ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) সদরদপ্তর থেকে এই নিরাপত্তা কার্যক্রম সরাসরি তদারকি করা হবে। মাঠ পর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কয়েক হাজার সদস্য মোতায়েনের পাশাপাশি গোয়েন্দা নজরদারিও কয়েক গুণ বাড়ানো হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, তারেক রহমানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার নেতৃত্বে উচ্চপর্যায়ের একাধিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেখানে সম্ভাব্য সব ধরনের ঝুঁকি পর্যালোচনা করে একটি সমন্বিত নিরাপত্তা পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হয়।
এই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে বিমানবন্দর থেকে গুলশানের বাসভবন পর্যন্ত চলাচলের প্রতিটি পথে পুলিশের ‘স্পেশাল স্কট’ থাকবে। রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে নতুন করে চেকপোস্ট বসানো হয়েছে এবং প্রতিটি থানা এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। এমনকি ডিএমপির বিশেষায়িত ইউনিট ‘সোয়াত’ (SWAT)-কেও স্ট্যান্ডবাই রাখা হয়েছে।
নিরাপত্তা ব্যবস্থার অংশ হিসেবে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আজ বুধবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার জন্য সাধারণ দর্শনার্থীদের প্রবেশে কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। এই সময়ে শুধুমাত্র বৈধ টিকিটধারী যাত্রীরাই বিমানবন্দরে প্রবেশ করতে পারবেন। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, যাত্রীসেবা ও অপারেশনাল শৃঙ্খলা বজায় রাখতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এছাড়া বিমানবন্দর সংলগ্ন এলাকায় ড্রোন উড্ডয়ন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
তারেক রহমানের ব্যক্তিগত ও দলীয় নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকবে ‘চেয়ারপারসন সিকিউরিটি ফোর্স’ (সিএসএফ)। সংস্থাটির প্রধান সমন্বয়কারী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামছুল আলমের নেতৃত্বে সিএসএফ সদস্যরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে কয়েক স্তরের নিরাপত্তা বলয় তৈরি করবে। বিমানবন্দর থেকে ৩০০ ফিট হয়ে এভারকেয়ার হাসপাতাল এবং এরপর গুলশানের বাসভবনে পৌঁছানো পর্যন্ত পুরো পথজুড়ে গোয়েন্দা সংস্থা ও পুলিশের কয়েক হাজার সদস্য পাহারায় থাকবেন।
বিএনপি দলীয় সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার বেলা ১১টা ৫৫ মিনিটে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে তারেক রহমানের ঢাকায় অবতরণ করার কথা রয়েছে। তার সঙ্গে স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান ও কন্যা জাইমা রহমানও থাকতে পারেন। দেশে ফেরার পর তিনি প্রথমে এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন তার মা বেগম খালেদা জিয়াকে দেখতে যাবেন এবং এরপর গুলশানের বাসভবনে পৌঁছাবেন। তার এই প্রত্যাবর্তনকে ঘিরে বিএনপি সারা দেশে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে এবং রাজধানীতে কয়েক লাখ মানুষের সমাগম হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।