তাকে বরণ করে নিতে রাজধানী ঢাকা এখন উৎসবের নগরীতে পরিণত হয়েছে। বিএনপি নেতাদের প্রত্যাশা, বিমানবন্দর থেকে সংবর্ধনা স্থল পর্যন্ত প্রায় ৫০ লাখ মানুষের এক নজিরবিহীন জনসমুদ্র সৃষ্টি হবে, যা দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায় যুক্ত করবে। তারেক রহমানের এই স্বদেশ প্রত্যাবর্তনকে কেন্দ্র করে সারা দেশ থেকে সাধারণ মানুষ ও নেতাকর্মীরা ঢাকার দিকে ছুটছেন। পঞ্চগড় থেকে কক্সবাজার-দেশের প্রতিটি প্রান্ত থেকে মানুষ বাস, ট্রেন ও লঞ্চযোগে রাজধানীতে আসছেন।
এই বিশাল জনস্রোত সামাল দিতে এবং যাতায়াত নির্বিঘ্ন করতে বিএনপির আবেদনের প্রেক্ষিতে রেলওয়ে ১০টি রুটে বিশেষ ট্রেন চালুর ব্যবস্থা করেছে। নেতাকর্মীদের পাশাপাশি অসংখ্য সাধারণ মানুষও কেবল তাদের প্রিয় নেতাকে এক পলক দেখার জন্য ব্যক্তিগত উদ্যোগে ঢাকায় ভিড় জমাচ্ছেন। ২৫ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর তারেক রহমানকে রাজকীয় সংবর্ধনা দেবে বিএনপি।
বিমানবন্দরের আনুষ্ঠানিকতা শেষে তিনি সরাসরি রাজধানীর ৩০০ ফিট এলাকায় তৈরি করা বিশাল গণসংবর্ধনা মঞ্চে উপস্থিত হবেন। সেখানে সমবেত লাখো জনতার উদ্দেশে তিনি সংক্ষিপ্ত শুভেচ্ছা বক্তব্য দেবেন। এরপর তিনি সরাসরি এভারকেয়ার হাসপাতালে যাবেন, যেখানে তার মা ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া চিকিৎসাধীন রয়েছেন। দীর্ঘ সময় পর মা ও ছেলের এই পুনর্মিলনী এক আবেগঘন পরিবেশ তৈরি করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
তারেক রহমানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার ও দল উভয় পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা হয়েছে। বিমানবন্দর থেকে গুলশান পর্যন্ত কয়েক হাজার পুলিশ সদস্য মোতায়েন থাকবে। ডিএমপির সোয়াট টিম, বম্ব ডিসপোজাল ইউনিট এবং ডগ স্কোয়াড সার্বক্ষণিক তদারকিতে থাকবে। এছাড়া বিএনপি’র নিজস্ব নিরাপত্তা বাহিনী ‘চেয়ারপারসন সিকিউরিটি ফোর্স’ (সিএসএফ)-এর নেতৃত্বে কয়েক স্তরের নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয়েছে।
ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামছুল ইসলামকে এই নিরাপত্তা কার্যক্রমের প্রধান সমন্বয়কারী হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তারেক রহমানের সঙ্গে একই বিমানে ফিরছেন তার সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান এবং কন্যা জাইমা জারনাজ রহমান। এছাড়া তার সফরসঙ্গী হিসেবে রয়েছেন মিডিয়া টিমের প্রধান আবু আবদুল্লাহ সালেহ, ব্যক্তিগত সহকারী আব্দুর রহমান সানি এবং তাবাসসুম ফারহানা। তারেক রহমান ইতোমধ্যে ট্রাভেল পাস পেয়েছেন এবং বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বিজি ২০২০ ফ্লাইটে তার আসন সংরক্ষিত রয়েছে।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, আগামী ২৭ ডিসেম্বর তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত করবেন বলে জানা গেছে। বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, “এটি কেবল একজন রাজনৈতিক নেতার ফেরা নয়, এটি গণতন্ত্রের পুনর্জন্মের মাহেন্দ্রক্ষণ। দীর্ঘ ১৭ বছরের জুলুম-নির্যাতন শেষে দেশের মানুষ তাদের প্রিয় নেতাকে বরণ করে নিতে উন্মুখ হয়ে আছে।” তিনি নেতাকর্মীদের শান্তি ও শৃঙ্খলা বজায় রেখে রাস্তার দুই পাশে দাঁড়িয়ে প্রিয় নেতাকে শুভেচ্ছা জানানোর আহ্বান জানিয়েছেন।