বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) দুপুরে ট্রাইব্যুনাল-১-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল আসামিদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন (চার্জ গঠন) করে এই ঐতিহাসিক আদেশ প্রদান করেন। শুনানির শুরুতেই আসামিপক্ষের আইনজীবীরা অভিযোগ থেকে অব্যাহতির (ডিসচার্জ) আবেদন জানালেও আদালত তা খারিজ করে দেন। প্রসিকিউশনের পক্ষে চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম মামলার ভয়াবহতা তুলে ধরে বলেন, গত জুলাই মাসে রামপুরা এলাকায় আন্দোলনরত ছাত্র-জনতার ওপর বিজিবি কর্মকর্তা রেদোয়ানুল ইসলামকে সরাসরি গুলি ছুড়তে দেখা গেছে।
তদন্ত সংস্থার প্রতিবেদনে এই হত্যাযজ্ঞে তার প্রত্যক্ষ নেতৃত্ব ও অপরাধের প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়া গেছে। মামলার অন্য আসামিরা হলেন বিজিবির সাবেক কর্মকর্তা মেজর মো. রাফাত বিন আলম, ডিএমপির খিলগাঁও অঞ্চলের সাবেক অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) মো. রাশেদুল ইসলাম এবং রামপুরা থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মশিউর রহমান। এদিন সকালে কড়া নিরাপত্তায় ঢাকা সেনানিবাসের সাব-জেল থেকে প্রিজন ভ্যানে করে রেদোয়ানুল ইসলাম ও রাফাত বিন আলমকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়।
অন্য দুই আসামি এডিসি রাশেদুল ও ওসি মশিউর বর্তমানে পলাতক রয়েছেন। তাদের বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারি থাকা সত্ত্বেও আদালতে হাজির না হওয়ায় তাদের অনুপস্থিতিতেই বিচার প্রক্রিয়া চালানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর আগে গত ২২ অক্টোবর সেনা হেফাজতে থাকা রেদোয়ান ও রাফাতকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হলে তাদের গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।
জুলাই অভ্যুত্থানের সময় রামপুরা এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বেপরোয়া গুলিবর্ষণে কমপক্ষে ২৮ জন নিহত এবং অসংখ্য মানুষ পঙ্গুত্ব বরণ করেন। এই ঘটনায় করা তদন্তে বিজিবি ও পুলিশের চার কর্মকর্তার সংশ্লিষ্টতা পাওয়ায় প্রসিকিউশন গত ৬ ডিসেম্বর আলাদা ফরমাল চার্জ দাখিল করেছিল। ট্রাইব্যুনাল আজ সব পক্ষের শুনানি শেষে অভিযোগ গঠন করে সাক্ষ্যগ্রহণের দিন নির্ধারণ করেছেন। এই আদেশের মাধ্যমে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত গণহত্যার বিচারে আরও এক ধাপ অগ্রগতি সাধিত হলো।