শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ফায়ার সার্ভিসের ছয়টি ইউনিট ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে আগুন নেভাতে প্রাণপণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। আগুনের তীব্রতা এবং ঘন কালো ধোঁয়ায় পুরো এলাকা আচ্ছন্ন হয়ে পড়ায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী ও ফায়ার সার্ভিস বিভাগের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে কোনাবাড়ী থানার অন্তর্গত দেওলিয়াবাড়ী এলাকার ওই গুদামটিতে আগুনের সূত্রপাত হয়। গুদামটিতে বিপুল পরিমাণ তৈরি পোশাক কারখানার পরিত্যক্ত ঝুট, শুকনো তুলা ও অন্যান্য দাহ্য পদার্থ মজুদ ছিল।
ফলে আগুনের স্ফুলিঙ্গ দেখা দেওয়ার অল্প সময়ের মধ্যেই তা ভয়াবহ রূপ ধারণ করে এবং দ্রুতগতিতে পুরো গুদামে ছড়িয়ে পড়ে। বাতাসের তীব্রতা বেশি থাকায় আগুন নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার উপক্রম হয়। অগ্নিকাণ্ডের শুরুতে স্থানীয় এলাকাবাসী ও গুদামের শ্রমিকরা বালু ও পানি ছিটিয়ে আগুন নেভানোর প্রাথমিক চেষ্টা চালায়। তবে আগুনের লেলিহান শিখা দ্রুত বাড়তে থাকায় তারা ব্যর্থ হয়ে তাৎক্ষণিকভাবে ফায়ার সার্ভিসে খবর দেন।
খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসে কোনাবাড়ী মডার্ন ফায়ার স্টেশনের অগ্নিনির্বাপক কর্মীরা। তবে আগুনের ব্যাপ্তি বিশাল হওয়ায় পর্যায়ক্রমে সারাবো, কাশিমপুর ও চৌরাস্তা ফায়ার স্টেশন থেকেও একাধিক ইউনিট ঘটনাস্থলে যোগ দেয়। বর্তমানে ফায়ার সার্ভিসের মোট ছয়টি ইউনিট একযোগে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে। ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা এবং আশপাশে অন্যান্য শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও বসতবাড়ি থাকায় আগুন ছড়িয়ে পড়ার প্রবল আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
এই ঝুঁকি এড়াতে দমকল বাহিনীর সদস্যরা আগুনকে একটি নির্দিষ্ট গণ্ডির মধ্যে আটকে রাখার কৌশল অবলম্বন করে কাজ করছেন। গাজীপুর ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ মামুন সংবাদমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে তাদের ছয়টি ইউনিট ঘটনাস্থলে পূর্ণ দমে কাজ করছে। পরিস্থিতির ভয়াবহতা বিবেচনা করে এবং পানির সংকট এড়াতে আরও দুটি ইউনিটকে ‘ব্যাকআপ’ বা সহায়তাকারী দল হিসেবে প্রস্তুত রাখা হয়েছে, যারা প্রয়োজনে উদ্ধারকাজে যোগ দেবে।
তিনি আরও জানান, অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ বা ঠিক কীভাবে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। আগুন পুরোপুরি নেভানোর পর তদন্ত সাপেক্ষে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানা যাবে। সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্যে জানা গেছে, বিকেল ৫টা ৩৫ মিনিট পর্যন্ত আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি। তবে দমকল কর্মীদের বিরামহীন তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।
এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি, তবে গুদামে থাকা বিপুল পরিমাণ মালামাল পুড়ে ছাই হয়ে গেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। গাজীপুরের ঝুট গুদামগুলোতে প্রায়শই এমন অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে, যা স্থানীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে তোলে।