লেখ্য, গত ১২ ডিসেম্বর নির্বাচনী প্রচারণা শেষে ফেরার পথে ঢাকা-৮ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী শরিফ ওসমান হাদি সন্ত্রাসীদের গুলিতে গুরুতর আহত হন। দেশে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে গত ১৫ ডিসেম্বর সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত বৃহস্পতিবার তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
তার মৃত্যুতে আজ দেশজুড়ে রাষ্ট্রীয় শোক পালিত হচ্ছে। গতকাল সন্ধ্যায় তার মরদেহ দেশে আসার পর আজ সকালে ময়নাতদন্ত শেষে জানাজার জন্য নিয়ে আসা হয়। একজন লড়াকু ব্যক্তিত্বের এই অকাল বিদায় দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক অপূরণীয় শূন্যতার সৃষ্টি করল।