শৃঙ্খলার স্বার্থে চীন থেকে আনা অত্যাধুনিক ৮টি আর্চওয়ে গেট দিয়ে কড়া তল্লাশির মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে সারিবদ্ধভাবে ভেতরে প্রবেশ করানো হচ্ছে। শনিবার দুপুর ২টায় দক্ষিণ প্লাজায় শরীফ ওসমান হাদির নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। সকাল থেকেই বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মী, শিক্ষার্থী ও সাধারণ জনগণ ব্যানার ও ফেস্টুনসহ মিছিল নিয়ে সংসদ ভবন প্রাঙ্গণে জড়ো হতে শুরু করেন।
প্রিয় নেতার শেষ বিদায়ে অংশ নিতে আসা মানুষের সারি এতটাই দীর্ঘ হয়েছে যে, তা সংসদ ভবন এলাকা ছাড়িয়ে ফার্মগেট ও আসাদ গেট পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা প্রতিটি ধাপে চেকিং ও শারীরিক তল্লাশির মাধ্যমে প্রবেশপ্রক্রিয়া সচল রাখছেন। সারিতে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় সুদূর যুক্তরাষ্ট্র থেকে আসা প্রবাসী বাংলাদেশি এস এম নজরুল ইসলাম তার আবেগঘন প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন। তিনি জানান, শরীফ ওসমান হাদির মতো ব্যক্তিত্ব যুগে যুগে একবারই জন্ম নেয়।
এমন একজন দেশপ্রেমিক মানুষের শেষ বিদায়ে অংশ নিতে কয়েক ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করাকে তিনি বড় সৌভাগ্যের বিষয় বলে মনে করেন। নজরুল ইসলাম দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, হাদি সুস্থ হয়ে ফিরলে তার নির্বাচনী প্রচারণায় সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণের ইচ্ছা ছিল তার, কিন্তু সেই আশা আর পূর্ণ হলো না। সংসদ ভবন চত্বরে প্রবেশের পর ছাত্র-জনতা সুশৃঙ্খলভাবে দক্ষিণ প্লাজায় অবস্থান গ্রহণ করছেন।
জানাজার নির্ধারিত সময়ের আগেই এলাকাটি কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে উঠবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ইনকিলাব মঞ্চের স্বেচ্ছাসেবক ও পুলিশ সদস্যরা সম্মিলিতভাবে আগতদের বসার ও দাঁড়ানোর জায়গা নির্ধারণ করে দিচ্ছেন। জানাজা শেষে তাকে যথাযথ মর্যাদায় সমাহিত করার প্রস্তুতিও সমান্তরালভাবে এগিয়ে চলছে। হাদির অকাল মৃত্যুতে শোকাতুর এই জনসমুদ্রই প্রমাণ করছে সাধারণ মানুষের হৃদয়ে তার অবস্থান কতটা গভীর ছিল।