তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি পিএলসি এক জরুরি বার্তায় বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। কর্তৃপক্ষ জানায়, লিকেজটি এতটাই তীব্র ছিল যে, নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে উত্তরার ১২ ইঞ্চি ব্যাসের প্রধান বিতরণ লাইনটি সম্পূর্ণ শাটডাউন বা বন্ধ রাখা জরুরি হয়ে পড়েছিল। বর্তমানে তিতাসের কারিগরি দল ক্ষতিগ্রস্ত ভালভটি প্রতিস্থাপন এবং দ্রুততম সময়ে লাইনটি সচল করার লক্ষ্যে জোর তৎপরতা চালাচ্ছে। তবে কখন নাগাদ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা এখনও জানানো হয়নি।
এটি সাম্প্রতিক সময়ে ঢাকার গ্যাস অবকাঠামোতে আঘাত হানা তৃতীয় বড় ঘটনা। এর আগে গত ১০ জানুয়ারি মিরপুর রোডেও একইভাবে গ্যাসের ভালভ ফেটে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছিল। তার কিছুদিন আগেই আমিনবাজারে তুরাগ নদের তলদেশ দিয়ে যাওয়া মূল গ্যাস পাইপলাইনটি একটি মালবাহী ট্রলারের নোঙরের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়, যার রেশ এখনও পুরোপুরি কাটেনি। একের পর এক এমন যান্ত্রিক ত্রুটি ও দুর্ঘটনা রাজধানীর জ্বালানি নিরাপত্তা এবং পাইপলাইন রক্ষণাবেক্ষণের মান নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন তুলেছে।
এদিকে, পাইপলাইনের গ্যাসের ওপর নির্ভরশীল নগরবাসী যখন রান্নার কাজ চালাতে হিমশিম খাচ্ছেন, তখন বিকল্প জ্বালানি হিসেবে সিলিন্ডার গ্যাস বা এলপিজির (LPG) বাজারেও চলছে চরম অরাজকতা। আন্তর্জাতিক বাজার থেকে আমদানি কমে যাওয়ায় গত ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহ থেকেই দেশে এলপিজির তীব্র সংকট চলছে। এই সুযোগে এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী কৃত্রিম সংকট তৈরি করে ফায়দা লুটছেন।
সাধারণ মানুষকে ১২ কেজির এক একটি সিলিন্ডার কেনার জন্য নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ অর্থ গুনতে হচ্ছে। পাড়া-মহল্লায় হন্যে হয়ে ঘুরেও গ্যাস না পেয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন ভুক্তভোগীরা। তীব্র শীতের মধ্যে জ্বালানির এই দ্বিমুখী সংকটে জনজীবন কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে, যা দ্রুত সমাধানের দাবি জানিয়েছেন নগরবাসী।