শনিবার, জুলাই ১৮, ২০২৬
৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কোর্স ফি কমানো ও প্রতিনিধি প্রথা বাতিলের দাবিতে মধ্যরাতে উত্তাল খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস

আর এন এস ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৪ জানুয়ারী, ২০২৬, ১১:৫৫ এএম

কোর্স ফি কমানো ও প্রতিনিধি প্রথা বাতিলের দাবিতে মধ্যরাতে উত্তাল খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস
ছবি: সংগৃহীত

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসন ও শিক্ষা কার্যক্রম সংক্রান্ত তিনটি সুনির্দিষ্ট দাবি আদায়ের লক্ষ্যে গভীর রাতে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। কোর্স নিবন্ধন ফি কমানো, নিবন্ধনের সময়সীমা বৃদ্ধি এবং বিতর্কিত ছাত্র প্রতিনিধি প্রথা বাতিলের দাবিতে মঙ্গলবার দিবাগত রাতে ক্যাম্পাসে এই আন্দোলন দানা বেঁধে ওঠে। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ এবং প্রশাসনের ব্যাখ্যার মধ্যে সৃষ্ট ধোঁয়াশায় বিশ্ববিদ্যালয় অঙ্গনে তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে।

 

মঙ্গলবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের হাদি চত্বরে সমবেত হয়ে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ শুরু করেন। পরবর্তীতে একটি বিশাল মিছিল নিয়ে তারা বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিন, খান বাহাদুর আহছানউল্লা এবং খান জাহান আলী হল প্রদক্ষিণ করেন। মিছিলটি শেষ পর্যন্ত উপাচার্যের বাসভবনের সামনে গিয়ে অবস্থান নেয় এবং সেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের দাবির পক্ষে বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন। শিক্ষার্থীদের মূল দাবিগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো, বর্ধিত কোর্স নিবন্ধন ফি প্রত্যাহার করে তা শিক্ষার্থীদের সাধ্যের মধ্যে নিয়ে আসা।

 

তাদের মতে, বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে অতিরিক্ত ফি অনেক শিক্ষার্থীর জন্যই মানসিক ও আর্থিক চাপের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। পাশাপাশি, অত্যন্ত স্বল্প সময়ের মধ্যে নিবন্ধন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার বাধ্যবাধকতা শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি হলো তথাকথিত 'ছাত্র প্রতিনিধি' ব্যবস্থার বিলোপ সাধন। আন্দোলনকারীরা অভিযোগ করেছেন, সাধারণ শিক্ষার্থীদের মতামতকে উপেক্ষা করে প্রশাসন নিজেদের এজেন্ডা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে এই প্রতিনিধি প্রথা চালু রাখতে চাইছে।

 

রেজওয়ানুল হক রাদ ও তানভীর কবির নামের দুই শিক্ষার্থী জানান, কোনো প্রকার আলোচনা ছাড়াই নিবন্ধন ফি বৃদ্ধি করা হয়েছে, যা অত্যন্ত অযৌক্তিক। তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেন যে, শিক্ষার্থী প্রতিনিধির নামে ক্যাম্পাসে পুনরায় নোংরা রাজনীতির অনুপ্রবেশ ঘটতে পারে এবং শিক্ষকদের স্বার্থান্বেষী মহল এর সুযোগ নিতে পারে। তাই স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় সিদ্ধান্ত গ্রহণের দাবি জানিয়ে তারা বলেন, ডিসিপ্লিন বা শৃঙ্খলা প্রতিনিধি নামক রাজনৈতিক পদটি অবিলম্বে বিলুপ্ত করতে হবে। অন্যথায় কঠোর কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হবে।

 

শিক্ষার্থীদের আল্টিমেটাম অনুযায়ী, মাত্র এক কর্মদিবসের মধ্যে ফি পূর্বের অবস্থায় ফিরিয়ে আনা এবং নিবন্ধনের সময়সীমা বাড়ানোর দাবি জানানো হয়েছে। অন্যদিকে, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন শিক্ষার্থীদের অভিযোগের বিষয়ে ভিন্ন মত পোষণ করেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) প্রফেসর ড. এস. এম. মাহবুবুর রহমান স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো নিবন্ধন ফি বৃদ্ধি করা হয়নি।

 

এ বিষয়ে উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. হারুনর রশীদ খান বলেন, প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণে হয়তো শিক্ষার্থীদের পোর্টালে ফির অংক বেশি দেখাতে পারে, কিন্তু প্রশাসন ফি বাড়ানোর কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেনি। প্রশাসনের এই আশ্বাসের পরেও শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ প্রশমিত হয়নি। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তারা আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার হুশিয়ারি দিয়েছেন। গভীর রাতে উপাচার্যের বাসভবনের সামনে শিক্ষার্থীদের এই অবস্থান কর্মসূচি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক কার্যক্রমে অচলাবস্থার ইঙ্গিত দিচ্ছে।