শিক্ষার্থীদের দাবি আদায়ের এই কঠোর অবস্থানে কার্যত জিম্মি হয়ে পড়েছে রাজধানীর বিশাল এক জনগষ্ঠী। প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ অনুযায়ী, দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ঢাকা কলেজ ক্যাম্পাস থেকে কয়েক হাজার শিক্ষার্থীর একটি বিশাল মিছিল সায়েন্স ল্যাব মোড়ে অবস্থান নেয়। মুহূর্তের মধ্যেই মিরপুর সড়কসহ আশপাশের সব রুটে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়।
একই সময়ে মিরপুর টেকনিক্যাল মোড়ে সরকারি বাঙলা কলেজের শিক্ষার্থীরা অবস্থান নেওয়ায় গাবতলী থেকে আজিমপুর পর্যন্ত সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। গণপরিবহন থমকে যাওয়ায় নারী, শিশু ও বয়োজ্যেষ্ঠ নাগরিকদের মাইলের পর মাইল পায়ে হেঁটে গন্তব্যে পৌঁছাতে দেখা গেছে, যা এক মানবিক বিপর্যয়ের চিত্র তুলে ধরে।
ঘন্টার পর ঘন্টা জ্যামে আটকে থাকা মানুষের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা ছড়িয়ে পড়েছে। সাভার থেকে গুলিস্তানগামী এক যাত্রী পরিস্থিতির ভয়াবহতা বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন, “যার যেখানে খুশি রাস্তা আটকে দিচ্ছে, সাধারণ মানুষের জীবন অতিষ্ঠ হয়ে গেছে। দেখার যেন কেউ নেই। সরকারের কাছে অনুরোধ, দ্রুত এই ভোগান্তি নিরসনে ব্যবস্থা নিন।” তবে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা সাধারণ মানুষের এই ভোগান্তির জন্য দুঃখ প্রকাশ করলেও দাবি আদায়ে অনড় অবস্থানে রয়েছেন।
‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’ এবং ‘রাষ্ট্র তোমার সময় শেষ, জারি করো অধ্যাদেশ’ স্লোগানে মুখরিত এলাকা। আন্দোলনে অংশ নেওয়া কবি নজরুল সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী শাহরিয়ার হাসান বলেন, “আমাদের দাবি অত্যন্ত স্পষ্ট। আমরা আর কোনো কালক্ষেপণ মেনে নেব না। অনতিবিলম্বে অধ্যাদেশ জারি না হওয়া পর্যন্ত রাজপথ ছাড়ার কোনো পরিকল্পনা আমাদের নেই।”
সাত কলেজের এই সংকট নিরসনে ২০১৭ সাল থেকেই বিভিন্ন প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হলেও শিক্ষার্থীরা পূর্ণাঙ্গ স্বায়ত্তশাসিত বিশ্ববিদ্যালয়ের দাবিতে অটল। শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রস্তাবিত বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাদেশের একটি পরিমার্জিত খসড়া গত মঙ্গলবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। নতুন এই প্রস্তাবে কলেজগুলোর নিজস্ব বৈশিষ্ট্য বজায় রেখে একটি কেন্দ্রীয় কাঠামোর সঙ্গে সংযুক্ত থাকার কথা বলা হয়েছে, যা অনেকটা জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের আদলে।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সম্মতি ও আইনি যাচাই-বাছাই শেষে এটি উপদেষ্টা পরিষদে ওঠার কথা রয়েছে। তবে শিক্ষার্থীরা এই দীর্ঘমেয়াদী প্রক্রিয়ার পরিবর্তে দ্রুততম সময়ের মধ্যে আনুষ্ঠানিক অধ্যাদেশ জারির দাবি জানাচ্ছেন। সরকার এবং আন্দোলনকারীদের এই বিপরীতমুখী অবস্থানের কারণে জনদুর্ভোগ সহসা কমছে না বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকরা।